সংসদ নির্বাচনে লড়তে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে রংপুর-৩ (সদর) আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের নগদ অর্থ ও সম্পদ বেড়েছে। তার ৫টি ব্যাংকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা নগদ অর্থ রয়েছে। তবে তার স্ত্রীর সম্পদ কমেছে বলে দেখানো হয়েছে।
অপরদিকে জামাই অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ ও আত্মীয় মমতাজ উদ্দিনের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ধার নিয়েছেন যা পরিশোধ করেননি বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা সহ ১২টি মামলা রয়েছে। তিনি যে গাড়ি দুটি ব্যবহার করেন তার মূল্য ৯০ লাখ টাকা।
আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করার সময় জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
হলফনামায় পেশা হিসেবে জি এম কাদের নিজেকে রাজনীতিবিদ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং তার স্ত্রী শেরীফা কাদেরের পেশা সংগীত শিল্পী ও ব্যবসা উল্লেখ করেছেন।
তার কোনও কৃষি জমি নেই উল্লেখ করলেও নিজের ও স্ত্রীর নামে লালমনিরহাটে টিনশেড আধা পাকা বাড়ি এবং ঢাকার উত্তরায় ৫ তলা বিশিষ্ট বাড়ি আছে বলে উল্লেখ করেছেন। দুই বাড়ির বর্তমান বাজার মূল্য দুই কোটি টাকারও বেশি।
হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে ১২টি মামলার মধ্যে ২০২২ সালের একটি মামলা রয়েছে। আর ১১টি মামলার মধ্যে দুটি হত্যা বাকি ৯টি হত্যাচেষ্টা মামলা যা ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ঘটনায় করা মামলা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামায় দেওয়া সম্পদের হিসেবে, জি এম কাদেরের পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকে নগদ টাকা জমা রয়েছে- যার পরিমাণ ৬০ লাখ ৩২ হাজার ৪০৫ টাকা। অথচ দুই বছর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার ২৫৩ টাকা। আর একাদশ সংসদে তার নগদ ছিল ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৩ টাকা। ফলে বিগত দুই সংসদ নির্বাচনের পর তার নগদ অর্থের পরিমাণ চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তার স্ত্রী শেরীফা কাদেরের ৫ ব্যাংকে দুই বছর আগে নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার ৫৬৩ টাকা। তবে এবার কমে হয়েছে ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ৯৩৮ টাকা। এর আগে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে জি এম কাদেরের স্ত্রীর নগদ ছিল ২৭ লাখ ৬৪ হাজার ৭০১ টাকা। পর্যালোচনা করে দেখা গেছে শেরীফা কাদেরের নগদ অর্থের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
হলফনামায় জিএম কাদের উল্লেখ করেছেন তার দেনা রয়েছে ১২ লাখ টাকা। এর মধ্যে তার জামাতা অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ ৫ লাখ টাকা এবং মমতাজ উদ্দিন নামে এক জন ৭ লাখ টাকা পাবেন- যা পরিশোধ করেননি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে দুই বছর আগে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জি এম কাদের হলফনামায় গাড়ির যে দাম উল্লেখ করেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামায় ওই দাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি, বাড়ি ভাড়া, ব্যবসা থেকে তার কোনও আয় নেই। তবে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে প্রাপ্ত ভাতা থেকে দুই লাখ ১০ হাজার টাকা, শেয়ার/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক জামানত থেকে নিজের এক লাখ ৯০ হাজার ও স্ত্রীর ৭৯ হাজার ৭৪১ টাকা এবং স্ত্রীর ব্যবসা থেকে ছয় লাখ টাকা আয় দেখানো হয়েছে।
এ ছাড়াও জি এম কাদেরের নিজ নামে সঞ্চয়পত্র বা ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে ৪০ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৬৮ টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য এক কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর সম্পদের মূল্য এক কোটি ৭২ লাখ টাকা।
জি এম কাদেরের আগে ৫ বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এর মধ্যে লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসন থেকে ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন। তবে রংপুর-৩ আসন থেকে তিনি ২০০১ ও ২০২৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। জি এম কাদের তার বড় ভাই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























