ঢাকা ০২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

নিরাপত্তার আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার: সোমবার সকাল থেকে কাজে ফিরছেন ওসমানী মেডিকেলের ইন্টার্নরা

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের চলমান কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল প্রশাসনের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পেয়ে আগামীকাল সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে তারা পুনরায় কাজে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রোববার দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দফা বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর আগে একই দিন সকালে প্রথম দফার বৈঠকটি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। তবে দুপুরে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসেন উভয় পক্ষ।

ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান সাদিক জানান, বৈঠকে তারা কর্মস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর সহযোগিতার দাবি জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উত্থাপিত দাবিগুলো পূরণের জোরালো আশ্বাস দেওয়ায় তারা জনস্বার্থে কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে তারা সোমবার সকাল থেকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা প্রদান শুরু করবেন।

এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি ও সংঘর্ষের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের পক্ষ থেকে সহকারী পরিচালক বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৪ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ তুলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের অন্তত চারজন আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ রোগীর তিন স্বজনকে আটক করে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতে শনিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। অবশেষে প্রশাসনের আশ্বাসে সেই অচলাবস্থার অবসান ঘটল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সফরে ইবাদত: মুসাফিরের জন্য নামাজ ও রোজার শরয়ী বিধান

নিরাপত্তার আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার: সোমবার সকাল থেকে কাজে ফিরছেন ওসমানী মেডিকেলের ইন্টার্নরা

আপডেট সময় : ০৫:৫১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের চলমান কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল প্রশাসনের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পেয়ে আগামীকাল সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে তারা পুনরায় কাজে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রোববার দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দফা বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর আগে একই দিন সকালে প্রথম দফার বৈঠকটি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। তবে দুপুরে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসেন উভয় পক্ষ।

ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান সাদিক জানান, বৈঠকে তারা কর্মস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর সহযোগিতার দাবি জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উত্থাপিত দাবিগুলো পূরণের জোরালো আশ্বাস দেওয়ায় তারা জনস্বার্থে কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে তারা সোমবার সকাল থেকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা প্রদান শুরু করবেন।

এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি ও সংঘর্ষের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের পক্ষ থেকে সহকারী পরিচালক বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৪ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ তুলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের অন্তত চারজন আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ রোগীর তিন স্বজনকে আটক করে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতে শনিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। অবশেষে প্রশাসনের আশ্বাসে সেই অচলাবস্থার অবসান ঘটল।