সুন্দরবনে পর্যটনবাহী আনুমানিক চারশ জালিবোটসহ লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। এর ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ফিরে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, নৌপরিবহন অধিদফতর (খুলনা) রবিবার (৪ জানুয়ারি) মোংলার ফেরিঘাট এলাকায় থাকা কমপক্ষে ৩০টি জালিবোটের উপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে সেসব মালামাল নিয়ে যায়। এতে বোটের সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে বসার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত বোট মালিকরা নৌপরিবহন অধিদফতরের এ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকেই সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশ ও ভ্রমণ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এদিন ভোর থেকে সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত থেকে মোংলার পিকনিক কর্নারে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরা জালিবোট ধর্মঘটের কারণে নিরুপায় হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ফিরে যাচ্ছেন যশোর থেকে আসা সাজেদ রহমান বলেন, ‘পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে মোংলার পিকনিক কর্নারে আটকে গেছি। গাড়ি থেকে নামার পর শুনছি, সুন্দরবনে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম জালিবোটসহ অন্যান্য নৌযানের ধর্মঘট চলছে। তাই হতাশা নিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে যাচ্ছি।’
দিনাজপুর থেকে পরিবারসহ আসা তামান্না বেগম বলেন, ‘এখানে এসে দেখি, নৌযান চলাচল বন্ধ, তাই আমরা আর সুন্দরবনে যেতে পারছি না। কী করবো আর, ফিরে যেতে হবে এখন।’
খুলনার চুকনগর থেকে আসা রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা এক বাসে ৫৪ জন এসেছি। এসে দেখি, সুন্দরবনে যাওয়ার সব নৌযান চলাচল বন্ধ। আসাটাই হলো বৃথা।’
মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নৌপরিবহন অধিদফতরের (খুলনা) হয়রানির প্রতিবাদে নৌযান মালিকরা জালিবোট, ট্রলার ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখে ধর্মঘট শুরু করেছেন। ধর্মঘটের আওতায় রয়েছে প্রায় ৪শ লঞ্চ, জালিবোট ও ট্রলার।’
তিনি আরও বলেন, ‘নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ কিছু শর্তও দিয়েছে, বোট মালিকদের পক্ষে ব্যয়বহুল সেসব শর্ত পূরণ আদৌ সম্ভব না। তাই নৌপরিবহন অধিদফতরের এই হয়রানি বন্ধ না হলে সুন্দরবনগামী এসব নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।’
সুন্দরবনের করমজল পর্যটনকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, সোমবার ভোর থেকেই এখানে কোন নৌযান ও পর্যটক আসতে পারছেনা। শুনেছি নৌপরিবহন অধিদপ্তর রবিবার পর্যটনবাহী নৌযানগুলো অভিযান চালায়। এই কারণে নৌযান মালিকেরা তাদের নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছে।
নৌপরিবহন অধিদফতরের খুলনার পরিদর্শক রাশেদুল আলম বলেন, ‘জালিবোটগুলোর উপরের অংশের অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে। যাতে বোটের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, দুর্ঘটনাকবলিত না হয়। মূলত আমাদের উদ্দেশ্য হলো পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’
রিপোর্টারের নাম 
























