মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে, উত্তর জনপদে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা; পানিবন্দী হাজারো পরিবার

টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। গত মঙ্গলবার রাত থেকে পানি হু হু করে বাড়তে থাকে, যার ফলে আজ বুধবার সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এই পরিস্থিতিতে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের উজানে কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ ব্যাপক হারে বেড়েছে। এর প্রভাবে লালমনিরহাটের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে নৌকা ও ভেলা। পানিবন্দী মানুষ গৃহপালিত পশু, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। একই সঙ্গে সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রবও বাড়ছে।

পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের চরের বাসিন্দা তসর উদ্দিন বলেন, ‘বিকেল থেকে পানি হু হু করে বাড়ছে। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িতে পানি ঢুকেছে। পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। বন্যার সময় চারদিকে শুধু পানি থাকায় আমাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।’ মহিষখোঁচা চরের বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, কয়েক দিন ধরে পানি বাড়া-কমার মধ্যে থাকলেও সোমবার পানির পরিমাণ হঠাৎ বেশি বেড়েছে। এতে চরাঞ্চলের বহু পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

পানির তীব্র চাপে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদীতীরবর্তী উঁচু সড়কগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধগুলো সংস্কার না করায় সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ মেরামতের কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে জরুরি মেরামতের নামে সরকারি অর্থের অপচয় করে বলে দাবি তাদের। তারা মনে করেন, শুষ্ক মৌসুমে কাজ করলে বাঁধ পাকাপোক্ত হতো এবং মানুষ নদীভাঙন ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেত।

সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে আজ বুধবার সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায়ও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখার কথা জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না: মামুনুল হক

তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে, উত্তর জনপদে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা; পানিবন্দী হাজারো পরিবার

আপডেট সময় : ০১:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। গত মঙ্গলবার রাত থেকে পানি হু হু করে বাড়তে থাকে, যার ফলে আজ বুধবার সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এই পরিস্থিতিতে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের উজানে কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ ব্যাপক হারে বেড়েছে। এর প্রভাবে লালমনিরহাটের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে নৌকা ও ভেলা। পানিবন্দী মানুষ গৃহপালিত পশু, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। একই সঙ্গে সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রবও বাড়ছে।

পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের চরের বাসিন্দা তসর উদ্দিন বলেন, ‘বিকেল থেকে পানি হু হু করে বাড়ছে। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িতে পানি ঢুকেছে। পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। বন্যার সময় চারদিকে শুধু পানি থাকায় আমাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।’ মহিষখোঁচা চরের বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, কয়েক দিন ধরে পানি বাড়া-কমার মধ্যে থাকলেও সোমবার পানির পরিমাণ হঠাৎ বেশি বেড়েছে। এতে চরাঞ্চলের বহু পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

পানির তীব্র চাপে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদীতীরবর্তী উঁচু সড়কগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধগুলো সংস্কার না করায় সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ মেরামতের কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে জরুরি মেরামতের নামে সরকারি অর্থের অপচয় করে বলে দাবি তাদের। তারা মনে করেন, শুষ্ক মৌসুমে কাজ করলে বাঁধ পাকাপোক্ত হতো এবং মানুষ নদীভাঙন ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেত।

সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে আজ বুধবার সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায়ও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখার কথা জানিয়েছেন।