মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

ইতিহাসের অপ্রিয় শিক্ষা: যে শাসনব্যবস্থা জনগণের সম্মতি হারায়, তার পরিণতি সংকটময়

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা প্রথম শাসক যিনি জনতার তীব্র গণরোষের কারণে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের সেই গণঅভ্যুত্থানে শুধু তিনিই নন, জাতীয় মসজিদের খতিবসহ পুরো সংসদ এবং স্থানীয় সরকারের এমনকি ক্ষুদ্রতম অংশও উধাও হয়ে যায়। জনতার রোষ থেকে বাঁচতে পালিয়ে গিয়েছিলেন পুলিশ বাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় সব সদস্য।

ইতিহাসের একটি অপ্রিয় শিক্ষা হলো, যে শাসনব্যবস্থা জনগণের সম্মতি, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক বহুত্ববাদকে অস্বীকার করে, তার স্থায়িত্ব যত দীর্ঘই হোক, তার পরিণতি শেষ পর্যন্ত সংকটময় হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমানের শেষ শাসনকাল এবং শেখ হাসিনার শেষ শাসনকাল, দুটি ভিন্ন সময়ের হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে, যা বর্তমান প্রজন্মকে রাজনৈতিক শিক্ষা দেয়।

নির্বাচনি বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সঙ্গে ২০১৪, ২০১৮ কিংবা ২০২৪ সালের নির্বাচনের তুলনা করা যায়। ১৯৭৩ সালের নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরের প্রথম নির্বাচন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ৭ মার্চ ১৯৭৩। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসনে বিজয়ী হয়; ১১টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে, তাদের প্রচারণায় বাধা ও কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। শেখ মুজিব, সৈয়দ নজরুল, জিল্লুর রহমান, তোফায়েলসহ অনেকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন—অর্থাৎ তাঁদের বিপরীতে কাউকে দাঁড়াতেই দেওয়া হয়নি। ভোলা থেকে অপহরণ করা হয়েছিল মুজিবের বিপক্ষে দাঁড়ানো প্রার্থী আজহারউদ্দীনকে, যিনি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর-বিক্রমের বাবা।

২০১৩ সালের একতরফা নির্বাচনে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচন বর্জন করে। তাদের প্রধান দাবি ছিল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, যা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল করে দেওয়া হয়। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের উপস্থিতি সীমিত হয়ে পড়ে; পরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের ভূমিকা নেয়, যদিও দলটি সরকারেও অংশ ছিল। ২০১৮ সালের ‘রাতের ভোটে’ এই একতরফা সরকার আরেক ধাপ অগ্রসর হয়ে আগের রাতেই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না: মামুনুল হক

ইতিহাসের অপ্রিয় শিক্ষা: যে শাসনব্যবস্থা জনগণের সম্মতি হারায়, তার পরিণতি সংকটময়

আপডেট সময় : ০২:০২:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা প্রথম শাসক যিনি জনতার তীব্র গণরোষের কারণে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের সেই গণঅভ্যুত্থানে শুধু তিনিই নন, জাতীয় মসজিদের খতিবসহ পুরো সংসদ এবং স্থানীয় সরকারের এমনকি ক্ষুদ্রতম অংশও উধাও হয়ে যায়। জনতার রোষ থেকে বাঁচতে পালিয়ে গিয়েছিলেন পুলিশ বাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় সব সদস্য।

ইতিহাসের একটি অপ্রিয় শিক্ষা হলো, যে শাসনব্যবস্থা জনগণের সম্মতি, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক বহুত্ববাদকে অস্বীকার করে, তার স্থায়িত্ব যত দীর্ঘই হোক, তার পরিণতি শেষ পর্যন্ত সংকটময় হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমানের শেষ শাসনকাল এবং শেখ হাসিনার শেষ শাসনকাল, দুটি ভিন্ন সময়ের হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে, যা বর্তমান প্রজন্মকে রাজনৈতিক শিক্ষা দেয়।

নির্বাচনি বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সঙ্গে ২০১৪, ২০১৮ কিংবা ২০২৪ সালের নির্বাচনের তুলনা করা যায়। ১৯৭৩ সালের নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরের প্রথম নির্বাচন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ৭ মার্চ ১৯৭৩। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসনে বিজয়ী হয়; ১১টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে, তাদের প্রচারণায় বাধা ও কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। শেখ মুজিব, সৈয়দ নজরুল, জিল্লুর রহমান, তোফায়েলসহ অনেকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন—অর্থাৎ তাঁদের বিপরীতে কাউকে দাঁড়াতেই দেওয়া হয়নি। ভোলা থেকে অপহরণ করা হয়েছিল মুজিবের বিপক্ষে দাঁড়ানো প্রার্থী আজহারউদ্দীনকে, যিনি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর-বিক্রমের বাবা।

২০১৩ সালের একতরফা নির্বাচনে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচন বর্জন করে। তাদের প্রধান দাবি ছিল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, যা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল করে দেওয়া হয়। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের উপস্থিতি সীমিত হয়ে পড়ে; পরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের ভূমিকা নেয়, যদিও দলটি সরকারেও অংশ ছিল। ২০১৮ সালের ‘রাতের ভোটে’ এই একতরফা সরকার আরেক ধাপ অগ্রসর হয়ে আগের রাতেই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলে।