মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন | ৪ঠা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১৯শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করলে জনগণের যাওয়ার জায়গা থাকে না: ডা. জাহেদ উর রহমান

  • হালনাগাদ সময় : ০৩:০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হলে সাধারণ নাগরিকের আর যাওয়ার কোনো জায়গা থাকে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি শুধু নির্বাচন নিয়ে কথা বলে—এমন সমালোচনা করা হলে তা জনগণের ভোটাধিকারকেই অস্বীকার করার শামিল।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর তৃতীয় পর্বে এসব কথা বলেন তিনি। ‘তিয়াত্তরের নির্বাচন: ভোটচুরির আওয়ামী মডেলের সূচনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সেমিনারের সঞ্চালনা করেন লেখক ও গবেষক তুহিন খান।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অনেকেই সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি শুধু নির্বাচন নির্বাচন করে। কিন্তু এ ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকারকেই অস্বীকার করা হয়।

তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান থাকলেও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে তিনি গণতান্ত্রিক চর্চাকে ধ্বংস করেছিলেন।

১৯৭৩ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের পরাজিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিল না উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তারপরও তিনি ভোট কারচুপি করেছিলেন। অন্যদিকে শেখ হাসিনা জানতেন, তার সামনে এমন একটি বিরোধী দল রয়েছে, যাদের সঙ্গে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি হেরে যাবেন। এ কারণে ক্ষমতায় টিকে থাকতে তিনি নির্বাচনগুলোকে কুক্ষিগত করেছিলেন।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা। তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে বাকেরগঞ্জ-৪ আসনে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাসদের প্রার্থী আজহার উদ্দিন আহমেদ। নির্বাচনের আগে তাকে অপহরণ করা হয় এবং ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে বিজয়ী করা হয়।

তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের রক্ত ও লড়াইয়ের ইতিহাসকে আওয়ামী লীগ কুক্ষিগত করে একচ্ছত্র দাবিদার হয়ে উঠেছিল। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনেও সেই মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। তখন আওয়ামী লীগ শুধু একদলীয় শাসন নয়, বরং এক ব্যক্তির শাসনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করতে চেয়েছিল। এর ধারাবাহিকতা দেখা গেছে শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলেও। শেখ মুজিব সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, দেশে কোনো বিরোধী দল নেই। একইভাবে শেখ হাসিনাও প্রচার করে গেছেন, তার কোনো বিকল্প নেই।

আরেক আলোচক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর একবার শুনেছিলেন, শেখ মুজিবুর রহমান দেশের অভিভাবক হিসেবে রাজনীতিতে অংশ নেবেন না। কিন্তু পরে দেখা গেল, তিনি ফিরে এসে তাজউদ্দীন আহমদকে সরিয়ে সরকারে যুক্ত হলেন। এরপর সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নিলেন। সংবিধানের প্রথম পরীক্ষা ছিল জাতীয় নির্বাচন। কিন্তু সেই নির্বাচন হয়েছিল একদলীয় পদ্ধতিতে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ গঠিত হয়েছিল বিরোধী দল ছাড়াই, যা গণতন্ত্রের জন্য অসম্মানজনক।

তিনি বলেন, অনেকেই দাবি করেন, বঙ্গবন্ধু নিজে এসব করতে বলেননি। কিন্তু নিজ দল ও প্রশাসনের দায়িত্বে থেকে এ দায় তিনি এড়াতে পারেন না।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে শ্রমিক আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করছে ভারত: রণধীর জয়সওয়াল

03 November 2026

ইউনিয়ন পরিষদে দফাদারের নতুন নাম হলো ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করলে জনগণের যাওয়ার জায়গা থাকে না: ডা. জাহেদ উর রহমান

হালনাগাদ সময় : ০৩:০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হলে সাধারণ নাগরিকের আর যাওয়ার কোনো জায়গা থাকে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি শুধু নির্বাচন নিয়ে কথা বলে—এমন সমালোচনা করা হলে তা জনগণের ভোটাধিকারকেই অস্বীকার করার শামিল।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর তৃতীয় পর্বে এসব কথা বলেন তিনি। ‘তিয়াত্তরের নির্বাচন: ভোটচুরির আওয়ামী মডেলের সূচনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সেমিনারের সঞ্চালনা করেন লেখক ও গবেষক তুহিন খান।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অনেকেই সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি শুধু নির্বাচন নির্বাচন করে। কিন্তু এ ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকারকেই অস্বীকার করা হয়।

তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান থাকলেও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে তিনি গণতান্ত্রিক চর্চাকে ধ্বংস করেছিলেন।

১৯৭৩ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের পরাজিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিল না উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তারপরও তিনি ভোট কারচুপি করেছিলেন। অন্যদিকে শেখ হাসিনা জানতেন, তার সামনে এমন একটি বিরোধী দল রয়েছে, যাদের সঙ্গে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি হেরে যাবেন। এ কারণে ক্ষমতায় টিকে থাকতে তিনি নির্বাচনগুলোকে কুক্ষিগত করেছিলেন।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা। তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে বাকেরগঞ্জ-৪ আসনে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাসদের প্রার্থী আজহার উদ্দিন আহমেদ। নির্বাচনের আগে তাকে অপহরণ করা হয় এবং ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে বিজয়ী করা হয়।

তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের রক্ত ও লড়াইয়ের ইতিহাসকে আওয়ামী লীগ কুক্ষিগত করে একচ্ছত্র দাবিদার হয়ে উঠেছিল। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনেও সেই মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। তখন আওয়ামী লীগ শুধু একদলীয় শাসন নয়, বরং এক ব্যক্তির শাসনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করতে চেয়েছিল। এর ধারাবাহিকতা দেখা গেছে শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলেও। শেখ মুজিব সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, দেশে কোনো বিরোধী দল নেই। একইভাবে শেখ হাসিনাও প্রচার করে গেছেন, তার কোনো বিকল্প নেই।

আরেক আলোচক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর একবার শুনেছিলেন, শেখ মুজিবুর রহমান দেশের অভিভাবক হিসেবে রাজনীতিতে অংশ নেবেন না। কিন্তু পরে দেখা গেল, তিনি ফিরে এসে তাজউদ্দীন আহমদকে সরিয়ে সরকারে যুক্ত হলেন। এরপর সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নিলেন। সংবিধানের প্রথম পরীক্ষা ছিল জাতীয় নির্বাচন। কিন্তু সেই নির্বাচন হয়েছিল একদলীয় পদ্ধতিতে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ গঠিত হয়েছিল বিরোধী দল ছাড়াই, যা গণতন্ত্রের জন্য অসম্মানজনক।

তিনি বলেন, অনেকেই দাবি করেন, বঙ্গবন্ধু নিজে এসব করতে বলেননি। কিন্তু নিজ দল ও প্রশাসনের দায়িত্বে থেকে এ দায় তিনি এড়াতে পারেন না।

Share this news as a Photo Card