দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার চর্চা ও অভ্যন্তরীণ জবাবদিহির ঘাটতির কারণে রাজনৈতিক সহিংসতার ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত গত ১৩ বছর আট মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ৪ হাজার ২৮০টি ঘটনায় অন্তত ৭৪৬ জন নিহত এবং ৪৬ হাজার ৩৫১ জন আহত হয়েছেন।
এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসেই রাজনৈতিক সহিংসতায় ৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৫৯ জন।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ গবেষণা তৈরি করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক সহিংসতার ক্ষেত্রে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতাই সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। দলগুলোর মধ্যকার মুখোমুখি সংঘর্ষের চেয়েও দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘাত মারাত্মক আকার ধারণ করছে। পর্যালোচিত সময়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই নিহত হয়েছেন ৩১৮ জন এবং আহত হয়েছেন ১৮ হাজারের বেশি মানুষ।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সুশাসনের অভাব প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ও গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে না পারে, তবে সমাজে সংঘাত ও সহিংসতার সংস্কৃতি বন্ধ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
























