ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

বাকলিয়া থানার ৮ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানাধীন নতুন ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্টে প্রায় এক লাখ পিস ইয়াবা জব্দের পর আত্মসাতের অভিযোগে আট পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ বরখাস্তের নোটিশ এবং এ আদেশ দিয়েছেন।

বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন– বাকলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আল-আমিন সরকার ও মোহাম্মদ আমির হোসেন, এএসআই সাইফুল আলম, জিয়াউর রহমান, সাদ্দাম হোসেন ও এনামুল হক এবং কনস্টেবল রাশেদুল হাসান ভূঞা ও উম্মে হাবিবা স্বপ্না।

এ প্রসঙ্গে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি-মিডিয়া) আমিনুর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ঘটনায় সিএমপি কমিশনার স্যার বাকলিয়া থানার আট জন পুলিশ সদস্যকে সোমবার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত অবস্থায় থাকবেন।’

পুলিশের এ সংক্রান্ত গঠিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি রবিবার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ ওই পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত করেন।

পুলিশের এ সংক্রান্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৮ ডিসেম্বর রাতে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলসের একটি এসি বাসে (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১৬৪২) নতুনব্রিজ পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশির সময় কক্সবাজার জেলা পুলিশের কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনের সঙ্গে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে আনুমানিক ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার হয়।

উদ্ধার ইয়াবা যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করেন এবং রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ইয়াবা উদ্ধারের পর কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন ‘সেফ এক্সিট’ চেয়ে পুলিশ সদস্যদের কাছে অনুনয় করেন। এরপর ট্রলি ব্যাগ থেকে বের করে নেওয়া হয় ইয়াবার পুরো চালান। সেগুলো পুলিশের হেফাজতে রেখে কেবল কাপড়চোপড়সহ ব্যাগটি ফেরত দেওয়া হয়।

পরে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। তবে পুলিশের তদন্তে কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনের স্বীকারোক্তি, বাসের সুপারভাইজারের বক্তব্য এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যের জবানবন্দিতে পুরো ঘটনা প্রমাণিত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করলেন সদ্যবিদায়ী গভর্নরের উপদেষ্টা

বাকলিয়া থানার ৮ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানাধীন নতুন ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্টে প্রায় এক লাখ পিস ইয়াবা জব্দের পর আত্মসাতের অভিযোগে আট পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ বরখাস্তের নোটিশ এবং এ আদেশ দিয়েছেন।

বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন– বাকলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আল-আমিন সরকার ও মোহাম্মদ আমির হোসেন, এএসআই সাইফুল আলম, জিয়াউর রহমান, সাদ্দাম হোসেন ও এনামুল হক এবং কনস্টেবল রাশেদুল হাসান ভূঞা ও উম্মে হাবিবা স্বপ্না।

এ প্রসঙ্গে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি-মিডিয়া) আমিনুর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ঘটনায় সিএমপি কমিশনার স্যার বাকলিয়া থানার আট জন পুলিশ সদস্যকে সোমবার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত অবস্থায় থাকবেন।’

পুলিশের এ সংক্রান্ত গঠিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি রবিবার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ ওই পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত করেন।

পুলিশের এ সংক্রান্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৮ ডিসেম্বর রাতে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলসের একটি এসি বাসে (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১৬৪২) নতুনব্রিজ পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশির সময় কক্সবাজার জেলা পুলিশের কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনের সঙ্গে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে আনুমানিক ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার হয়।

উদ্ধার ইয়াবা যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করেন এবং রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ইয়াবা উদ্ধারের পর কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন ‘সেফ এক্সিট’ চেয়ে পুলিশ সদস্যদের কাছে অনুনয় করেন। এরপর ট্রলি ব্যাগ থেকে বের করে নেওয়া হয় ইয়াবার পুরো চালান। সেগুলো পুলিশের হেফাজতে রেখে কেবল কাপড়চোপড়সহ ব্যাগটি ফেরত দেওয়া হয়।

পরে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। তবে পুলিশের তদন্তে কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনের স্বীকারোক্তি, বাসের সুপারভাইজারের বক্তব্য এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যের জবানবন্দিতে পুরো ঘটনা প্রমাণিত হয়।