ঢাকা ০৯:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ অভিভাবকের একজনের দাবি—সন্তান অনলাইনে ব্ল্যাকমেইলের শিকার

যুক্তরাজ্যের প্রতি ১০ জন অভিভাবকের একজন জানিয়েছেন, তাদের সন্তান অনলাইনে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছে। শিশু সুরক্ষা বিষয়ক দাতব্য সংস্থা এনএসপিসিসি’র নতুন এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক এই তথ্য। ব্ল্যাকমেইলের মধ্যে রয়েছে—অন্তরঙ্গ ছবি বা ভিডিও প্রকাশের হুমকি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখানো পর্যন্ত।

সংস্থাটির জরিপে ২ হাজার পাঁচশ-র বেশি অভিভাবক অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রতি পাঁচজনের একজন জানিয়েছেন, তারা এমন কোনও শিশুকে চেনেন যে অনলাইনে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছে। আবার দুইজনের একজন অভিভাবক স্বীকার করেছেন—তারা খুব কমই সন্তানদের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) জানিয়েছে, তারা মাসে গড়ে ১১০টির বেশি শিশু সেক্সটরশন–সংক্রান্ত অভিযোগ পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী চক্র কিশোরদের ফাঁদে ফেলে অন্তরঙ্গ ছবি সংগ্রহ করে পরে তা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছে।

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার আইন–প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বলছে—এই ধরনের সেক্সটরশনের শিকার হচ্ছেন কিশোর ছেলেরা এবং তরুণ পুরুষরা, যাদের লক্ষ্য করে পশ্চিম আফ্রিকা ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়াভিত্তিক অপরাধী চক্রগুলো। অনেক ক্ষেত্রে এর পরিণতি ভয়াবহ হয়েছে।

স্কটল্যান্ডের ১৬ বছর বয়সী মারি ডাউয়ি ২০২৩ সালে ইনস্টাগ্রামে সেক্সটরশনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেন। একইভাবে ২০২২ সালে লন্ডনে ১৬ বছর বয়সী দিনাল ডি আলউইস ন’গ্ন ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেন।

এনএসপিসিসি বলছে, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখনও শিশুদের সুরক্ষায় তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না। সংস্থার নীতিমালা ব্যবস্থাপক রানি গোভিন্দার বলেন— ‘শিশুরা যেন অনলাইনে নিরাপদ থাকে, তা প্ল্যাটফর্মের শুরু থেকেই নিশ্চিত করতে হবে—ক্ষতি হওয়ার পর নয়।’

কী ধরনের তথ্য দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়

এনএসপিসিসি জানায়, ব্ল্যাকমেইলের মধ্যে থাকতে পারে— অন্তরঙ্গ ছবি/ভিডিও প্রকাশের হুমকি, এমন ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করার ভয় দেখানো এবং যা শিশু আড়াল রাখতে চায় (যেমন—যৌন অভিমুখিতা, ধর্মীয় পোশাক ছাড়া ছবি)।

তথ্যগুলো পাওয়া যেতে পারে সম্মতিতে, প্রতারণা করে, জোর করে, এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করেও তৈরি করা হতে পারে।

অপরাধী হতে পারে— অপরিচিত সেক্সটরশন চক্র বা পরিচিত কেউ—বন্ধু, সহপাঠী। তাদের দাবির মধ্যে থাকে—অর্থ, আরও ছবি, অথবা সম্পর্ক বজায় রাখা।

এনএসপিসিসি বলছে, তারা ‘ব্ল্যাকমেইল’ শব্দটি ব্যবহার করেছে কারণ এটি সেক্সটরশনের বাইরেও আরও বিস্তৃত পরিস্থিতিকে অন্তর্ভুক্ত করে।

রিপোর্টে অভিভাবকদের ‘শেয়ারেন্টিং’—অর্থাৎ সন্তানদের ছবি ও তথ্য অতিরিক্তভাবে সামাজিকমাধ্যমে পোস্ট করা—থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা জরুরি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন— শিশুদের কীভাবে সেক্সটরশন কাজ করে তা শেখাতে হবে, অনলাইনে কার সঙ্গে কথা বলছে সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং নিয়মিত কথা বলার পরিবেশ তৈরি করতে হবে— এক্ষেত্রে একসঙ্গে খাওয়া বা পথে গাড়িতে থাকা সময়গুলো কাজে লাগানো যেতে পারে।

রানি গোভিন্দার বলেন— ‘বয়স উপযোগী ভাষায় বিষয়টি আলোচনা করা এবং এমন পরিবেশ তৈরি করা জরুরি যেখানে শিশুরা নিঃসংকোচে জানাতে পারে যে তারা টার্গেট হয়েছে।’

কেন শিশুরা অভিভাবকদের জানায় না?

এনএসপিসিসি’র সাক্ষাৎকারে কিশোররা জানিয়েছে—তারা ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা অভিভাবকদের জানায় না কারণ— প্রথমত লজ্জা, দ্বিতীয়ত আগে বন্ধুকে বলার প্রবণতা এবং তৃতীয়ত তারা মনে করে যে নিজেরাই সামলে নিতে পারবে।

এ সব মিলিয়ে অনলাইন ব্ল্যাকমেইল শিশুদের জন্য ক্রমেই বড় হুমকিতে পরিণত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ, ঢালাও গ্রেপ্তার বন্ধের আহ্বান আযম খানের

যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ অভিভাবকের একজনের দাবি—সন্তান অনলাইনে ব্ল্যাকমেইলের শিকার

আপডেট সময় : ০৪:৫৬:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

যুক্তরাজ্যের প্রতি ১০ জন অভিভাবকের একজন জানিয়েছেন, তাদের সন্তান অনলাইনে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছে। শিশু সুরক্ষা বিষয়ক দাতব্য সংস্থা এনএসপিসিসি’র নতুন এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক এই তথ্য। ব্ল্যাকমেইলের মধ্যে রয়েছে—অন্তরঙ্গ ছবি বা ভিডিও প্রকাশের হুমকি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখানো পর্যন্ত।

সংস্থাটির জরিপে ২ হাজার পাঁচশ-র বেশি অভিভাবক অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রতি পাঁচজনের একজন জানিয়েছেন, তারা এমন কোনও শিশুকে চেনেন যে অনলাইনে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছে। আবার দুইজনের একজন অভিভাবক স্বীকার করেছেন—তারা খুব কমই সন্তানদের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) জানিয়েছে, তারা মাসে গড়ে ১১০টির বেশি শিশু সেক্সটরশন–সংক্রান্ত অভিযোগ পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী চক্র কিশোরদের ফাঁদে ফেলে অন্তরঙ্গ ছবি সংগ্রহ করে পরে তা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছে।

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার আইন–প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বলছে—এই ধরনের সেক্সটরশনের শিকার হচ্ছেন কিশোর ছেলেরা এবং তরুণ পুরুষরা, যাদের লক্ষ্য করে পশ্চিম আফ্রিকা ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়াভিত্তিক অপরাধী চক্রগুলো। অনেক ক্ষেত্রে এর পরিণতি ভয়াবহ হয়েছে।

স্কটল্যান্ডের ১৬ বছর বয়সী মারি ডাউয়ি ২০২৩ সালে ইনস্টাগ্রামে সেক্সটরশনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেন। একইভাবে ২০২২ সালে লন্ডনে ১৬ বছর বয়সী দিনাল ডি আলউইস ন’গ্ন ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেন।

এনএসপিসিসি বলছে, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখনও শিশুদের সুরক্ষায় তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না। সংস্থার নীতিমালা ব্যবস্থাপক রানি গোভিন্দার বলেন— ‘শিশুরা যেন অনলাইনে নিরাপদ থাকে, তা প্ল্যাটফর্মের শুরু থেকেই নিশ্চিত করতে হবে—ক্ষতি হওয়ার পর নয়।’

কী ধরনের তথ্য দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়

এনএসপিসিসি জানায়, ব্ল্যাকমেইলের মধ্যে থাকতে পারে— অন্তরঙ্গ ছবি/ভিডিও প্রকাশের হুমকি, এমন ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করার ভয় দেখানো এবং যা শিশু আড়াল রাখতে চায় (যেমন—যৌন অভিমুখিতা, ধর্মীয় পোশাক ছাড়া ছবি)।

তথ্যগুলো পাওয়া যেতে পারে সম্মতিতে, প্রতারণা করে, জোর করে, এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করেও তৈরি করা হতে পারে।

অপরাধী হতে পারে— অপরিচিত সেক্সটরশন চক্র বা পরিচিত কেউ—বন্ধু, সহপাঠী। তাদের দাবির মধ্যে থাকে—অর্থ, আরও ছবি, অথবা সম্পর্ক বজায় রাখা।

এনএসপিসিসি বলছে, তারা ‘ব্ল্যাকমেইল’ শব্দটি ব্যবহার করেছে কারণ এটি সেক্সটরশনের বাইরেও আরও বিস্তৃত পরিস্থিতিকে অন্তর্ভুক্ত করে।

রিপোর্টে অভিভাবকদের ‘শেয়ারেন্টিং’—অর্থাৎ সন্তানদের ছবি ও তথ্য অতিরিক্তভাবে সামাজিকমাধ্যমে পোস্ট করা—থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা জরুরি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন— শিশুদের কীভাবে সেক্সটরশন কাজ করে তা শেখাতে হবে, অনলাইনে কার সঙ্গে কথা বলছে সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং নিয়মিত কথা বলার পরিবেশ তৈরি করতে হবে— এক্ষেত্রে একসঙ্গে খাওয়া বা পথে গাড়িতে থাকা সময়গুলো কাজে লাগানো যেতে পারে।

রানি গোভিন্দার বলেন— ‘বয়স উপযোগী ভাষায় বিষয়টি আলোচনা করা এবং এমন পরিবেশ তৈরি করা জরুরি যেখানে শিশুরা নিঃসংকোচে জানাতে পারে যে তারা টার্গেট হয়েছে।’

কেন শিশুরা অভিভাবকদের জানায় না?

এনএসপিসিসি’র সাক্ষাৎকারে কিশোররা জানিয়েছে—তারা ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা অভিভাবকদের জানায় না কারণ— প্রথমত লজ্জা, দ্বিতীয়ত আগে বন্ধুকে বলার প্রবণতা এবং তৃতীয়ত তারা মনে করে যে নিজেরাই সামলে নিতে পারবে।

এ সব মিলিয়ে অনলাইন ব্ল্যাকমেইল শিশুদের জন্য ক্রমেই বড় হুমকিতে পরিণত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান