ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজপথে নামার আগে এই বিষয়গুলো ভাবুন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

রাজপথে মিছিল–মিটিং, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতির এক পরিচিত চিত্র। দাবি আদায়, প্রতিবাদ কিংবা সংহতির ভাষা হিসেবে বহুদিন ধরেই মানুষ রাস্তায় নামে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মিছিল–মিটিং ঘিরে অনিশ্চয়তা, উত্তেজনা ও ঝুঁকিও বেড়েছে। ফলে আবেগের পাশাপাশি সচেতন প্রস্তুতি এখন সময়ের দাবি। রাজপথে নামার আগে কিছু মৌলিক বিষয় মাথায় রাখলে নিজের নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত করা যায়, তেমনি আন্দোলনের লক্ষ্যও থাকে পরিষ্কার ও শালীন।

প্রথমেই দরকার মানসিক প্রস্তুতি। কেন রাস্তায় নামছেন, এই প্রশ্নের উত্তর নিজের কাছে স্পষ্ট থাকা জরুরি। আবেগ নয়, লক্ষ্য ও যুক্তি থেকেই অংশগ্রহণ হওয়া উচিত। গুজব, উসকানি কিংবা মুহূর্তের উত্তেজনায় সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই আন্দোলনের দাবি, কর্মসূচির সময়সূচি এবং নেতৃত্ব কারা দিচ্ছে, এসব বিষয়ে আগেভাগেই জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

পোশাক নির্বাচনেও সচেতনতা জরুরি। হালকা, আরামদায়ক এবং চলাফেরায় সুবিধাজনক পোশাক পরাই ভালো। অতিরিক্ত গয়না, ভারী মানিব্যাগ-পার্স, দামী গহনা বা এমন কিছু পরা উচিত নয়, যা বিপদের সময় সমস্যা তৈরি করতে পারে। খোলা জুতা বা স্যান্ডেলের বদলে শক্ত ও আরামদায়ক জুতা নিরাপদ। মাথায় ক্যাপ বা রুমাল থাকলে রোদ–ধুলো সামলাতে সুবিধা হয়।

শারীরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সঙ্গে রাখা উচিত পর্যাপ্ত পানি, হালকা শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং টিস্যু। দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকতে হলে পানিশূন্যতা বা দুর্বলতা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। মোবাইল ফোন পুরো চার্জ দিয়ে নেওয়া এবং সম্ভব হলে পাওয়ার ব্যাংক রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

নিরাপত্তার প্রশ্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ। ভিড়ের ভেতরে থাকলেও চারপাশে কী হচ্ছে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। কোনও অস্বাভাবিক উত্তেজনা, ধাওয়া বা সংঘর্ষের আভাস পেলে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়াই শ্রেয়। অচেনা লোকের উসকানিমূলক কথাবার্তা বা আচরণে জড়িয়ে পড়া উচিত নয়।

যোগাযোগ ব্যবস্থা আগেভাগে ঠিক করে রাখা ভালো। পরিবারের কাউকে জানিয়ে যাওয়া, সহকর্মী বা বন্ধুদের সঙ্গে দলবদ্ধভাবে থাকা এবং জরুরি নম্বর হাতে রাখা প্রয়োজন। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কী করবেন, সে পরিকল্পনাও মাথায় রাখা দরকার।

সবচেয়ে বড় কথা, আইন ও নাগরিক শালীনতা মেনে চলা। রাস্তা অবরোধ, সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করা বা সহিংসতায় জড়ালে আন্দোলনের নৈতিক শক্তি নষ্ট হয়। শান্তিপূর্ণ উপস্থিতিই যে কোনও দাবিকে শক্তিশালী করে।

রাজপথে নামা মানে কেবল স্লোগান দেওয়া নয়; এটি দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণেরও একটি পরীক্ষা। সচেতন প্রস্তুতি, সংযম ও মানবিকতা বজায় রেখে অংশ নিলে মিছিল–মিটিং হতে পারে দাবি জানানোর শক্তিশালী কিন্তু নিরাপদ মাধ্যম।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিল্প-সাহিত্যচর্চা রাজনীতির ঊর্ধ্বে: প্রধানমন্ত্রী

রাজপথে নামার আগে এই বিষয়গুলো ভাবুন

আপডেট সময় : ০৫:২৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজপথে মিছিল–মিটিং, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতির এক পরিচিত চিত্র। দাবি আদায়, প্রতিবাদ কিংবা সংহতির ভাষা হিসেবে বহুদিন ধরেই মানুষ রাস্তায় নামে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মিছিল–মিটিং ঘিরে অনিশ্চয়তা, উত্তেজনা ও ঝুঁকিও বেড়েছে। ফলে আবেগের পাশাপাশি সচেতন প্রস্তুতি এখন সময়ের দাবি। রাজপথে নামার আগে কিছু মৌলিক বিষয় মাথায় রাখলে নিজের নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত করা যায়, তেমনি আন্দোলনের লক্ষ্যও থাকে পরিষ্কার ও শালীন।

প্রথমেই দরকার মানসিক প্রস্তুতি। কেন রাস্তায় নামছেন, এই প্রশ্নের উত্তর নিজের কাছে স্পষ্ট থাকা জরুরি। আবেগ নয়, লক্ষ্য ও যুক্তি থেকেই অংশগ্রহণ হওয়া উচিত। গুজব, উসকানি কিংবা মুহূর্তের উত্তেজনায় সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই আন্দোলনের দাবি, কর্মসূচির সময়সূচি এবং নেতৃত্ব কারা দিচ্ছে, এসব বিষয়ে আগেভাগেই জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

পোশাক নির্বাচনেও সচেতনতা জরুরি। হালকা, আরামদায়ক এবং চলাফেরায় সুবিধাজনক পোশাক পরাই ভালো। অতিরিক্ত গয়না, ভারী মানিব্যাগ-পার্স, দামী গহনা বা এমন কিছু পরা উচিত নয়, যা বিপদের সময় সমস্যা তৈরি করতে পারে। খোলা জুতা বা স্যান্ডেলের বদলে শক্ত ও আরামদায়ক জুতা নিরাপদ। মাথায় ক্যাপ বা রুমাল থাকলে রোদ–ধুলো সামলাতে সুবিধা হয়।

শারীরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সঙ্গে রাখা উচিত পর্যাপ্ত পানি, হালকা শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং টিস্যু। দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকতে হলে পানিশূন্যতা বা দুর্বলতা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। মোবাইল ফোন পুরো চার্জ দিয়ে নেওয়া এবং সম্ভব হলে পাওয়ার ব্যাংক রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

নিরাপত্তার প্রশ্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ। ভিড়ের ভেতরে থাকলেও চারপাশে কী হচ্ছে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। কোনও অস্বাভাবিক উত্তেজনা, ধাওয়া বা সংঘর্ষের আভাস পেলে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়াই শ্রেয়। অচেনা লোকের উসকানিমূলক কথাবার্তা বা আচরণে জড়িয়ে পড়া উচিত নয়।

যোগাযোগ ব্যবস্থা আগেভাগে ঠিক করে রাখা ভালো। পরিবারের কাউকে জানিয়ে যাওয়া, সহকর্মী বা বন্ধুদের সঙ্গে দলবদ্ধভাবে থাকা এবং জরুরি নম্বর হাতে রাখা প্রয়োজন। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কী করবেন, সে পরিকল্পনাও মাথায় রাখা দরকার।

সবচেয়ে বড় কথা, আইন ও নাগরিক শালীনতা মেনে চলা। রাস্তা অবরোধ, সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করা বা সহিংসতায় জড়ালে আন্দোলনের নৈতিক শক্তি নষ্ট হয়। শান্তিপূর্ণ উপস্থিতিই যে কোনও দাবিকে শক্তিশালী করে।

রাজপথে নামা মানে কেবল স্লোগান দেওয়া নয়; এটি দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণেরও একটি পরীক্ষা। সচেতন প্রস্তুতি, সংযম ও মানবিকতা বজায় রেখে অংশ নিলে মিছিল–মিটিং হতে পারে দাবি জানানোর শক্তিশালী কিন্তু নিরাপদ মাধ্যম।