ভারতে অনূর্ধ্ব-২১ বিশ্বকাপ হকিতে সাফল্য পেয়ে আজ বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। ঢাকার বিমানবন্দরে নামতেই আমিরুল-রকিবুলদের উষ্ণ সংবর্ধনা মিলেছে। সাবেক খেলোয়াড় থেকে শুরু করে কর্মকর্তা অনেকেই তাদের সেখানে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
দলটার এমন ফল ছিল অপ্রত্যাশিত। প্রথমবারের মতো চ্যালেঞ্জার ট্রফি জিতে সবাইকে চমকে দিয়েছে তারা। অংশগ্রহণকারী দলগুলোরও দৃষ্টি কেড়েছে। এখন শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা। বিশ্বকাপে ১৮ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা আমিরুল ইসলাম চাইছেন নিয়মিত খেলাটা যেন মাঠে থাকে। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমাদের যে টার্গেট ছিল সেটা পরিপূর্ণ করে এসেছি। যদি খেলাটা রেগুলার থাকে, তাহলে আপনারা দেখবেন আমাদের পারফরম্যান্স আরও শক্ত হবে এবং ভবিষ্যতে আমরা আরও ভালো রেজাল্ট আনবো। আমাদের লিগটাকে সবচেয়ে বেশি জোর দেবো, কারণ লিগের কোনও বিকল্প নেই। এই প্রিমিয়ার লিগ, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ, এই টুর্নামেন্টগুলো যখন হবে, বিদেশি যারা বা টপ লেভেলের প্লেয়াররা আসবে, তখন তাদের থেকে আমরা নতুন নতুন জিনিস শিখতে পারবো এবং সেক্ষেত্রে দেখবেন যে আমাদের দেশের প্লেয়ারদের খেলার মানটা উন্নত হবে।’
বাংলাদেশের ডাচ কোচ সিগফ্রাইড আইকম্যান দলের সবাইকে একটি টিম হিসেবে খেলিয়ে সাফল্য পেয়েছেন। ৬৬ বছর বয়সী কোচ বলেছেন, ‘ছেলেরা অসাধারণ খেলেছে। সবচেয়ে ভালো দিক হলো—তারা পুরোপুরি দল হিসেবে খেলেছে। সবাই কঠোর পরিশ্রম করেছে, কেউ নিজের জন্য খেলেনি। তারা শুধু দলের ফলের জন্য খেলেছে। আমরা সবাই মিলে আক্রমণ করেছি, সবাই মিলে রক্ষণ করেছি। যদি কেউ কিছু করতে না পারে, অন্যরা তার কঠিন কাজটা করে দিয়েছে।’
এই দলের বৈশিষ্ট্য নিয়ে কোচ বলেছেন, ‘এখন সবাই আমিরুলকে নিয়ে কথা বলছে, কিন্তু অনেকে ভুলে যাচ্ছে রকি কতগুলো পেনাল্টি কর্নার আর স্ট্রোক বের করেছে। অন্যান্য খেলোয়াড়রাও পিসি আদায় করেছে। আমাদের দলে ইনজেক্টর, স্টপার, ফ্লিকার আছে এবং সবাই মিলে ভালো করেছে। এটা কোনও একজনের কৃতিত্ব নয়, পুরো দলের ফল। আমার মনে হয় এটাই সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি করেছে। অনেক দিন পর বাংলাদেশ হকি সত্যিকারের একটি পরিবার হয়ে খেলেছে। আগে হলে তারা একে অপরকে দোষ দিতো, চেঁচামেচি করতো। এবার তারা একে অপরকে সাহায্য করেছে, সাপোর্ট করেছে। আমার মনে হয়, এটাই মূল বিষয়।’
এই সাফল্য ধরে রাখা নিয়ে ডাচ কোচ বলেছেন, ‘‘তারা শুধু চ্যালেঞ্জ কাপ জেতেনি, পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। টুর্নামেন্টে থাকা সব দলই বাংলাদেশের কথা বলছিল। কারণ মাঠে এনার্জি ছিল অসাধারণ। হঠাৎ করেই সবাই বাংলাদেশকে চিনেছে। আগে খুব একটা জানতো না, এখন জানে। আর আমাদের খেলোয়াড়দের তারা ভালোবেসেছে। তারা খেলোয়াড়দের খুঁজেছে, জিজ্ঞেস করেছে—‘তোমাদের রহস্য কী?’ শিখতে চাচ্ছে। এমনটা আগে কখনো হয়নি। বড় বড় দেশও জানতে চাইছে—বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা কীভাবে এটা করলো।’’
রিপোর্টারের নাম 





















