ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

গোবিন্দগঞ্জে দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মহিদুল ইসলাম ওরফে আলম সরদার (৪৮) নামে এক চা দোকানিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে বেলাল মিয়া (৪৫) ও সন্তোষ (৫৫) নামের দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
 
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের একটি ফাঁকা ভিটে থেকে মহিদুলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
 
নিহত মহিদুল একই গ্রামের নজির সরদারের ছেলে। তিনি স্থানীয় শিবপুর বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন। আটক দুইজনও একই গ্রামের বাসিন্দা।
 
স্থানীয়রা জানান, সকালে রামচন্দ্রপুর গ্রামের একটি নির্জন ভিটায় মহিদুলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর দিলে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তার মাথা ও শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। স্থানীয়ভাবে মহিদুল মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও জানা যায়।
 
স্বজনরা জানান, বুধবার রাতে চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরেননি মহিদুল। রাতভর খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান তারা।
 
স্বজনদের অভিযোগ, গভীর রাতে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এতে স্থানীয় বেলালসহ কয়েকজন জড়িত বলে দাবি করেন তারা। হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
 
নিহতের স্ত্রী শেফালি বেগম বলেন, ‘মহিদুলের সঙ্গে বেলালের সম্পর্ক ভালো ছিল। তবে বেলাল নিয়মিত মাদক ও গাঁজা সেবন করতেন। কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।’
 
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে— এসব আঘাত থেকে রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
 
তিনি আরও জানান, নিহত মহিদুলের বিরুদ্ধে মাদকসহ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছে। হত্যার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্রুতই প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবানন-ইসরাইল সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা: ইসরাইলি সেনাপ্রধানের বক্তব্য

গোবিন্দগঞ্জে দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট সময় : ০৪:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মহিদুল ইসলাম ওরফে আলম সরদার (৪৮) নামে এক চা দোকানিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে বেলাল মিয়া (৪৫) ও সন্তোষ (৫৫) নামের দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
 
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের একটি ফাঁকা ভিটে থেকে মহিদুলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
 
নিহত মহিদুল একই গ্রামের নজির সরদারের ছেলে। তিনি স্থানীয় শিবপুর বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন। আটক দুইজনও একই গ্রামের বাসিন্দা।
 
স্থানীয়রা জানান, সকালে রামচন্দ্রপুর গ্রামের একটি নির্জন ভিটায় মহিদুলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর দিলে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তার মাথা ও শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। স্থানীয়ভাবে মহিদুল মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও জানা যায়।
 
স্বজনরা জানান, বুধবার রাতে চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরেননি মহিদুল। রাতভর খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান তারা।
 
স্বজনদের অভিযোগ, গভীর রাতে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এতে স্থানীয় বেলালসহ কয়েকজন জড়িত বলে দাবি করেন তারা। হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
 
নিহতের স্ত্রী শেফালি বেগম বলেন, ‘মহিদুলের সঙ্গে বেলালের সম্পর্ক ভালো ছিল। তবে বেলাল নিয়মিত মাদক ও গাঁজা সেবন করতেন। কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।’
 
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে— এসব আঘাত থেকে রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
 
তিনি আরও জানান, নিহত মহিদুলের বিরুদ্ধে মাদকসহ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছে। হত্যার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্রুতই প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।