বাংলাদেশ তার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এক বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। দীর্ঘদিনের বাজেট সীমাবদ্ধতা এবং চীনা সমরাস্ত্রের গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই ইতালিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান লিওনার্দো এসপিএ-র সঙ্গে ইউরোফাইটার টাইফুন মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের জন্য একটি লেটার অব ইনটেন্ট (LoI) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। যদি এই চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়, তবে এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো পশ্চিমা অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ক্রয়।
জানা গেছে, বিমানবাহিনী ১৪টি টাইফুন জেট সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। চলতি মাসের শুরুতে ঢাকায় বিমানবাহিনী প্রধান এবং ইতালীয় রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল ইতালিতে গিয়ে এই বিমানের কার্যকারিতা যাচাই করে এসেছেন।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপটি মূলত একটি ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের অংশ। বাংলাদেশ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের চাপে তাদের বোয়িং বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার ফলে ইউরোপীয় এয়ারবাসের বাজার কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে এবং ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশ এখন ইউরোপীয় কনসোর্টিয়ামের এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহী।
যদিও বাংলাদেশের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রতিরক্ষা বাজেট ৪শ কোটি টাকার বেশি, যার বড় অংশই ব্যয় হয় বেতন ও প্রশাসনিক খাতে। ফলে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষ করে বর্তমান উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির বাজারে আধুনিকায়নের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ তুলনামূলক কম। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ তার সামরিক সরঞ্জামের জন্য চীন ও রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
তবে ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর অধীনে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগে রুশ মাল্টিরোল বিমান কেনার পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর থেকেই পশ্চিমা প্রযুক্তির প্রতি ঝোঁক বেড়েছে। যদিও তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় চীনা জে-১০সি (J-10C) বিমান কেনার সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি নাকচ হয়ে যায়নি।
তবে চীনা সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ জটিলতা এবং সাম্প্রতিক কিছু দুর্ঘটনা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের বিকল্প ভাবতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী মিয়ানমার সীমান্তে অস্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এখন নির্দিষ্ট কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে চাইছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের রপ্তানির বড় বাজার হওয়ায় এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি দুই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামরিক অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























