রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক, এমনকি ফ্লাইওভারের ওপর এখন একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। দ্রুতগতি আর বেপরোয়া চলাচলের কারণে এই বাহনটি এখন নগরবাসীর কাছে আতঙ্কের অন্য নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ আদালতের সাময়িক নিষেধাজ্ঞার পর আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থার সুযোগ নিয়ে ঢাকার রাজপথে এসব রিকশা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, যা প্রতিনিয়ত সৃষ্টি করছে ছোট-বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, বকশীবাজার, নিউমার্কেট, হাতিরপুলসহ বিভিন্ন এলাকার অলিগলি ছাড়িয়ে মূল সড়কেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব অবৈধ বাহন। এমনকি উত্তরার জসিমউদ্দীন, রাজলক্ষ্মী, আজমপুর এবং দিয়াবাড়ী সড়কেও এদের অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে গুলশান, বনানী ও ধানমন্ডির মতো ভিআইপি এলাকাগুলোতে মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে রিকশা জব্দ করা হলেও, অধিকাংশ এলাকাতেই নজরদারি নেই বললেই চলে। ফলে এক প্রকার নিয়ন্ত্রণহীনভাবেই চলছে এসব রিকশা।
বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকা মেগাসিটিতে প্রায় ১২ লাখ রিকশা চলাচল করছে, যার একটি বিশাল অংশই ব্যাটারিচালিত। বিআরটিএ-র তথ্যমতে, সারাদেশে মাত্র ২৫ হাজার রিকশার বৈধ নিবন্ধন থাকলেও রাজধানীতে চলাচলকারী সিংহভাগ রিকশাই অবৈধ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশা রাজধানীতে প্রবেশ করছে, যা যানজট ও জনভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১ হাজার ৮৫৬টি ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ২৫৯ জন। এছাড়া এসব দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণসহ আহত হয়েছেন ৪ হাজারের বেশি মানুষ। মূলত অদক্ষ চালক এবং ব্রেকিং সিস্টেমের ত্রুটির কারণেই এই বাহনটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল অভিযান চালিয়ে বা নিষিদ্ধ করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাদের মতে, ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকারকে শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান ও যাতায়াতের জন্য উন্নত ও নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। মানুষের চাহিদা কমলে এবং কঠোর আইনি তদারকি নিশ্চিত করা গেলে ঢাকা অভিমুখী এই রিকশা স্রোত ঠেকানো সম্ভব হবে। অন্যথায় রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা আরও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























