চট্টগ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এক ভার্চুয়াল সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এক তরুণের প্রশ্ন ঘিরে মুহূর্তেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তারেক রহমান লন্ডন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছিলেন। কিন্তু বক্তব্যের এক পর্যায়ে আকস্মিকভাবে এক তরুণ প্রশ্ন করলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও অতিথিদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন সভার শেষ দিকে প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য মাইক উন্মুক্ত করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই তরুণ নিজের পরিচয় দিয়ে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে একটি প্রশ্ন করেন, যা উপস্থিত অনেককেই হতবাক করে তোলে। তার প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই মঞ্চে উপস্থিত স্থানীয় কয়েকজন নেতা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তরুণের মাইক বন্ধ করে দেন।
এ সময় সভাস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে মৃদু গুঞ্জন ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ তরুণের পক্ষ নিলেও, অধিকাংশ নেতাকর্মী এমন অপ্রত্যাশিত প্রশ্নে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত ওই তরুণকে মঞ্চের কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই সভায় উপস্থিত জ্যেষ্ঠ নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তারা বলেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত বা অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করার কোনো সুযোগ নেই। তবে তারেক রহমান তার ভার্চুয়াল সংযোগ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।
পরে দলের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। দলের অভ্যন্তরে যেকোনো প্রশ্ন বা আলোচনা করার জন্য নির্দিষ্ট ফোরাম রয়েছে এবং সেখানে গঠনমূলক সমালোচনা সবসময়ই স্বাগত জানানো হয়। তবে জনসম্মুখে এমনভাবে প্রশ্ন উত্থাপন দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
এই ঘটনাকে ঘিরে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক মহলে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তরুণের সাহসিকতার প্রশংসা করছেন, আবার অনেকে এটিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। এই প্রশ্নটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
রিপোর্টারের নাম 






















