ঢাকা ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

হাদি হত্যার বিচার দাবিতে জেলায় জেলায় অবরোধ-বিক্ষোভ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে জেলায় জেলায় অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলায় এসব কর্মসূচি পালিত হয়। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের শাহবাগ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সেই সময় রবিবার বেলা ১১টা থেকে অবরোধ শুরু হবে বলে জানালেও দুপুরের পর থেকে জেলাগুলোতে অবরোধ শুরু হয়। কর্মসূচি থেকে হাদি হত্যার বিচার চাওয়া হয়।

ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ময়মনসিংহে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে বেলা আড়াইটার দিকে নগরের টাউন হল এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। বিকাল সোয়া ৪টা থেকে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এতে সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ময়মনসিংহে ইনকিলাব মঞ্চের কোনও কমিটি না থাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ব্যক্তিরা ছাড়াও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও খেলাফত মজলিসের নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় ‘বিচার বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমরা সবাই হাদি হব, যুগে যুগে লড়ে যাব’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ময়মনসিংহে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছেওসমান হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ময়মনসিংহে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, মহানগরের আহ্বায়ক অলিউল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক হানজালা রহমান, মাহবুবা আক্তার, ময়মনসিংহ ফোরামের সদস্য হাসনাইন সাকিব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগরের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত, এনসিপির জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য ইকরাম এলাহী খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মাহদি হাসান বলেন, ‘শহীদ হাদি ভাই আমাদের জুলাইয়ের প্রকৃত ইমাম। তিনিই আগামীর বাংলাদেশের পথপ্রদর্শক। আমাদের ভাইয়ের বিচারের কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ আমরা প্রশাসন বা সরকার থেকে পাইনি। আমরা আমাদের ভাইয়ের বিচারের জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তা–ই করবো। রক্তের শেষ বিন্দু দিয়ে হলেও ভাইয়ের বিচার আমরা আদায় করবো। এটাই হবে ইনসাফ।’

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মমিনুর রহমান বলেন, ‘হাদি ভাইয়ের কথা ছিল সীমান্ত শক্তিশালী করার কথা। প্রয়োজনে ঘাস খেয়ে অস্ত্র বানাতে বলতেন। আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা ন্যায় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের জন্য লড়বো। যত দিন দেহে প্রাণ আছে, তত দিন আমাদের সাম্য ও ন্যায়ের জন্য আন্দোলন চলবে। শুধু ফয়সাল ও আলমগীর এ হত্যাকাণ্ডের জড়িত নয়, এ হত্যাকাণ্ডে অর্থের জোগানদাতা, পরিকল্পনাকারী, সহযোগী—সবাইকে শাস্তি দিতে হবে।’

রংপুরে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচিরংপুরে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি

খুলনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন

হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অনশন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। দুপুর থেকে শুরু হওয়া এ অনশন কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য। অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন আহত জুলাইযোদ্ধা মো. হুজাইফা, নূরুজ্জামান নাবিল, সীমান্ত, জাকিয়া আক্তার ও মিহিরিমা তাসনিম।

অনশনরতরা বলেন, আমাদের জুলাই যোদ্ধা ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার এতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও মূল হত্যাকারী আইনের আওতায় আসেনি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। আমরা একাধিকবার বিচার দাবি করলেও সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা হলে আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেবো আমরা।

অনশনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করেন। কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে। অনশনকারীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

কুমিল্লায় সর্বাত্মক অবরোধ

হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে কুমিল্লায় সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচি পালনকালে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে। বেলা ২টার পর থেকে কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় এলাকার পূবালী চত্বরে অবরোধ শুরু করে সংগঠনটি। ইনকিলাব মঞ্চ ছাড়াও সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালনে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।

এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’; ‘হাদি হাদি, আজাদি আজাদি’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’; ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’; ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনকিলাব মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আল নাহিয়ানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চ কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানী, এবি পার্টির কুমিল্লা জেলার আহ্বায়ক মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুমিল্লা মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী রাশেদুল হাসানসহ অনেকে। এ সময় হাদিকে নিয়ে লেখা একটি কবিতা আবৃত্তি করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কোবরা।

রংপুরে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি

হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে রংপুরে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। বেলা ২টার দিকে রংপুর নগরের শহীদ হাদি চত্বরে (পূর্ব নাম ডিসির মোড়) এ কর্মসূচি শুরু হয়। ইনকিলাব মঞ্চ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ডাকে এ কর্মসূচিতে আহত জুলাই যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় ছাত্রশক্তির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী অংশ নেন। 

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহম্মদ, সদস্যসচিব হাজিম উল হক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর কমিটির সদস্যসচিব রহমত আলী, মুখপাত্র নাহিদ হাসান খন্দকার, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক শামসুর রহমান ও ইনকিলাব মঞ্চের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান।

কুমিল্লায় অবরোধকুমিল্লায় অবরোধ

জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমাদের দাবি হচ্ছে, যারা বা যে গোষ্ঠী হাদি ভাইয়ের এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে হবে। ডিএমপি কমিশনার আজ সংবাদ সম্মেলনে যেসব কথা বললেন, আমরা আসলে আশানুরূপ কোনও ফল পাইনি। আমরা আশা করেছিলাম, হয়তো তিনি নতুন কোনও বার্তা দেবেন। কিন্তু সেই আগের মতোই বললেন যে খুনি ভারতে পালিয়ে গেছেন। এখন পর্যন্ত কোনও অগ্রগতি আমরা দেখতে পাচ্ছি না।’ 

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ

হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বরিশালের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে ঢাকা-বরিশাল এবং বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকাল ৩টা থেকে বরিশাল নগরের কয়েকটি কলেজ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় জড়ো হন। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড। পরে তারা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। 

অবরোধে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী মো. গোলাম রহিম বলেন, ‘ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার যতদিন না হবে ততদিন আমরা রাজপথ ছাড়বো না।’

বরিশাল বিমান বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘মহাসড়কে যেন কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি না হয়, সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আমরা কথা বলে সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছি।’

সিলেটে অবরোধ কর্মসূচি

হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সিলেটে অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সিলেট ইনকিলাব মঞ্চ ও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে সিলেট নগরের চৌহাট্টা মোড়ে বেলা ২টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

এর আগে দুপুর থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে শহীদ মিনারের সামনে থেকে বেলা ২টা ১০ মি‌নিটের দিকে চৌহাট্টা মোড়ে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন। এ সময় হাদির হত্যাকারীদের বিচারসহ বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।

বরিশালে অবরোধবরিশালে অবরোধ

বিকাল ৩টার দিকে তারা চৌহাট্টা মোড়ে জিন্দাবাজার থেকে আম্বরখানাগামী সড়ক ও রিকাবীবাজার থেকে মিরবক্সটুলা সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় বসে পড়েন। তারা ‘হা‌দি ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’, ‘জুলাইয়ের হা‌দি ভাই, আমরা তোমায় ভু‌লি নাই’, ‘শহীদ হা‌দি আজা‌দি, ওসমান হা‌দি আজা‌দি’, ‘তু‌মি কে আমি কে, হা‌দি হা‌দি’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। এতে ওই এলাকায় যানজট দেখা দেয়। সন্ধ্যার দিকে তা স্বাভাবিক হয়।

চট্টগ্রামে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি

হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে চট্টগ্রামে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। বেলা ২টায় শাহ আমানত সেতু এলাকায় কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় কক্সবাজার, বান্দরবানসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামমুখী বাসসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় ‘বিচার বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক রাফসান রাকিব বলেন, ‌ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।

এদিকে, নগরীর প্রবেশমুখে অবস্থানের কারণে সেতু অতিক্রম করতে বাস, ট্রাকসহ অনেক যানবাহন সেতুর ওপর আটকা পড়ে। ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেও যানজট সৃষ্টি হয়। তবে কর্মসূচি শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ গিয়ে সেতুর একপাশ থেকে অবস্থানকারীদের সরিয়ে দেয়। এতে সেতুর ওপর দিয়ে কক্সবাজারমুখী লেনে গাড়ি চলাচল শুরু হয়। 

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যাগে নতুন ব্রিজ এলাকায় লোকজন অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। প্রথমে সেতুর উভয় লেন তারা আটকে রেখেছিলেন। আমরা পরে বুঝিয়ে তাদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছি।’

রাজশাহীতে অবরোধ

হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে রাজশাহী নগরের তালাইমারী মোড়ে সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কও অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।

বেলা ২টার দিকে তালাইমারী মোড়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। দড়ি বেঁধে, বেঞ্চ ও ইট দিয়ে সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় ‘তুমি কে আমি কে, হাদি, হাদি’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

তালাইমারী মোড়ের কর্মসূচিতে জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাহিদুল ইসলাম বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ ঘোষিত সারা দেশের অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহীতে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে প্রকাশ্যে আনতে হবে, তা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম।

টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ

বিকালে গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। বিকাল ৪টা থেকে টঙ্গী কলেজগেট এলাকায় শুরু হওয়া এই অবরোধে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকাল ৫টা পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত ছিল। মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‌বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নেওয়ার পর যান চলাচল বন্ধ ছিল। বিকাল ৩টায় তারা সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মেহেরপুরে অবরোধ

বিকাল ৩টায় মেহেরপুর প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ খান ও আসিক রাব্বি, সদস্য মো. হাসনাত জামান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মো. মুজাহিদুল ইসলাম ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

নারায়ণগঞ্জে দেড় ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নেতাকর্মীরা। বিকালে সদর উপজেলার সাইনবোর্ড এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।

বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় জড়ো হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা। এ সময় হাদি হত্যার বিচার চেয়ে স্লোগান দেন এবং একপর্যায়ে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে মহাসড়ক বন্ধ করে দেন। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরোধ ও জনদুর্ভোগের কথা ভেবে অবরোধ প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা।

জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক নীরব রায়হান বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের ডাকা বিভাগীয় কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জের ছাত্র-জনতা এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। ওসমান হাদির হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ মার্চ: টিভি পর্দায় ক্রিকেট-ফুটবলের ডাবল ধামাকা!

হাদি হত্যার বিচার দাবিতে জেলায় জেলায় অবরোধ-বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৯:২৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে জেলায় জেলায় অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলায় এসব কর্মসূচি পালিত হয়। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের শাহবাগ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সেই সময় রবিবার বেলা ১১টা থেকে অবরোধ শুরু হবে বলে জানালেও দুপুরের পর থেকে জেলাগুলোতে অবরোধ শুরু হয়। কর্মসূচি থেকে হাদি হত্যার বিচার চাওয়া হয়।

ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ময়মনসিংহে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে বেলা আড়াইটার দিকে নগরের টাউন হল এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। বিকাল সোয়া ৪টা থেকে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এতে সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ময়মনসিংহে ইনকিলাব মঞ্চের কোনও কমিটি না থাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ব্যক্তিরা ছাড়াও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও খেলাফত মজলিসের নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় ‘বিচার বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমরা সবাই হাদি হব, যুগে যুগে লড়ে যাব’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ময়মনসিংহে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছেওসমান হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ময়মনসিংহে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, মহানগরের আহ্বায়ক অলিউল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক হানজালা রহমান, মাহবুবা আক্তার, ময়মনসিংহ ফোরামের সদস্য হাসনাইন সাকিব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগরের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত, এনসিপির জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য ইকরাম এলাহী খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মাহদি হাসান বলেন, ‘শহীদ হাদি ভাই আমাদের জুলাইয়ের প্রকৃত ইমাম। তিনিই আগামীর বাংলাদেশের পথপ্রদর্শক। আমাদের ভাইয়ের বিচারের কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ আমরা প্রশাসন বা সরকার থেকে পাইনি। আমরা আমাদের ভাইয়ের বিচারের জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তা–ই করবো। রক্তের শেষ বিন্দু দিয়ে হলেও ভাইয়ের বিচার আমরা আদায় করবো। এটাই হবে ইনসাফ।’

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মমিনুর রহমান বলেন, ‘হাদি ভাইয়ের কথা ছিল সীমান্ত শক্তিশালী করার কথা। প্রয়োজনে ঘাস খেয়ে অস্ত্র বানাতে বলতেন। আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা ন্যায় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের জন্য লড়বো। যত দিন দেহে প্রাণ আছে, তত দিন আমাদের সাম্য ও ন্যায়ের জন্য আন্দোলন চলবে। শুধু ফয়সাল ও আলমগীর এ হত্যাকাণ্ডের জড়িত নয়, এ হত্যাকাণ্ডে অর্থের জোগানদাতা, পরিকল্পনাকারী, সহযোগী—সবাইকে শাস্তি দিতে হবে।’

রংপুরে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচিরংপুরে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি

খুলনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন

হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অনশন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। দুপুর থেকে শুরু হওয়া এ অনশন কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য। অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন আহত জুলাইযোদ্ধা মো. হুজাইফা, নূরুজ্জামান নাবিল, সীমান্ত, জাকিয়া আক্তার ও মিহিরিমা তাসনিম।

অনশনরতরা বলেন, আমাদের জুলাই যোদ্ধা ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার এতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও মূল হত্যাকারী আইনের আওতায় আসেনি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। আমরা একাধিকবার বিচার দাবি করলেও সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা হলে আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেবো আমরা।

অনশনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করেন। কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে। অনশনকারীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

কুমিল্লায় সর্বাত্মক অবরোধ

হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে কুমিল্লায় সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচি পালনকালে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে। বেলা ২টার পর থেকে কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় এলাকার পূবালী চত্বরে অবরোধ শুরু করে সংগঠনটি। ইনকিলাব মঞ্চ ছাড়াও সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালনে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।

এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’; ‘হাদি হাদি, আজাদি আজাদি’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’; ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’; ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনকিলাব মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আল নাহিয়ানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চ কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানী, এবি পার্টির কুমিল্লা জেলার আহ্বায়ক মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুমিল্লা মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী রাশেদুল হাসানসহ অনেকে। এ সময় হাদিকে নিয়ে লেখা একটি কবিতা আবৃত্তি করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কোবরা।

রংপুরে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি

হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে রংপুরে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। বেলা ২টার দিকে রংপুর নগরের শহীদ হাদি চত্বরে (পূর্ব নাম ডিসির মোড়) এ কর্মসূচি শুরু হয়। ইনকিলাব মঞ্চ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ডাকে এ কর্মসূচিতে আহত জুলাই যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় ছাত্রশক্তির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী অংশ নেন। 

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহম্মদ, সদস্যসচিব হাজিম উল হক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর কমিটির সদস্যসচিব রহমত আলী, মুখপাত্র নাহিদ হাসান খন্দকার, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক শামসুর রহমান ও ইনকিলাব মঞ্চের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান।

কুমিল্লায় অবরোধকুমিল্লায় অবরোধ

জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমাদের দাবি হচ্ছে, যারা বা যে গোষ্ঠী হাদি ভাইয়ের এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে হবে। ডিএমপি কমিশনার আজ সংবাদ সম্মেলনে যেসব কথা বললেন, আমরা আসলে আশানুরূপ কোনও ফল পাইনি। আমরা আশা করেছিলাম, হয়তো তিনি নতুন কোনও বার্তা দেবেন। কিন্তু সেই আগের মতোই বললেন যে খুনি ভারতে পালিয়ে গেছেন। এখন পর্যন্ত কোনও অগ্রগতি আমরা দেখতে পাচ্ছি না।’ 

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ

হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বরিশালের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে ঢাকা-বরিশাল এবং বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকাল ৩টা থেকে বরিশাল নগরের কয়েকটি কলেজ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় জড়ো হন। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড। পরে তারা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। 

অবরোধে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী মো. গোলাম রহিম বলেন, ‘ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার যতদিন না হবে ততদিন আমরা রাজপথ ছাড়বো না।’

বরিশাল বিমান বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘মহাসড়কে যেন কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি না হয়, সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আমরা কথা বলে সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছি।’

সিলেটে অবরোধ কর্মসূচি

হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সিলেটে অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সিলেট ইনকিলাব মঞ্চ ও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে সিলেট নগরের চৌহাট্টা মোড়ে বেলা ২টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

এর আগে দুপুর থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে শহীদ মিনারের সামনে থেকে বেলা ২টা ১০ মি‌নিটের দিকে চৌহাট্টা মোড়ে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন। এ সময় হাদির হত্যাকারীদের বিচারসহ বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।

বরিশালে অবরোধবরিশালে অবরোধ

বিকাল ৩টার দিকে তারা চৌহাট্টা মোড়ে জিন্দাবাজার থেকে আম্বরখানাগামী সড়ক ও রিকাবীবাজার থেকে মিরবক্সটুলা সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় বসে পড়েন। তারা ‘হা‌দি ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’, ‘জুলাইয়ের হা‌দি ভাই, আমরা তোমায় ভু‌লি নাই’, ‘শহীদ হা‌দি আজা‌দি, ওসমান হা‌দি আজা‌দি’, ‘তু‌মি কে আমি কে, হা‌দি হা‌দি’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। এতে ওই এলাকায় যানজট দেখা দেয়। সন্ধ্যার দিকে তা স্বাভাবিক হয়।

চট্টগ্রামে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি

হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে চট্টগ্রামে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। বেলা ২টায় শাহ আমানত সেতু এলাকায় কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় কক্সবাজার, বান্দরবানসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামমুখী বাসসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় ‘বিচার বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক রাফসান রাকিব বলেন, ‌ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।

এদিকে, নগরীর প্রবেশমুখে অবস্থানের কারণে সেতু অতিক্রম করতে বাস, ট্রাকসহ অনেক যানবাহন সেতুর ওপর আটকা পড়ে। ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেও যানজট সৃষ্টি হয়। তবে কর্মসূচি শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ গিয়ে সেতুর একপাশ থেকে অবস্থানকারীদের সরিয়ে দেয়। এতে সেতুর ওপর দিয়ে কক্সবাজারমুখী লেনে গাড়ি চলাচল শুরু হয়। 

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যাগে নতুন ব্রিজ এলাকায় লোকজন অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। প্রথমে সেতুর উভয় লেন তারা আটকে রেখেছিলেন। আমরা পরে বুঝিয়ে তাদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছি।’

রাজশাহীতে অবরোধ

হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে রাজশাহী নগরের তালাইমারী মোড়ে সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কও অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।

বেলা ২টার দিকে তালাইমারী মোড়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। দড়ি বেঁধে, বেঞ্চ ও ইট দিয়ে সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় ‘তুমি কে আমি কে, হাদি, হাদি’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

তালাইমারী মোড়ের কর্মসূচিতে জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাহিদুল ইসলাম বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ ঘোষিত সারা দেশের অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহীতে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে প্রকাশ্যে আনতে হবে, তা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম।

টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ

বিকালে গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। বিকাল ৪টা থেকে টঙ্গী কলেজগেট এলাকায় শুরু হওয়া এই অবরোধে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকাল ৫টা পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত ছিল। মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‌বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নেওয়ার পর যান চলাচল বন্ধ ছিল। বিকাল ৩টায় তারা সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মেহেরপুরে অবরোধ

বিকাল ৩টায় মেহেরপুর প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ খান ও আসিক রাব্বি, সদস্য মো. হাসনাত জামান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মো. মুজাহিদুল ইসলাম ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

নারায়ণগঞ্জে দেড় ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নেতাকর্মীরা। বিকালে সদর উপজেলার সাইনবোর্ড এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।

বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় জড়ো হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা। এ সময় হাদি হত্যার বিচার চেয়ে স্লোগান দেন এবং একপর্যায়ে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে মহাসড়ক বন্ধ করে দেন। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরোধ ও জনদুর্ভোগের কথা ভেবে অবরোধ প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা।

জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক নীরব রায়হান বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের ডাকা বিভাগীয় কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জের ছাত্র-জনতা এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। ওসমান হাদির হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।