ঢাকা ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

শব্দদূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান: বিমানবন্দরের নীরব এলাকা বাস্তবায়ন জরুরি

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বাংলাদেশে শব্দদূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন এবং এর নিরসনে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “হর্ন বাজানো আমাদের বন্ধ করতেই হবে।” বিমানবন্দর এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় মাত্রাতিরিক্ত হর্নের শব্দ বিদেশীদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এমন যথেচ্ছ হর্ন বাজানোর প্রবণতা দেখা যায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এই প্রেক্ষাপটে, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে বিমানবন্দর এলাকায় হর্ন বাজানো বন্ধে উদ্যোগী হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, পরিবেশ অধিদপ্তরের মাত্র ছয়জন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে সারা দেশে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা কতটা ফলপ্রসূ হতে পারে। তবে, তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সকলের ব্যক্তিগত অভ্যাসের পরিবর্তন এবং সচেতনতাই পারে এই ভয়াবহ শব্দদূষণ থেকে মুক্তি দিতে।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২ ভবনের সম্মুখস্থ গোল চত্ত্বরে “নীরব এলাকা বাস্তবায়ন” শীর্ষক এক সমন্বিত অভিযান ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), সিভিল এভিয়েশন অথরিটি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই সমাবেশ আয়োজিত হয়।

সমন্বিত অভিযানের অংশ হিসেবে আয়োজিত সমাবেশে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জানান, “শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫” অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশকে তাৎক্ষণিক জরিমানা করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পুলিশ তাদের উপর অর্পিত এই দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করবে। একই সঙ্গে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

উক্ত অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, সিভিল এভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ এজাজ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মোঃ সরওয়ার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

এছাড়াও, অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ কামরুজ্জামান এনডিসি, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ আনিছুর রহমান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদসহ পাঁচটি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিভিল এভিয়েশন, ডিএমপি, ডিএনসিসি এবং বিআরটিএ-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রসিকিউটরদের সমন্বয়ে গঠিত ভ্রাম্যমাণ আদালত বিমানবন্দরের ঘোষিত নীরব এলাকার পাঁচটি পয়েন্টে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। ডিএমপির শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা এই কার্যক্রমে অংশ নিয়ে শব্দদূষণ সৃষ্টিকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে জরিমানা আদায় করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, শব্দদূষণের বিরুদ্ধে এই সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারাগঞ্জে পাচারকালে ৪০০ লিটার পেট্রোল জব্দ, আটক ১

শব্দদূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান: বিমানবন্দরের নীরব এলাকা বাস্তবায়ন জরুরি

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বাংলাদেশে শব্দদূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন এবং এর নিরসনে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “হর্ন বাজানো আমাদের বন্ধ করতেই হবে।” বিমানবন্দর এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় মাত্রাতিরিক্ত হর্নের শব্দ বিদেশীদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এমন যথেচ্ছ হর্ন বাজানোর প্রবণতা দেখা যায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এই প্রেক্ষাপটে, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে বিমানবন্দর এলাকায় হর্ন বাজানো বন্ধে উদ্যোগী হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, পরিবেশ অধিদপ্তরের মাত্র ছয়জন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে সারা দেশে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা কতটা ফলপ্রসূ হতে পারে। তবে, তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সকলের ব্যক্তিগত অভ্যাসের পরিবর্তন এবং সচেতনতাই পারে এই ভয়াবহ শব্দদূষণ থেকে মুক্তি দিতে।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২ ভবনের সম্মুখস্থ গোল চত্ত্বরে “নীরব এলাকা বাস্তবায়ন” শীর্ষক এক সমন্বিত অভিযান ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), সিভিল এভিয়েশন অথরিটি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই সমাবেশ আয়োজিত হয়।

সমন্বিত অভিযানের অংশ হিসেবে আয়োজিত সমাবেশে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জানান, “শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫” অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশকে তাৎক্ষণিক জরিমানা করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পুলিশ তাদের উপর অর্পিত এই দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করবে। একই সঙ্গে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

উক্ত অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, সিভিল এভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ এজাজ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মোঃ সরওয়ার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

এছাড়াও, অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ কামরুজ্জামান এনডিসি, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ আনিছুর রহমান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদসহ পাঁচটি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিভিল এভিয়েশন, ডিএমপি, ডিএনসিসি এবং বিআরটিএ-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রসিকিউটরদের সমন্বয়ে গঠিত ভ্রাম্যমাণ আদালত বিমানবন্দরের ঘোষিত নীরব এলাকার পাঁচটি পয়েন্টে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। ডিএমপির শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা এই কার্যক্রমে অংশ নিয়ে শব্দদূষণ সৃষ্টিকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে জরিমানা আদায় করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, শব্দদূষণের বিরুদ্ধে এই সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।