দীর্ঘ ১৬ বছর আগের আলোচিত পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। কমিশনের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান দাবি করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা দীর্ঘ সময় ধরে হয়েছিল এবং এর সঙ্গে ‘ভারতীয় যোগসাজশ’ থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তদন্ত কমিশনের প্রধান ফজলুর রহমান জানান, এ হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ছিল বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিডিআর) কে দুর্বল করে দেওয়া এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, “তৎকালীন ভারত চেয়েছিল বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে আর তৎকালীন সরকার ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিল।” ফজলুর রহমান আরও বলেন, এই ষড়যন্ত্র ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে থেকে শুরু হয়েছিল এবং এটি দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে।
পিলখানা হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কমিশন প্রধান যাদের নাম উল্লেখ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, শেখ সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, সাহারা খাতুন, জেনারেল তারেক সিদ্দিকী, তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ, এবং তৎকালীন ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল আকবর। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ছিল এবং এর পেছনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবুজ সংকেত রয়েছে। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে সরাসরি ভূমিকা রাখে এবং সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস ‘প্রধান সমন্বয়কের’ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
প্রতিবেদনে ‘বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততার’ প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে, যেখানে প্রতিবেশী দেশ বলতে কমিশন প্রধান সরাসরি ভারতকে বুঝিয়েছেন। ফজলুর রহমান উল্লেখ করেন, “জেনারেল মঈন তার বক্তব্যে বলেছেন, তিনি এখানে ‘অ্যাকশন’ করলে ভারত এখানে ‘ইন্টারভেইন’ করত।” এছাড়া তিনি জানান, ওই সময় প্রায় ৯২১ জন ভারতীয় দেশে এসেছিল, যার মধ্যে ৬৭ জন ভারতীয়র হিসাব মিলছে না।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারিতে পিলখানায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে। কমিশন গঠনের ১১ মাসের মাথায় দেওয়া এই প্রতিবেদন তৈরি করতে মোট ২৪৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কমিশন প্রধান ফজলুর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্য কারণগুলোর মধ্যে বিডিআর-এর মধ্যে ‘ডাল-ভাত কর্মসূচি’ নিয়ে ক্ষোভ, ডিউটি বেড়ে যাওয়া এবং বিডিআর সদস্যদের মধ্যে সেনাবাহিনীর অফিসারদের প্রতি তাচ্ছিল্যের কথাও উল্লেখ করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























