ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে: র‍্যাব মহাপরিচালক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অবস্থিত সন্ত্রাসীদের আস্তানাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এর মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, শীঘ্রই একটি যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করবে এবং এর জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এই সমন্বিত অভিযানে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), পুলিশ, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থা অংশ নেবে। একটি বড় পরিসরে সফল অভিযান পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য থাকবে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, সরকারি খাস জমি উদ্ধার এবং সম্প্রতি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত র‍্যাব সদস্য আব্দুল মোতালেবের হত্যার বিচার নিশ্চিত করা।

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় র‍্যাব কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত র‍্যাব সদস্য আব্দুল মোতালেবের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে র‍্যাব মহাপরিচালক এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত সোমবার বিকেলে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় আমাদের সদস্য আব্দুল মোতালেব শহীদ হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জঙ্গল সলিমপুরে আমাদের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। আমরা যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলা করে সেখানে অভিযান পরিচালনা করব। এ ঘটনায় নিজেদের ভুলগুলো চিহ্নিত করে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আরও বড় পরিসরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, এপিবিএন, জেলা প্রশাসনসহ অন্যান্য বাহিনী ও সংস্থার সমন্বয়ে আরও সফলভাবে যৌথ অভিযান শুরু করব। এই অভিযানে সরকারি জমি উদ্ধার এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হবে।

মহাপরিচালক স্পষ্ট ঘোষণা দেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নজর রাখা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীদের এই আস্তানা আমরা সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেব। এই ঘটনার তদন্তের জন্য র‍্যাব একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিহত আব্দুল মোতালেবের পরিবারকে র‍্যাব সব ধরনের সহায়তা প্রদান করছে।

এর আগে, মঙ্গলবার সকালে নিহত র‍্যাব সদস্য আব্দুল মোতালেবের মরদেহ সিএমএইচ থেকে চমেক হাসপাতালের মর্গে আনা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পতেঙ্গা র‍্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় র‍্যাব ডিজি এ কে এম শহিদুর রহমান, র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ, সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে আনুষ্ঠানিকতা শেষে আব্দুল মোতালেবের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার অলিপুর গ্রামে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকেলে র‍্যাবের একটি ১৬ সদস্যের দল সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করতে যায়। এসময় সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় র‍্যাব সদস্য আব্দুল মোতালেব নিহত হন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সোমবার রাতভর জঙ্গল সলিমপুরে অবস্থান করলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কোনো সন্ত্রাসীও গ্রেপ্তার হয়নি। উল্টো মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অনুসারীরা সাংবাদিকদের কাছে র‍্যাবের অভিযানকে ‘হামলা’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা মানববন্ধন করার হুমকি দেয়।

সীতাকুণ্ড থানাধীন ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সোহেল রানা জানান, সোমবার বিকেলে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে উদ্ধার করেন এবং চারটি পিস্তল উদ্ধার করেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার সূত্রপাত একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় থেকে হলেও মূল ঘটনাটি ঘটেছে আলীনগরের একটি দোকানে। বর্তমানে এলাকাটি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সীতাকুণ্ড থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি বলেন, আইনানুগ প্রক্রিয়াগুলো সময়সাপেক্ষ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে: র‍্যাব মহাপরিচালক

আপডেট সময় : ০৯:১৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অবস্থিত সন্ত্রাসীদের আস্তানাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এর মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, শীঘ্রই একটি যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করবে এবং এর জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এই সমন্বিত অভিযানে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), পুলিশ, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থা অংশ নেবে। একটি বড় পরিসরে সফল অভিযান পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য থাকবে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, সরকারি খাস জমি উদ্ধার এবং সম্প্রতি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত র‍্যাব সদস্য আব্দুল মোতালেবের হত্যার বিচার নিশ্চিত করা।

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় র‍্যাব কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত র‍্যাব সদস্য আব্দুল মোতালেবের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে র‍্যাব মহাপরিচালক এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত সোমবার বিকেলে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় আমাদের সদস্য আব্দুল মোতালেব শহীদ হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জঙ্গল সলিমপুরে আমাদের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। আমরা যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলা করে সেখানে অভিযান পরিচালনা করব। এ ঘটনায় নিজেদের ভুলগুলো চিহ্নিত করে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আরও বড় পরিসরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, এপিবিএন, জেলা প্রশাসনসহ অন্যান্য বাহিনী ও সংস্থার সমন্বয়ে আরও সফলভাবে যৌথ অভিযান শুরু করব। এই অভিযানে সরকারি জমি উদ্ধার এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হবে।

মহাপরিচালক স্পষ্ট ঘোষণা দেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নজর রাখা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীদের এই আস্তানা আমরা সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেব। এই ঘটনার তদন্তের জন্য র‍্যাব একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিহত আব্দুল মোতালেবের পরিবারকে র‍্যাব সব ধরনের সহায়তা প্রদান করছে।

এর আগে, মঙ্গলবার সকালে নিহত র‍্যাব সদস্য আব্দুল মোতালেবের মরদেহ সিএমএইচ থেকে চমেক হাসপাতালের মর্গে আনা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পতেঙ্গা র‍্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় র‍্যাব ডিজি এ কে এম শহিদুর রহমান, র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ, সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে আনুষ্ঠানিকতা শেষে আব্দুল মোতালেবের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার অলিপুর গ্রামে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকেলে র‍্যাবের একটি ১৬ সদস্যের দল সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করতে যায়। এসময় সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় র‍্যাব সদস্য আব্দুল মোতালেব নিহত হন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সোমবার রাতভর জঙ্গল সলিমপুরে অবস্থান করলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কোনো সন্ত্রাসীও গ্রেপ্তার হয়নি। উল্টো মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অনুসারীরা সাংবাদিকদের কাছে র‍্যাবের অভিযানকে ‘হামলা’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা মানববন্ধন করার হুমকি দেয়।

সীতাকুণ্ড থানাধীন ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সোহেল রানা জানান, সোমবার বিকেলে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে উদ্ধার করেন এবং চারটি পিস্তল উদ্ধার করেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার সূত্রপাত একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় থেকে হলেও মূল ঘটনাটি ঘটেছে আলীনগরের একটি দোকানে। বর্তমানে এলাকাটি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সীতাকুণ্ড থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি বলেন, আইনানুগ প্রক্রিয়াগুলো সময়সাপেক্ষ।