সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে বাংলাদেশের সড়ক, রেল ও নৌপথ যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছিল। বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির বার্ষিক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশে মোট ৭,৩৬৯টি দুর্ঘটনায় ৯,৭৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৫,০৯৬ জন। এর মধ্যে কেবল সড়কেই ৬,৭২৯টি দুর্ঘটনায় ৯,১১১ জন নিহত এবং ১৪,৮১২ জন আহত হয়েছেন। রোববার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়, সড়কে দুর্ঘটনার এই হার ২০২৪ সালের তুলনায় ৬.৯৪ শতাংশ এবং প্রাণহানি ৫.৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। বছরে ২,৪৯৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২,৯৮৩ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ৩৭ শতাংশ। এছাড়া রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জন এবং নৌপথে ১২৭টি দুর্ঘটনায় ১৫৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চালক, পথচারী, শিক্ষার্থী, নারী ও শিশুসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ১,৬৯১ জন চালক, ৮৩২ জন শিক্ষার্থী এবং ১০৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। যাত্রীকল্যাণ সমিতির মতে, এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বছরে দেশের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু জরুরি সুপারিশ পেশ করা হয়েছে। আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি ইশতেহারে সড়ক নিরাপত্তা, গণপরিবহন সংস্কার এবং যাত্রী অধিকারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—সড়ক নিরাপত্তা খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পৃথক ‘সড়ক নিরাপত্তা উইং’ চালু করা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। একটি নিরাপদ ও উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর আইনি প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।
রিপোর্টারের নাম 
























