ঢাকা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত র‍্যাব কর্মকর্তার দাফন সম্পন্ন, ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গহিন পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল ছলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় নিহত র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) আব্দুল মোতালেবের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কালীরবাজার ইউনিয়নের অলিপুর ভূঁইয়া বাড়ি ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। এ সময় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন, যা পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ তৈরি করে। গত ১৯ জানুয়ারি এই হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

মঙ্গলবার রাত ৯টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে রাত সাড়ে আটটায় ডিএডি আব্দুল মোতালেবের মরদেহ এলাকায় পৌঁছলে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। শেষ বিদায় জানাতে সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন।

আব্দুল মোতালেব কুমিল্লা সদর উপজেলার কালীরবাজার ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের সন্তান। মৃত আব্দুল খালেক ভূঁইয়ার আট ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। তার ছেলে শাকিব এবং দুই মেয়ে শারমিন ও মুনতাহা সবাই ঢাকায় লেখাপড়া করে। স্বামীর মৃত্যুতে তার স্ত্রী শামসুন্নাহার বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

নিহত মোতালেবের ভাই জাকির হোসেন ভূঁইয়া জানান, মোতালেব লেখাপড়া শেষ করে প্রথমে বিজিবিতে যোগ দেন এবং গত দুই বছর ধরে র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন। গত শনিবারই তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন। তার মেয়ে তাকে কাজে যেতে বারণ করলেও তিনি শোনেননি। জাকির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গতকাল অভিযানে যাওয়ার পর সন্ত্রাসীদের হামলায় সে শহীদ হয়েছে। একজন সামরিক কর্মকর্তারও নিরাপত্তা নেই। সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, যারা হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো মায়ের মুখ যেন খালি না হয়, কোনো মেয়ে যেন তার বাবাকে না হারায়, স্ত্রী যেন স্বামীহারা না হয়, সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করছি।”

মেজোভাই মজিবুর রহমান বলেন, “আমার ভাই অনেক ভালো মানুষ ছিল। সে সরকারি চাকরি করলেও সমাজের মানুষের সঙ্গে মিশে সামাজিক কাজ করতো। ছোট ভাইকে হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। তার ছেলেমেয়েরা এতিম হয়ে গেছে।”

গত ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গহিন পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল ছলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাবের ডিএডি আব্দুল মোতালেব শহীদ হন। এই ঘটনায় একজন সোর্সসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, জঙ্গল ছলিমপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের অনুসারীরাই এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে। বর্তমানে সন্ত্রাসীদের ধরতে ছিন্নমূল, আলীনগর ও লিংক রোড এলাকায় বিপুলসংখ্যক র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া জঙ্গল ছলিমপুরের ভেতরে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত র‍্যাব কর্মকর্তার দাফন সম্পন্ন, ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

আপডেট সময় : ১০:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গহিন পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল ছলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় নিহত র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) আব্দুল মোতালেবের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কালীরবাজার ইউনিয়নের অলিপুর ভূঁইয়া বাড়ি ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। এ সময় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন, যা পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ তৈরি করে। গত ১৯ জানুয়ারি এই হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

মঙ্গলবার রাত ৯টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে রাত সাড়ে আটটায় ডিএডি আব্দুল মোতালেবের মরদেহ এলাকায় পৌঁছলে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। শেষ বিদায় জানাতে সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন।

আব্দুল মোতালেব কুমিল্লা সদর উপজেলার কালীরবাজার ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের সন্তান। মৃত আব্দুল খালেক ভূঁইয়ার আট ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। তার ছেলে শাকিব এবং দুই মেয়ে শারমিন ও মুনতাহা সবাই ঢাকায় লেখাপড়া করে। স্বামীর মৃত্যুতে তার স্ত্রী শামসুন্নাহার বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

নিহত মোতালেবের ভাই জাকির হোসেন ভূঁইয়া জানান, মোতালেব লেখাপড়া শেষ করে প্রথমে বিজিবিতে যোগ দেন এবং গত দুই বছর ধরে র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন। গত শনিবারই তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন। তার মেয়ে তাকে কাজে যেতে বারণ করলেও তিনি শোনেননি। জাকির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গতকাল অভিযানে যাওয়ার পর সন্ত্রাসীদের হামলায় সে শহীদ হয়েছে। একজন সামরিক কর্মকর্তারও নিরাপত্তা নেই। সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, যারা হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো মায়ের মুখ যেন খালি না হয়, কোনো মেয়ে যেন তার বাবাকে না হারায়, স্ত্রী যেন স্বামীহারা না হয়, সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করছি।”

মেজোভাই মজিবুর রহমান বলেন, “আমার ভাই অনেক ভালো মানুষ ছিল। সে সরকারি চাকরি করলেও সমাজের মানুষের সঙ্গে মিশে সামাজিক কাজ করতো। ছোট ভাইকে হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। তার ছেলেমেয়েরা এতিম হয়ে গেছে।”

গত ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গহিন পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল ছলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাবের ডিএডি আব্দুল মোতালেব শহীদ হন। এই ঘটনায় একজন সোর্সসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, জঙ্গল ছলিমপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের অনুসারীরাই এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে। বর্তমানে সন্ত্রাসীদের ধরতে ছিন্নমূল, আলীনগর ও লিংক রোড এলাকায় বিপুলসংখ্যক র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া জঙ্গল ছলিমপুরের ভেতরে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।