মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের দুই বছর: অন্তরালের সিদ্ধান্ত, সংকট ও সাহসিকতার স্মারক

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লব ছিল আপামর ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত। এই বিপ্লবের শহীদরা তাঁদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের পথ উন্মোচন করেছেন। তাঁদের শাহাদত, গাজীদের অসীম ত্যাগ এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সীমাহীন জুলুমের মধ্য দিয়েই আমরা কাঙ্ক্ষিত মুক্তির পথে এগিয়ে যেতে পেরেছিলাম, যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বিএনপি সরকারের ভিত্তি স্থাপন করেছে।

বিপ্লবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নীতিনির্ধারণ এবং মাঠপর্যায়ের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালনকারীরা অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার বাস্তব সাক্ষী হয়েছেন। আন্দোলনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে, যখন প্রথম সারির সমন্বয়কদের অনেকেই অনুপস্থিত ছিলেন, তখন দ্বিতীয় সারির সমন্বয়কদের নিরাপদ স্থানে রাখা, বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা এবং যোগাযোগ অব্যাহত রাখার গুরুদায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সব ধরনের ছাত্র সংগঠন, রাজনৈতিক দল, মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা, কওমি ও আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী, আলেমসমাজ, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনবদ্য ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের সময়, ১৯ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিনের কর্মসূচি আন্দোলনকারীদের এবং অন্যান্য নেতার ফোন নম্বর থেকেই সাংবাদিকদের কাছে প্রচার করা হয়। পাশাপাশি আমাদের টিম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গণমাধ্যম কার্যালয়গুলোতে কর্মসূচির হার্ড কপি পৌঁছে দেয়।

সে সময় বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের গণহত্যা, গুম ও দমন-পীড়নের কারণে অনেকেই মনে করেছিলেন আন্দোলন আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তাঁদের অবস্থান থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার এবং সেটিকে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের আন্দোলনে পরিণত করার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন।

২৬ জুলাই নাহিদ ও আসিফকে আবার ডিবি কার্যালয়ে তুলে নেওয়া হলে দ্বিতীয় সারির সমন্বয়কদের সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। ওই সময় একটি প্রেস ব্রিফিং করার জন্য আব্দুল হান্নান মাসুদ বিগত সরকারের গণহত্যার তথ্য ও শহীদদের তালিকা চান। ওইদিন শেখ হাসিনা ঢাকা মেডিকেলে যান এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল যাতে হান্নান মাসুদেরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তখন আন্দোলনকারী সমন্বয়করা হান্নান মাসুদ ও অন্যান্য সমন্বয়ককে স্পষ্টভাবে জানান, যারা গণহত্যা করেছে, আমাদের ভাইদের শহীদ করেছে; যাদের হাতে আমাদের ভাইবোনদের রক্ত লেগে আছে তাদের সঙ্গে হাসপাতালে যাওয়া শহীদদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না: মামুনুল হক

জুলাই বিপ্লবের দুই বছর: অন্তরালের সিদ্ধান্ত, সংকট ও সাহসিকতার স্মারক

আপডেট সময় : ০২:০১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লব ছিল আপামর ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত। এই বিপ্লবের শহীদরা তাঁদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের পথ উন্মোচন করেছেন। তাঁদের শাহাদত, গাজীদের অসীম ত্যাগ এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সীমাহীন জুলুমের মধ্য দিয়েই আমরা কাঙ্ক্ষিত মুক্তির পথে এগিয়ে যেতে পেরেছিলাম, যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বিএনপি সরকারের ভিত্তি স্থাপন করেছে।

বিপ্লবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নীতিনির্ধারণ এবং মাঠপর্যায়ের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালনকারীরা অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার বাস্তব সাক্ষী হয়েছেন। আন্দোলনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে, যখন প্রথম সারির সমন্বয়কদের অনেকেই অনুপস্থিত ছিলেন, তখন দ্বিতীয় সারির সমন্বয়কদের নিরাপদ স্থানে রাখা, বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা এবং যোগাযোগ অব্যাহত রাখার গুরুদায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সব ধরনের ছাত্র সংগঠন, রাজনৈতিক দল, মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা, কওমি ও আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী, আলেমসমাজ, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনবদ্য ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের সময়, ১৯ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিনের কর্মসূচি আন্দোলনকারীদের এবং অন্যান্য নেতার ফোন নম্বর থেকেই সাংবাদিকদের কাছে প্রচার করা হয়। পাশাপাশি আমাদের টিম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গণমাধ্যম কার্যালয়গুলোতে কর্মসূচির হার্ড কপি পৌঁছে দেয়।

সে সময় বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের গণহত্যা, গুম ও দমন-পীড়নের কারণে অনেকেই মনে করেছিলেন আন্দোলন আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তাঁদের অবস্থান থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার এবং সেটিকে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের আন্দোলনে পরিণত করার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন।

২৬ জুলাই নাহিদ ও আসিফকে আবার ডিবি কার্যালয়ে তুলে নেওয়া হলে দ্বিতীয় সারির সমন্বয়কদের সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। ওই সময় একটি প্রেস ব্রিফিং করার জন্য আব্দুল হান্নান মাসুদ বিগত সরকারের গণহত্যার তথ্য ও শহীদদের তালিকা চান। ওইদিন শেখ হাসিনা ঢাকা মেডিকেলে যান এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল যাতে হান্নান মাসুদেরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তখন আন্দোলনকারী সমন্বয়করা হান্নান মাসুদ ও অন্যান্য সমন্বয়ককে স্পষ্টভাবে জানান, যারা গণহত্যা করেছে, আমাদের ভাইদের শহীদ করেছে; যাদের হাতে আমাদের ভাইবোনদের রক্ত লেগে আছে তাদের সঙ্গে হাসপাতালে যাওয়া শহীদদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।