ফিলিস্তিনের পক্ষে সোচ্চার সাংবাদিক, অধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা তাদের পোস্টের প্রচার কমিয়ে দিচ্ছে, অ্যাকাউন্ট স্থগিত করছে এবং লাইভ সম্প্রচারের সুযোগ সীমিত করছে। এ ধরনের অভিযোগের সপক্ষে গত পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি ডিজিটাল অধিকার সংগঠন ৭ আমলেহ।
সংগঠনটি বলছে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের ডিজিটাল উপস্থিতি ও মতপ্রকাশের সুযোগ কমিয়ে দেওয়ার একটি কাঠামোগত প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ‘দ্য প্ল্যাটফর্মসাইড অব প্যালেস্টাইন ২০২১–২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি ইউট্রেখট বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা দলের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করেছে ৭ আমলেহ। এতে সংগঠনটির ডিজিটাল অধিকার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ৭ওআর–এ নথিভুক্ত ৩ হাজার ৫০০টির বেশি যাচাই করা ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে এই প্রবণতাকে বোঝাতে ‘প্ল্যাটফর্মসাইড’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যার অর্থ হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি, দৃশ্যমানতা ও অংশগ্রহণকে কাঠামোগতভাবে মুছে দেওয়া।
জেরুজালেমভিত্তিক সাংবাদিক ফাতেন এলওয়ানের অভিজ্ঞতা এই অভিযোগের একটি উদাহরণ। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ৩ লাখের বেশি এবং তিনি নিয়মিত ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি ও ইসরাইলি দখলদারত্বের চিত্র তুলে ধরেন। কিন্তু বর্তমানে তার পোস্ট সাধারণত কয়েক শ মানুষের বেশি কাছে পৌঁছায় না। ২০২৬ সালের এপ্রিলে দুই মাসের স্থগিতাদেশের পর হঠাৎ তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হয় এবং তিনি সমুদ্রের ধারে হাঁটার একটি ভিডিও স্টোরিতে প্রকাশ করেন, যা প্রায় ৩০ হাজারবার দেখা হয়। কিন্তু মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে পরের স্টোরিগুলোর দর্শক নেমে আসে কয়েক শতে। এলওয়ানের ধারণা, ফিলিস্তিনপন্থি বক্তব্যের কারণেই তার অ্যাকাউন্টের প্রচার কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘোষণা ছাড়াই নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর পোস্টের পরিসর কমিয়ে দেওয়াকে সাধারণত ‘শ্যাডো ব্যান’ বলা হয়। এলওয়ান আল–জাজিরাকে বলেন, অনেকেই তাকে জানিয়েছেন, তার নাম লিখে সরাসরি খোঁজ না করলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তার কথায়, ‘আমি যেন আর অস্তিত্বই রাখি না।’ ২০২৩ সালের শেষ দিকে প্রথমবার তার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 




















