ঢাকা ০৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নোবেল শান্তি পুরস্কার হস্তান্তর বা বাতিলের সুযোগ নেই: নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট

নোবেল শান্তি পুরস্কারের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতিমালা অনুযায়ী, একবার এই পদক ঘোষণা করা হলে তা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর, ভাগাভাগি কিংবা বাতিলের কোনো সুযোগ নেই। ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং এটি সময়ের সঙ্গে অপরিবর্তনীয়। নোবেল ফাউন্ডেশনের সংবিধানেও এই বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করার কথা উল্লেখ রয়েছে। মূলত কোনো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বা ব্যক্তিগত ইচ্ছার ভিত্তিতে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননার মালিকানা পরিবর্তনের কোনো বিধান নেই।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন মারিয়া কোরিনা মাচাদো গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় তার অবদানের জন্য পাওয়া এই পুরস্কারটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তিনি এই পদকটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করতে চান।

উল্লেখ্য যে, গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশেষ অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়। এই ঘটনার পর মাচাদোর এমন প্রস্তাব আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এই প্রস্তাবের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বিষয়টিকে ‘বড় সম্মান’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি পুনরায় জানিয়েছে, নোবেল পুরস্কার কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা ব্যক্তিগত ইচ্ছার ভিত্তিতে পরিবর্তনযোগ্য নয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই পুরস্কারের মর্যাদা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে এই কঠোর নিয়ম পালন করা হয়ে আসছে। ফলে ব্যক্তিগত অনুরোধ বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে নোবেল পদকের স্বত্বাধিকার পরিবর্তনের কোনো অবকাশ নেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুমকির মুখে কিউবার পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় চীনের

নোবেল শান্তি পুরস্কার হস্তান্তর বা বাতিলের সুযোগ নেই: নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট

আপডেট সময় : ১২:২৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নোবেল শান্তি পুরস্কারের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতিমালা অনুযায়ী, একবার এই পদক ঘোষণা করা হলে তা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর, ভাগাভাগি কিংবা বাতিলের কোনো সুযোগ নেই। ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং এটি সময়ের সঙ্গে অপরিবর্তনীয়। নোবেল ফাউন্ডেশনের সংবিধানেও এই বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করার কথা উল্লেখ রয়েছে। মূলত কোনো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বা ব্যক্তিগত ইচ্ছার ভিত্তিতে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননার মালিকানা পরিবর্তনের কোনো বিধান নেই।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন মারিয়া কোরিনা মাচাদো গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় তার অবদানের জন্য পাওয়া এই পুরস্কারটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তিনি এই পদকটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করতে চান।

উল্লেখ্য যে, গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশেষ অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়। এই ঘটনার পর মাচাদোর এমন প্রস্তাব আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এই প্রস্তাবের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বিষয়টিকে ‘বড় সম্মান’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি পুনরায় জানিয়েছে, নোবেল পুরস্কার কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা ব্যক্তিগত ইচ্ছার ভিত্তিতে পরিবর্তনযোগ্য নয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই পুরস্কারের মর্যাদা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে এই কঠোর নিয়ম পালন করা হয়ে আসছে। ফলে ব্যক্তিগত অনুরোধ বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে নোবেল পদকের স্বত্বাধিকার পরিবর্তনের কোনো অবকাশ নেই।