মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

স্মার্টফোন ব্যবহারে অসাবধানতা: সাইবার ঝুঁকি বাড়ছে

প্রযুক্তির এই যুগে স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু অসাবধানতাবশত কিছু সাধারণ ভুলের কারণে আমরা অজান্তেই সাইবার অপরাধী ও হ্যাকারদের হাতে নিজেদের গোপন তথ্য তুলে দিচ্ছি। সম্প্রতি বিকাশ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরি, ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়া বা ব্ল্যাকমেইলের মতো ঘটনাগুলোর পেছনে ব্যবহারকারীর অসাবধানতাই প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে ১২টি ভুল অভ্যাস প্রায়ই করে থাকি, সেগুলো হলো:

ফ্রি পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার: পাবলিক প্লেসে ফ্রি ওয়াই-ফাই পেলে আমরা প্রায়শই ব্যাংকিং বা কেনাকাটার মতো সংবেদনশীল কাজ করে ফেলি। কিন্তু এই উন্মুক্ত নেটওয়ার্কগুলো হ্যাকারদের জন্য সহজ লক্ষ্য। ‘ম্যান-ইন-দ্য-মিডল’ টেকনিক ব্যবহার করে তারা সহজেই আমাদের পাসওয়ার্ড ও পিন নম্বর জেনে নিতে পারে।

ফোন পানিতে ভিজলে চাল ব্যবহার: ফোন পানিতে ভিজলে চালের মধ্যে রেখে দেওয়া একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। চালের সূক্ষ্ম ধুলাবালি ফোনের ভেতরের অংশে ঢুকে আর্দ্রতার সঙ্গে মিশে স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। ফোন ভিজলে দ্রুত বন্ধ করে সুতি কাপড়ে মুছে এয়ারড্রায়ারে ঠান্ডা বাতাসে শুকানোই সঠিক উপায়।

পেছনের পকেটে ফোন রাখা: প্যান্টের পেছনের পকেটে ফোন রাখলে অসাবধানতাবশত বসে পড়লে ফোনের ডিসপ্লে ভেঙে যেতে পারে বা বডি বাঁকা হয়ে যেতে পারে। এছাড়া, ভিড়ের মধ্যে পকেটমারদের জন্য এটি সহজ লক্ষ্যবস্তু।

থার্ড পার্টি APK ইনস্টল: প্লে-স্টোরে পাওয়া যায় না এমন অ্যাপ বিনা মূল্যে পাওয়ার লোভে গুগল থেকে APK ফাইল ডাউনলোড করে ইনস্টল করা ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ফাইলের ভেতরে ক্ষতিকর ‘ট্রোজান’ বা ‘স্পাইওয়্যার’ লুকানো থাকতে পারে, যা আমাদের অজান্তেই ফোনের পাসওয়ার্ড চুরি করে নেয়।

রাতে ফোন চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়া: যদিও আধুনিক ফোনে অটো-কাট অফ সুবিধা আছে, তবুও সারা রাত সকেটে যুক্ত থাকলে ব্যাটারির ওপর চাপ ও তাপ তৈরি হয়, যা এর কার্যক্ষমতা দ্রুত কমিয়ে দেয়।

অ্যাপ নামালেই ‘Allow’ চেপে দেওয়া: অনেক সময় অ্যাপ ইনস্টল করার সময় সব পারমিশন, যেমন – লোকেশন, কন্টাক্টস বা মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে দিই, যা আমাদের তথ্যের গোপনীয়তা নষ্ট করতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্মার্টফোন ব্যবহারে অসাবধানতা: সাইবার ঝুঁকি বাড়ছে

আপডেট সময় : ০২:১৬:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

প্রযুক্তির এই যুগে স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু অসাবধানতাবশত কিছু সাধারণ ভুলের কারণে আমরা অজান্তেই সাইবার অপরাধী ও হ্যাকারদের হাতে নিজেদের গোপন তথ্য তুলে দিচ্ছি। সম্প্রতি বিকাশ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরি, ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়া বা ব্ল্যাকমেইলের মতো ঘটনাগুলোর পেছনে ব্যবহারকারীর অসাবধানতাই প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে ১২টি ভুল অভ্যাস প্রায়ই করে থাকি, সেগুলো হলো:

ফ্রি পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার: পাবলিক প্লেসে ফ্রি ওয়াই-ফাই পেলে আমরা প্রায়শই ব্যাংকিং বা কেনাকাটার মতো সংবেদনশীল কাজ করে ফেলি। কিন্তু এই উন্মুক্ত নেটওয়ার্কগুলো হ্যাকারদের জন্য সহজ লক্ষ্য। ‘ম্যান-ইন-দ্য-মিডল’ টেকনিক ব্যবহার করে তারা সহজেই আমাদের পাসওয়ার্ড ও পিন নম্বর জেনে নিতে পারে।

ফোন পানিতে ভিজলে চাল ব্যবহার: ফোন পানিতে ভিজলে চালের মধ্যে রেখে দেওয়া একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। চালের সূক্ষ্ম ধুলাবালি ফোনের ভেতরের অংশে ঢুকে আর্দ্রতার সঙ্গে মিশে স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। ফোন ভিজলে দ্রুত বন্ধ করে সুতি কাপড়ে মুছে এয়ারড্রায়ারে ঠান্ডা বাতাসে শুকানোই সঠিক উপায়।

পেছনের পকেটে ফোন রাখা: প্যান্টের পেছনের পকেটে ফোন রাখলে অসাবধানতাবশত বসে পড়লে ফোনের ডিসপ্লে ভেঙে যেতে পারে বা বডি বাঁকা হয়ে যেতে পারে। এছাড়া, ভিড়ের মধ্যে পকেটমারদের জন্য এটি সহজ লক্ষ্যবস্তু।

থার্ড পার্টি APK ইনস্টল: প্লে-স্টোরে পাওয়া যায় না এমন অ্যাপ বিনা মূল্যে পাওয়ার লোভে গুগল থেকে APK ফাইল ডাউনলোড করে ইনস্টল করা ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ফাইলের ভেতরে ক্ষতিকর ‘ট্রোজান’ বা ‘স্পাইওয়্যার’ লুকানো থাকতে পারে, যা আমাদের অজান্তেই ফোনের পাসওয়ার্ড চুরি করে নেয়।

রাতে ফোন চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়া: যদিও আধুনিক ফোনে অটো-কাট অফ সুবিধা আছে, তবুও সারা রাত সকেটে যুক্ত থাকলে ব্যাটারির ওপর চাপ ও তাপ তৈরি হয়, যা এর কার্যক্ষমতা দ্রুত কমিয়ে দেয়।

অ্যাপ নামালেই ‘Allow’ চেপে দেওয়া: অনেক সময় অ্যাপ ইনস্টল করার সময় সব পারমিশন, যেমন – লোকেশন, কন্টাক্টস বা মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে দিই, যা আমাদের তথ্যের গোপনীয়তা নষ্ট করতে পারে।