মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১০:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

মরক্কো থেকে স্পেনের সেউতায় ৬০ হাজার অভিবাসীর ঢল, প্রাণহানি বেড়ে ৪১

স্পেনের উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় মরক্কো থেকে অভিবাসীদের নজিরবিহীন ঢল নেমেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৬০ হাজার মানুষ শহরটিতে প্রবেশ করেছেন, যা সেউতার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান। এই বিপুল জনস্রোতের মধ্যে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিবাসীরা সমুদ্র সাঁতরে, ছোট নৌকায় এবং সীমান্তের ঢেউ-প্রতিরোধক বাঁধ ও কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে দলে দলে সেউতায় প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই তরুণ পুরুষ হলেও নারী ও শিশুদের নিয়েও বহু পরিবার সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেছে। অনেককে সীমান্ত অতিক্রমের সময় ‘ভিভা এস্পানিয়া’ (স্পেন দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগান দিতেও দেখা যায়।

সেউতার স্থানীয় প্রেসিডেন্ট হুয়ান জেসুস ভিভাস জানিয়েছেন, এই ঘটনায় অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অনেকেই সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার সময় ডুবে মারা গেছেন, আবার অনেকে জনসমাগমে পদদলিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেন অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করলেও এখনও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।

সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেউতার প্রশাসন মাদ্রিদের কাছে অতিরিক্ত বাহিনী চেয়েছিল। স্পেন সরকার জানিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি ডুবুরি দলও মোতায়েন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে বহু অনিয়মিত অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে।

স্পেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনাকে দেশের ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মানব পাচারকারী চক্রকে দায়ী করেন। তাঁর দাবি, স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায়কে ভুলভাবে প্রচার করে পাচারকারী চক্রগুলো হাজার হাজার মানুষকে সীমান্ত অতিক্রমে উৎসাহিত করেছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মকানুন উপেক্ষা করে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য করে এটিকে ‘আগ্রাসনের মতো’ বলে উল্লেখ করেন। মরক্কো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সমন্বয় করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কওমিপিডিয়ার তালিকায় দেশের শীর্ষ পাঁচ ইসলামি আলোচক: শীর্ষে শায়খ আহমাদুল্লাহ

মরক্কো থেকে স্পেনের সেউতায় ৬০ হাজার অভিবাসীর ঢল, প্রাণহানি বেড়ে ৪১

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

স্পেনের উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় মরক্কো থেকে অভিবাসীদের নজিরবিহীন ঢল নেমেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৬০ হাজার মানুষ শহরটিতে প্রবেশ করেছেন, যা সেউতার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান। এই বিপুল জনস্রোতের মধ্যে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিবাসীরা সমুদ্র সাঁতরে, ছোট নৌকায় এবং সীমান্তের ঢেউ-প্রতিরোধক বাঁধ ও কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে দলে দলে সেউতায় প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই তরুণ পুরুষ হলেও নারী ও শিশুদের নিয়েও বহু পরিবার সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেছে। অনেককে সীমান্ত অতিক্রমের সময় ‘ভিভা এস্পানিয়া’ (স্পেন দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগান দিতেও দেখা যায়।

সেউতার স্থানীয় প্রেসিডেন্ট হুয়ান জেসুস ভিভাস জানিয়েছেন, এই ঘটনায় অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অনেকেই সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার সময় ডুবে মারা গেছেন, আবার অনেকে জনসমাগমে পদদলিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেন অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করলেও এখনও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।

সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেউতার প্রশাসন মাদ্রিদের কাছে অতিরিক্ত বাহিনী চেয়েছিল। স্পেন সরকার জানিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি ডুবুরি দলও মোতায়েন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে বহু অনিয়মিত অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে।

স্পেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনাকে দেশের ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মানব পাচারকারী চক্রকে দায়ী করেন। তাঁর দাবি, স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায়কে ভুলভাবে প্রচার করে পাচারকারী চক্রগুলো হাজার হাজার মানুষকে সীমান্ত অতিক্রমে উৎসাহিত করেছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মকানুন উপেক্ষা করে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য করে এটিকে ‘আগ্রাসনের মতো’ বলে উল্লেখ করেন। মরক্কো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সমন্বয় করছে।