ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এবং একটি নতুন বিকল্প সরকার গঠনের লক্ষ্যে দেশটির বিরোধী শিবিরের দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা ও আলোচনা জোরালো হয়ে উঠেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকটকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধী জোটের প্রভাবশালী দুই নেতা—সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং দ্য ডেমোক্র্যাটস পার্টির চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান।
সোমবার (২ নভেম্বর) দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নেতানিয়াহুবিরোধী চারটি প্রধান জায়নবাদী দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘চেঞ্জ ব্লক’ সরকার গঠনের সম্ভাব্য বিভিন্ন সমীকরণ নিয়ে গভীর দর-কষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ১২০ আসনের নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে তাদের সামনে এখনো অনেক বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে তাদের হয়তো আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে হবে, অথবা অতি-অর্থোডক্স ইহুদি দল কিংবা স্বয়ং নেতানিয়াহুর দল লিকুদের সঙ্গে সমঝোতার মতো জটিল ও অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
নির্বাচনে বিরোধী ব্লকের মধ্যে সর্বোচ্চ ২১টি আসন পেয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন আইজেনকট। অন্যদিকে বেনেটের নেতৃত্বাধীন ‘বি’ইয়াচাদ’ পার্টি পেয়েছে ১২টি এবং ইয়ার গোলানের দল ডেমোক্র্যাটস পেয়েছে ৮টি আসন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং জনরায়ের ভিত্তিতেই বেনেট ও গোলান উভয়েই আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজোগের কাছে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে জোটের অপর শরিক দল ‘ইসরায়েল বেইতেনু’র কট্টর জাতীয়তাবাদী নেতা আভিগদর লিবারম্যানের সঙ্গে আইজেনকটের আলোচনায় কিছু বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। আরব দলগুলোর সরাসরি বা পরোক্ষ সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের তীব্র বিরোধিতা করছেন লিবারম্যান। তাঁর দাবি, প্রচারণার সময় আরব দলগুলোর সমর্থনের বিষয়টি সামনে আনায় বিরোধী শিবিরের ভোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে সরকার গঠনের আলোচনার সমান্তরালে বিরোধী জোটের তাৎক্ষণিক কৌশলগত লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে নেসেটের স্পিকার আমির ওহানাকে পদ থেকে অপসারণ করা। ওহানা নেতানিয়াহুর দল লিকুদের অত্যন্ত প্রভাবশালী সদস্য। পার্লামেন্টের দৈনন্দিন কার্যসূচি, আইন প্রণয়ন ও স্থায়ী কমিটিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই বিরোধীরা নতুন স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বলয় থেকে আইজেনকটকে কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, স্পিকার ওহানাকে সরানোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে লিকুদ পার্টির সঙ্গে কোনো ধরনের জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করা হবে না। তবে আইজেনকটের ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে, তাঁরা স্পিকার পরিবর্তনের উদ্যোগ থেকে পিছু হটবেন না এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে কোনো ধরনের সরকারে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এছাড়া বিতর্কিত নিয়োগের পর আদালতের আদেশে ঝুলে থাকা ‘রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক’ পদে নতুন করে ভোট আয়োজনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী জোট। সব মিলিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জাদুসংখ্যা মেলানো এবং আরব দলগুলোর অবস্থান নিয়ে জটিল সমীকরণে আটকে রয়েছে নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ।

























