বাংলাদেশ তার সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনা ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ বাস্তবায়নে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার আকাশপথের শক্তিমত্তায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। দেশের অর্থনৈতিক সংকট এবং আগামী ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বৃহৎ প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী পশ্চিমা প্রযুক্তির অত্যাধুনিক ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’ মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান এবং তুরস্কের তৈরি ‘টি-১২৯ অ্যাটাক’ হেলিকপ্টার সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছে। গত ৯ ডিসেম্বর ঢাকার বিমানবাহিনী সদরদপ্তরে ইতালির কোম্পানি লিওনার্দো এসপিএ-এর সাথে একটি লেটার অব ইনটেন্ট (LoI) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মাধ্যমে ১২টি ইউরোফাইটার টাইফুন কেনার প্রাথমিক আলোচনা শুরু হলো। প্রায় ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ের এই সম্ভাব্য চুক্তিটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে বৃহত্তম প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী মূলত পুরনো চীনা চেংডু এফ-৭ এবং রাশিয়ার মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ (BVR) লড়াই এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার মোকাবিলায় এই পুরনো বিমানগুলো এখন অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছে।
এছাড়া এসব বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বৃদ্ধি এবং খুচরা যন্ত্রাংশ পাওয়ার জটিলতাও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, তুরস্কের তৈরি অত্যাধুনিক টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার আলোচনাও এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপটি কেবল পুরনো বিমান প্রতিস্থাপন নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মুখে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কৌশলে একটি বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন। এই বিশাল বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























