এবারের জিম্বাবুয়ে সফরটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য ভুলে যাওয়ার মতো এক অভিজ্ঞতা। সফরের শুরুতেই ২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের কাছে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল টাইগাররা। এরপর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও ২-১ ব্যবধানে হার। শেষ তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ হার দিয়ে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় বাংলাদেশ। তবে টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের এই ভরাডুবির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল ব্যাটিং ব্যর্থতা। সফরের শুরু থেকেই স্বাগতিক পেসারদের গতির সামনে অসহায় দেখা যায় বাংলাদেশের ব্যাটারদের। মুজারাবানি, এনগারাভা ও ইভানসদের বাড়তি বাউন্স সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের, বিশেষ করে শর্ট বল খেলার দুর্বলতা প্রকটভাবে ধরা পড়ে।
টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলেও ব্যাটিং ব্যর্থতা আড়াল হচ্ছে না। জিম্বাবুয়ে সফর শেষে দেশে ফিরে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল এই দৈন্যদশার পেছনে মূল কারণ হিসেবে অনুশীলন ম্যাচের অভাবকে দায়ী করেছেন। আশরাফুলের যুক্তি, যদি জিম্বাবুয়ে সফরে অন্তত একটি তিনদিনের কিংবা একদিনের প্র্যাকটিস ম্যাচও খেলতে পারত বাংলাদেশ, তাহলে ব্যাটিংয়ের এমন করুণ দৃশ্য মঞ্চায়ন হতো না। প্র্যাকটিস ম্যাচ খেললে ভিন্ন কন্ডিশন মূল লড়াইয়ে নামার আগে মানিয়ে নিতে পারতেন খেলোয়াড়রা।
আশরাফুল বলেন, ‘বাড়তি বাউন্সে মানিয়ে নিতে আমাদের একটু সময় লেগেছে। টেস্ট ম্যাচে আমরা ভালো করতে পারিনি। পরে তৃতীয় ওয়ানডেতে আমরা মানিয়ে নিতে পেরেছি।’ ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘একটি তিনদিনের ম্যাচ কিংবা ওয়ানডে ম্যাচ হলে মানিয়ে নেওয়ার কাজটি সহজ হতো। ওই অপশনটা এখন আর নেই। যদিও আমাদের টেস্ট ও ওয়ানডে দলের ক্রিকেটাররা আগে গিয়েছিলেন। কিন্তু অনুশীলন ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ছিল না। এটা হলে মূল ম্যাচগুলোর ফল আমাদের পক্ষেই থাকত।’ ব্যাটিং কোচ আশরাফুল আরও বলেন, ‘গত সাত মাস ধরে আমাদের ব্যাটাররা খুবই ভালো করছে। একটি সিরিজ খারাপ হতেই পারে। একটি টেস্ট ম্যাচ খারাপ হয়েছে, এর আগের চারটি টেস্ট ম্যাচেই অসাধারণ খেলেছে আমাদের ব্যাটসম্যানরা। আমি চেষ্টা করছি আমার জায়গায় সেরাটা দেওয়ার জন্য।’ বাংলাদেশের সামনে এখন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্ট ম্যাচের সিরিজ। আগামী আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এখন এই সিরিজের দিকেই ফোকাস ক্রিকেটারদের।
রিপোর্টারের নাম 

























