তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান বিক্ষোভ ও অসন্তোষ নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তাঁর পূর্বনির্ধারিত সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর বাতিল করেছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, পোশাকশ্রমিকদের চলমান অসন্তোষ ও মজুরি বৃদ্ধির দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য ছয় থেকে সাতজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে নিজ কার্যালয়ে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী।
মাগরিবের নামাজের পর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
এর আগে, রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনায় মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। এরপর দুপুর ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী দুদিন আগেই সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পেতে দেরি হওয়ায় মজুরি বোর্ড গঠনে কিছুটা বিলম্ব হয়।
সচিবালয়ে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়ে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সরকার আশা করছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়া গতি পাবে। শ্রমিকদের অন্যতম মূল দাবি মেনে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে নিজ নিজ কারখানায় কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
কিছু কারখানায় অপ্রয়োজনীয় ছুটি ঘোষণার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই মজুরি বোর্ড ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু কিছু কারখানায় ভুল তথ্য ছড়িয়ে শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে। চলমান আন্দোলনের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানকে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।






















