ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

সাভারে মৃত্যুপুরী পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার: দুই পোড়া মরদেহ উদ্ধার, দুই মাসে ৫ লাশের রহস্য

সাভার পৌরসভা এলাকার একটি পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার থেকে রোববার দুপুরে দুটি পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও একজন শিশু। গত দুই মাসের মধ্যে একই স্থান থেকে এটি পঞ্চম মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। উদ্ধারকৃত মরদেহের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে থানা কম্পাউন্ড থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে অবস্থিত সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে কিছু শিশু-কিশোর ও এক কলেজ ছাত্র লাশ দুটি দেখতে পান। পরে তারা স্থানীয়দের জানালে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাভার কলেজের এক শিক্ষার্থী প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করলে কয়েকটি শিশু-কিশোর তাকে সেখানে পোড়া মরদেহ পড়ে থাকার কথা জানায়। পরে ওই শিক্ষার্থী ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে মরদেহগুলো সম্পূর্ণরূপে দগ্ধ হওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

এই পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারটি যেন মরদেহের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। গত দুই মাসে এটি থেকে মোট ৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হলো। এর আগে, গত বছরের ২৯ আগস্ট রাতে একই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, যার পরিচয় এখনো মেলেনি। এরপর ১১ অক্টোবর রাতে ৩০ বছর বয়সী এক নারীর অর্ধনগ্ন লাশ পাওয়া যায়। গত ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে দ্বিতীয় তলার টয়লেট থেকে উদ্ধার করা হয় এক পুরুষের মরদেহ। এই তিনজনের কারোরই পরিচয় আজও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের নাকের ডগায় এই পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। বারবার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে তাদের অভিযোগ। এই ঘটনায় এলাকার বাসিন্দারা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এবারের উদ্ধারকৃত মরদেহের পরিচয় নিয়েও তাদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সফরে ইবাদত: মুসাফিরের জন্য নামাজ ও রোজার শরয়ী বিধান

সাভারে মৃত্যুপুরী পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার: দুই পোড়া মরদেহ উদ্ধার, দুই মাসে ৫ লাশের রহস্য

আপডেট সময় : ০৬:১৭:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

সাভার পৌরসভা এলাকার একটি পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার থেকে রোববার দুপুরে দুটি পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও একজন শিশু। গত দুই মাসের মধ্যে একই স্থান থেকে এটি পঞ্চম মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। উদ্ধারকৃত মরদেহের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে থানা কম্পাউন্ড থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে অবস্থিত সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে কিছু শিশু-কিশোর ও এক কলেজ ছাত্র লাশ দুটি দেখতে পান। পরে তারা স্থানীয়দের জানালে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাভার কলেজের এক শিক্ষার্থী প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করলে কয়েকটি শিশু-কিশোর তাকে সেখানে পোড়া মরদেহ পড়ে থাকার কথা জানায়। পরে ওই শিক্ষার্থী ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে মরদেহগুলো সম্পূর্ণরূপে দগ্ধ হওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

এই পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারটি যেন মরদেহের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। গত দুই মাসে এটি থেকে মোট ৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হলো। এর আগে, গত বছরের ২৯ আগস্ট রাতে একই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, যার পরিচয় এখনো মেলেনি। এরপর ১১ অক্টোবর রাতে ৩০ বছর বয়সী এক নারীর অর্ধনগ্ন লাশ পাওয়া যায়। গত ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে দ্বিতীয় তলার টয়লেট থেকে উদ্ধার করা হয় এক পুরুষের মরদেহ। এই তিনজনের কারোরই পরিচয় আজও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের নাকের ডগায় এই পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। বারবার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে তাদের অভিযোগ। এই ঘটনায় এলাকার বাসিন্দারা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এবারের উদ্ধারকৃত মরদেহের পরিচয় নিয়েও তাদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।