বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১১ জন ভারতীয় প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা আকস্মিকভাবে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। গত সোমবার রাতে বা মঙ্গলবার ভোরের দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। তাদের অনুপস্থিতির কারণে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই মেগা প্রকল্পের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল) কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে এবং তাদের কর্মস্থল ত্যাগের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার নিয়মিত ডিউটিতে অনুপস্থিত থাকার পর কর্মকর্তাদের খোঁজ শুরু হয়। এরপর তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং আবাসস্থলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। এগারোজন কর্মকর্তা কারিগরি ও উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। তাদের আকস্মিক প্রস্থান প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
বিআইএফপিসিএল-এর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা ঘটনাটি জানার পরই অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত শুরু করেছি। প্রাথমিকভাবে তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সফল হওয়া যায়নি। এটি একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা এবং আমরা এর কারণ উদঘাটনে সচেষ্ট।” তিনি আরও বলেন, “প্রকল্পের কাজ যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, সেজন্য আমরা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছি।”
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিআইএফপিসিএল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তাদের অবহিত করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, “আমরা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত। বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে।
কর্মকর্তাদের আকস্মিক কর্মস্থল ত্যাগের পেছনে বেতন-ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা, চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ সংক্রান্ত সমস্যা, ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া, অথবা ব্যক্তিগত কোনো কারণ থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে আরও সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এই প্রকল্পের দুটি ইউনিটের মধ্যে একটি ইতোমধ্যেই উৎপাদনে রয়েছে এবং অপরটি নির্মাণাধীন। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞদের আকস্মিক অনুপস্থিতি প্রকল্পের গতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে প্রকল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা সম্ভব হবে।
রিপোর্টারের নাম 






















