শ্রমিকদের নানাভাবে ভুল বুঝিয়ে ও উসকানি দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশ-বিদেশের পরাজিত শক্তি মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘দেশের পরাজিত শক্তি প্রতিবেশী দেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের উসকানি দিচ্ছে। পাশাপাশি দেশের ভেতরের একটি চক্রও সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে এসব অপতৎপরতা রুখে দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তিকে সুসংহত করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
রিজভী আরও জানান, শ্রমিক অসন্তোষ তৈরির পেছনে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এমনকি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব অপতৎপরতার কথা স্বীকারও করেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র আট মাসের মাথায় কেন পুনরায় বিপ্লবের কথা বলা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। যেসব বিষয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়, তা না করে লংমার্চের নামে মানুষকে উস্কে দেওয়া নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারপ্রধান বিভিন্ন দেশ সফরের মাধ্যমে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করছেন। এমন প্রেক্ষাপটে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা না চালিয়ে সবার দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।’
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব আমাদের ওপরও পড়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিকল্প দেশগুলো থেকে জ্বালানি আমদানির দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর গণতন্ত্রের জন্য রাজপথে লড়াই করা বিএনপি সহনশীলতার রাজনীতিতেই বিশ্বাস করে।’
























