গাইবান্ধায় এক অনুষ্ঠানে শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিলম্বের অভিযোগ তুলে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সোমবার একটি মতবিনিময় সভায় নিহত হাদির সমর্থকরা তার কাছে জবাবদিহি চান এবং বিচারের অগ্রগতি জানতে চেয়ে সরব হন।
‘ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি, অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও গণভোট নিয়ে ভোটারদের সচেতনতা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এই ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত থাকাকালে হাদির সমর্থকরা হত্যার বিচার চেয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং আইনজীবীর কাছে মামলার বর্তমান অবস্থা জানতে চান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আসিফ নজরুল ডায়াসে থাকা মাইক্রোফোনের সামনে থেকে সরে গিয়ে বলেন, “এভাবে তো কথা বলা যাবে না।”
উপস্থিত ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করতে তিনি মঞ্চের সামনে পোস্টার হাতে দাঁড়িয়ে থাকা দুজনকে পরে তার সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলতে আসার আহ্বান জানান। তবে এ সময়ও তাদের চিৎকারের শব্দ শোনা যায়। আসিফ নজরুল পুনরায় মাইক্রোফোনে এসে বলেন, “আপনাদের অনেক ব্যাপারে প্রশ্ন থাকবে যে চার্জশিট এমন কেন হলো, বিচার হচ্ছে না কেন? আসিফ নজরুল স্যারকে আমরা এতো ভালোবাসতাম, উনি কী করছেন? আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য… আপনারা দুজন আমার সাথে আসবেন, আমি আপনাদের সকল প্রশ্নের উত্তর দেব।”
তিনি আরও প্রশ্ন করেন, “আপনারা কি চান যে চার্জশিট গ্রহণ করে ফেলুক, চান কি না চান?” উপস্থিত ব্যক্তিরা এরপরও হাদির বিচারের অগ্রগতি জানতে চেয়ে চিৎকার করতে থাকেন। তখন আইন উপদেষ্টা তাদের কাছে বিচার বিলম্বের কারণ এবং চার্জশিটের বর্তমান পর্যায় সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন।
আসিফ নজরুল বলেন, “ভালো করে বলি শুনুন, একটা বিচার কাজ শুরু হয় চার্জশিট দেওয়ার পর। আপনারা কি চান যে চার্জশিট গ্রহণ করে ফেলুক, এটা চান? চান কিনা বলেন। হ্যাঁ বা না বলেন। চান… এই চার্জশিট করার দায়িত্ব পুলিশের। আপনাদের তো বললাম, যেদিন চার্জশিট গৃহীত হয়ে যাবে, এরপর বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ করা হবে না। প্রতিদিন কোর্ট বসবে।”
তিনি শহীদ হাদির অনুসারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “পুলিশের ব্যাপার দেখার দায়িত্ব যেই মন্ত্রণালয়ের, আপনাদের যে কনসার্ন আছে, আমি কথা দিচ্ছি আপনারা যেভাবে বলেছেন, আপনাদের কনসার্নটা আমি তাদের কাছে পৌঁছে দেবো।”
রিপোর্টারের নাম 















