ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার: আশুলিয়ায় গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনা নিয়ে যুক্তিতর্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক চলছে। ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেনের পক্ষে তার আইনজীবী মিরাজুল আলম মঙ্গলবার ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে শুনানির শুরুতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মিরাজুল আলম বলেন, তার মক্কেল আরাফাতের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না এবং তিনি কাউকে হত্যা করেননি। তিনি আরও দাবি করেন, ‘৫ আগস্ট সারাদেশের থানাগুলোতে অ্যাটাক হয়েছিল, দ্যাট ইজ দ্য সিস্টেমেটিক অ্যাটাক।’ এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানতে চান, তিনি জুলাই আন্দোলনকে চ্যালেঞ্জ করছেন কিনা।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলামের এই প্রশ্নের উত্তরে মিরাজুল আলম বলেন, তিনি নিজেও একজন ‘জুলাইযোদ্ধা’ এবং আন্দোলনে ধানমন্ডিতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে ট্রাইব্যুনাল তাকে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা না বলে আইনি যুক্তিতর্কে মনোনিবেশ করার নির্দেশ দেয়। এরপর তিনি পুনরায় তার মক্কেলের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে গুলিতে ছয়জন আন্দোলনকারী নিহত হন। এদের মধ্যে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং একজন গুরুতর আহত হন। পরে জীবিত ও মৃতদের একটি ভ্যানে এবং পুলিশের গাড়িতে করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনায় নিহতরা হলেন- সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি ও আবুল হোসেন।

এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার। প্রসিকিউশন এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে এবং এখন চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসা শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদল নেতা

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার: আশুলিয়ায় গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনা নিয়ে যুক্তিতর্ক

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক চলছে। ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেনের পক্ষে তার আইনজীবী মিরাজুল আলম মঙ্গলবার ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে শুনানির শুরুতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মিরাজুল আলম বলেন, তার মক্কেল আরাফাতের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না এবং তিনি কাউকে হত্যা করেননি। তিনি আরও দাবি করেন, ‘৫ আগস্ট সারাদেশের থানাগুলোতে অ্যাটাক হয়েছিল, দ্যাট ইজ দ্য সিস্টেমেটিক অ্যাটাক।’ এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানতে চান, তিনি জুলাই আন্দোলনকে চ্যালেঞ্জ করছেন কিনা।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলামের এই প্রশ্নের উত্তরে মিরাজুল আলম বলেন, তিনি নিজেও একজন ‘জুলাইযোদ্ধা’ এবং আন্দোলনে ধানমন্ডিতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে ট্রাইব্যুনাল তাকে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা না বলে আইনি যুক্তিতর্কে মনোনিবেশ করার নির্দেশ দেয়। এরপর তিনি পুনরায় তার মক্কেলের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে গুলিতে ছয়জন আন্দোলনকারী নিহত হন। এদের মধ্যে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং একজন গুরুতর আহত হন। পরে জীবিত ও মৃতদের একটি ভ্যানে এবং পুলিশের গাড়িতে করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনায় নিহতরা হলেন- সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি ও আবুল হোসেন।

এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার। প্রসিকিউশন এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে এবং এখন চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।