মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৫:৩৫ অপরাহ্ন | ৪ঠা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১৯শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

শুধু ‘সরি’ বললেই কি ক্ষমা করা যায়?

  • হালনাগাদ সময় : ০৫:০৬:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

সম্পর্কে ভুল-ত্রুটি কিংবা ভুল-বোঝাবুঝি হওয়া স্বাভাবিক। কখনো নিজের অজান্তেই কাছের কাউকে কষ্ট দিয়ে ফেলি। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত আমরা দুঃখ প্রকাশ করে বলি, ‘সরি’। কিন্তু একটি শব্দেই কি দূর হয় অভিমান? মনোবিজ্ঞান বলছে, সব ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। কারণ, ক্ষমা পাওয়ার জন্য শুধু দুঃখ প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়, নিজের ভুলের দায় নেওয়াও জরুরি।

ধরা যাক, কোনো বন্ধু হঠাৎ আপনার সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা বাতিল করলেন। এতে আপনার মন খারাপ হলো। পরে তিনি শুধু ‘সরি’ বললেন। কিন্তু আপনার প্রত্যাশা হয়তো এর চেয়ে বেশি। আপনি চান, তিনি বুঝুন তার আচরণে আপনি কষ্ট পেয়েছেন। এখানেই সাধারণ ক্ষমা চাওয়া আর আন্তরিকভাবে ভুল স্বীকার করার মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়।

কেন শুধু দুঃখ প্রকাশে কাজ হয় না?

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কেউ কষ্ট পেলে তার কাছে নিজের অনুভূতির স্বীকৃতি পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তিনি চান, অন্য ব্যক্তি বুঝুক তার আচরণে কী ধরনের আঘাত লেগেছে। কিন্তু শুধু মুখে দুঃখ প্রকাশ করলে সেই প্রত্যাশা পূরণ নাও হতে পারে।

মনোবিজ্ঞানী রয় বাউমিস্টার এ ধরনের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে ‘ম্যাগনিটিউড গ্যাপ’ ধারণার কথা বলেছেন। অর্থাৎ, যিনি অন্যকে কষ্ট দিয়েছেন, তিনি নিজের আচরণকে যতটা সাধারণ বা ছোট ঘটনা মনে করেন, ভুক্তভোগীর কাছে সেটি তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে। দুই পক্ষের এই উপলব্ধিগত পার্থক্য থেকেই অনেক সময় ক্ষমা চাওয়ার পরও অভিমান থেকে যায়।

ভুল স্বীকার করাটা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

একটি গবেষণায় ক্ষমা চাওয়ার বিভিন্ন ধরন নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়। অনলাইন গেমে অন্যায় আচরণের শিকার হওয়া অংশগ্রহণকারীদের সামনে চার ধরনের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছিল।

এর মধ্যে ছিল শুধু দুঃখ প্রকাশ, নিজের অন্যায় স্বীকার, ভুল স্বীকারের পাশাপাশি দুঃখ প্রকাশ এবং কোনো প্রতিক্রিয়া না জানানো।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, শুধু দুঃখ প্রকাশের তুলনায় নিজের ভুল স্বীকার করা বেশি কার্যকর। কারণ, এতে কষ্ট পাওয়া ব্যক্তি বুঝতে পারেন যে তার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তাই শুধু ‘আমি দুঃখিত’ বলার পরিবর্তে ‘আমি আপনার সঙ্গে অন্যায় করেছি, আমার আচরণে আপনি কষ্ট পেয়েছেন’—এভাবে নিজের দায় স্বীকার করা বেশি অর্থবহ।

ক্ষমা চাইতে গিয়ে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

অনেক সময় মানুষ ক্ষমা চাইতে গিয়েও এমন কিছু কথা বলেন, যাতে উল্টো পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। যেমন, ‘আপনি রাগ করেছেন বলে দুঃখিত’ কিংবা ‘আমার কথায় কষ্ট পেয়ে থাকলে সরি’।

এ ধরনের বক্তব্যে নিজের ভুলের দায় স্বীকার করার পরিবর্তে অন্য ব্যক্তির প্রতিক্রিয়াকে সামনে আনা হয়। ফলে আন্তরিক ক্ষমা চাওয়ার উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।

মতের অমিল থাকলেও অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন

কোনো ঘটনা নিয়ে দুজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি সব সময় এক হবে, এমন নয়। যে বিষয়টি একজনের কাছে খুব কষ্টের, অন্যজনের কাছে সেটি হয়তো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে মতের অমিল থাকলেও অন্যের অনুভূতিকে সম্মান জানানো সম্ভব।

এ ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে, ‘আমি বিষয়টি আপনার মতো করে দেখিনি। তবে আমার আচরণে যে আপ

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আট বছর পর সাফ ফুটবল টুর্নামেন্ট: বাংলাদেশ কি প্রস্তুত?

04 November 2026

সাভারে শ্রমিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ: পুড়ল ওসির গাড়ি, আহত অর্ধশতাধিক

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

শুধু ‘সরি’ বললেই কি ক্ষমা করা যায়?

হালনাগাদ সময় : ০৫:০৬:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

সম্পর্কে ভুল-ত্রুটি কিংবা ভুল-বোঝাবুঝি হওয়া স্বাভাবিক। কখনো নিজের অজান্তেই কাছের কাউকে কষ্ট দিয়ে ফেলি। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত আমরা দুঃখ প্রকাশ করে বলি, ‘সরি’। কিন্তু একটি শব্দেই কি দূর হয় অভিমান? মনোবিজ্ঞান বলছে, সব ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। কারণ, ক্ষমা পাওয়ার জন্য শুধু দুঃখ প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়, নিজের ভুলের দায় নেওয়াও জরুরি।

ধরা যাক, কোনো বন্ধু হঠাৎ আপনার সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা বাতিল করলেন। এতে আপনার মন খারাপ হলো। পরে তিনি শুধু ‘সরি’ বললেন। কিন্তু আপনার প্রত্যাশা হয়তো এর চেয়ে বেশি। আপনি চান, তিনি বুঝুন তার আচরণে আপনি কষ্ট পেয়েছেন। এখানেই সাধারণ ক্ষমা চাওয়া আর আন্তরিকভাবে ভুল স্বীকার করার মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়।

কেন শুধু দুঃখ প্রকাশে কাজ হয় না?

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কেউ কষ্ট পেলে তার কাছে নিজের অনুভূতির স্বীকৃতি পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তিনি চান, অন্য ব্যক্তি বুঝুক তার আচরণে কী ধরনের আঘাত লেগেছে। কিন্তু শুধু মুখে দুঃখ প্রকাশ করলে সেই প্রত্যাশা পূরণ নাও হতে পারে।

মনোবিজ্ঞানী রয় বাউমিস্টার এ ধরনের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে ‘ম্যাগনিটিউড গ্যাপ’ ধারণার কথা বলেছেন। অর্থাৎ, যিনি অন্যকে কষ্ট দিয়েছেন, তিনি নিজের আচরণকে যতটা সাধারণ বা ছোট ঘটনা মনে করেন, ভুক্তভোগীর কাছে সেটি তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে। দুই পক্ষের এই উপলব্ধিগত পার্থক্য থেকেই অনেক সময় ক্ষমা চাওয়ার পরও অভিমান থেকে যায়।

ভুল স্বীকার করাটা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

একটি গবেষণায় ক্ষমা চাওয়ার বিভিন্ন ধরন নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়। অনলাইন গেমে অন্যায় আচরণের শিকার হওয়া অংশগ্রহণকারীদের সামনে চার ধরনের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছিল।

এর মধ্যে ছিল শুধু দুঃখ প্রকাশ, নিজের অন্যায় স্বীকার, ভুল স্বীকারের পাশাপাশি দুঃখ প্রকাশ এবং কোনো প্রতিক্রিয়া না জানানো।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, শুধু দুঃখ প্রকাশের তুলনায় নিজের ভুল স্বীকার করা বেশি কার্যকর। কারণ, এতে কষ্ট পাওয়া ব্যক্তি বুঝতে পারেন যে তার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তাই শুধু ‘আমি দুঃখিত’ বলার পরিবর্তে ‘আমি আপনার সঙ্গে অন্যায় করেছি, আমার আচরণে আপনি কষ্ট পেয়েছেন’—এভাবে নিজের দায় স্বীকার করা বেশি অর্থবহ।

ক্ষমা চাইতে গিয়ে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

অনেক সময় মানুষ ক্ষমা চাইতে গিয়েও এমন কিছু কথা বলেন, যাতে উল্টো পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। যেমন, ‘আপনি রাগ করেছেন বলে দুঃখিত’ কিংবা ‘আমার কথায় কষ্ট পেয়ে থাকলে সরি’।

এ ধরনের বক্তব্যে নিজের ভুলের দায় স্বীকার করার পরিবর্তে অন্য ব্যক্তির প্রতিক্রিয়াকে সামনে আনা হয়। ফলে আন্তরিক ক্ষমা চাওয়ার উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।

মতের অমিল থাকলেও অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন

কোনো ঘটনা নিয়ে দুজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি সব সময় এক হবে, এমন নয়। যে বিষয়টি একজনের কাছে খুব কষ্টের, অন্যজনের কাছে সেটি হয়তো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে মতের অমিল থাকলেও অন্যের অনুভূতিকে সম্মান জানানো সম্ভব।

এ ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে, ‘আমি বিষয়টি আপনার মতো করে দেখিনি। তবে আমার আচরণে যে আপ

Share this news as a Photo Card