ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে: প্রধান উপদেষ্টা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শতভাগ ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই নিশ্চয়তা দেন। প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করেছেন যে, এই নির্বাচন হবে ঐতিহাসিক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচার ও গুজবকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ইইউ প্রতিনিধি দল এই নির্বাচনকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করে একটি বিশাল পর্যবেক্ষণ দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউইওএম) প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস ইজাবস এবং বাংলাদেশে ইইউ অ্যাম্বাসাডর মাইকেল মিলারের সঙ্গে বৈঠকে ড. ইউনূস নির্বাচনের প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বৈঠকের বিস্তারিত জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ইইউ কোনো পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ দল না পাঠালেও এবার তারা বড় পরিসরে কাজ করবে। ইইউ-র মিশন এখন দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে এবং রাজনৈতিক দলসহ সব অংশীজনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবে।

প্রধান উপদেষ্টা ইইউ প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আগামী নির্বাচন ও গণভোট সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে। এটি হবে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন একটি উৎসব।” নির্বাচনের দিন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শরীরে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ থাকবে এবং এর মাধ্যমে ঢাকা থেকে সরাসরি পরিস্থিতি নজরদারি করার প্রযুক্তিগত অ্যাপ ব্যবহার করা হবে। গণভোটের বিষয়ে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরির কাজ করছে এবং এতে কোনো আইনি বাধা নেই বলে শীর্ষ আইনজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

বৈঠকে পাচারকৃত অর্থ ফেরানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রেস সচিব জানান, টাকা কোন কোন দেশে পাচার হয়েছে তা সরকার শনাক্ত করতে পেরেছে। তবে অর্থ পুনরুদ্ধার একটি সময়সাপেক্ষ বিষয় হওয়ায় পরবর্তী সরকার যেন এই কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে, সেই ভিত্তি তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।

একই দিনে জাপানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী আকি আবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ড. ইউনূস তাকে জানান, নির্বাচনের পর তার প্রধান তিনটি লক্ষ্য হলো—পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য ডিজিটাল হেলথ কেয়ার নিশ্চিত করা, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং তার বিখ্যাত ‘থ্রি জিরো’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ) তত্ত্ব বাস্তবায়ন করা। তিনি আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে জাপান সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন বলেও আকি আবেকে নিশ্চিত করেন।

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান উপদেষ্টার এই নিশ্চয়তা ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি রাশিয়ার; পাল্টা হামলায় উত্তাল কাস্পিয়ান সাগর

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০১:২৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শতভাগ ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই নিশ্চয়তা দেন। প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করেছেন যে, এই নির্বাচন হবে ঐতিহাসিক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচার ও গুজবকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ইইউ প্রতিনিধি দল এই নির্বাচনকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করে একটি বিশাল পর্যবেক্ষণ দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউইওএম) প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস ইজাবস এবং বাংলাদেশে ইইউ অ্যাম্বাসাডর মাইকেল মিলারের সঙ্গে বৈঠকে ড. ইউনূস নির্বাচনের প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বৈঠকের বিস্তারিত জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ইইউ কোনো পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ দল না পাঠালেও এবার তারা বড় পরিসরে কাজ করবে। ইইউ-র মিশন এখন দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে এবং রাজনৈতিক দলসহ সব অংশীজনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবে।

প্রধান উপদেষ্টা ইইউ প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আগামী নির্বাচন ও গণভোট সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে। এটি হবে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন একটি উৎসব।” নির্বাচনের দিন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শরীরে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ থাকবে এবং এর মাধ্যমে ঢাকা থেকে সরাসরি পরিস্থিতি নজরদারি করার প্রযুক্তিগত অ্যাপ ব্যবহার করা হবে। গণভোটের বিষয়ে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরির কাজ করছে এবং এতে কোনো আইনি বাধা নেই বলে শীর্ষ আইনজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

বৈঠকে পাচারকৃত অর্থ ফেরানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রেস সচিব জানান, টাকা কোন কোন দেশে পাচার হয়েছে তা সরকার শনাক্ত করতে পেরেছে। তবে অর্থ পুনরুদ্ধার একটি সময়সাপেক্ষ বিষয় হওয়ায় পরবর্তী সরকার যেন এই কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে, সেই ভিত্তি তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।

একই দিনে জাপানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী আকি আবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ড. ইউনূস তাকে জানান, নির্বাচনের পর তার প্রধান তিনটি লক্ষ্য হলো—পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য ডিজিটাল হেলথ কেয়ার নিশ্চিত করা, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং তার বিখ্যাত ‘থ্রি জিরো’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ) তত্ত্ব বাস্তবায়ন করা। তিনি আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে জাপান সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন বলেও আকি আবেকে নিশ্চিত করেন।

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান উপদেষ্টার এই নিশ্চয়তা ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।