ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

মার্কিন ভিসানীতিতে কঠোরতা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ও পরিবর্তিত নিয়মাবলী

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা এবং অবস্থানের নিয়মে কঠোরতা আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ভিসার অপব্যবহার রোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মে শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ পাঁচ বছরের পরিবর্তে চার বছর করা হয়েছে, এবং ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’-ও চার বছরে সীমাবদ্ধ থাকবে।

আগে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত কর্মকর্তা (ডিএসও) ভিসার মেয়াদ বাড়াতে পারতেন, এখন থেকে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ফেডারেল সংস্থা ‘ইউএসসিআইএস’-এর কাছে আবেদন করতে হবে। সরকারের অনুমতি ছাড়া চার বছরের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা যাবে না। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম এবং কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তনের সুযোগও সীমিত করা হচ্ছে। কোর্স শেষ করার পর দেশ ছাড়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা (গ্রেস পিরিয়ড) ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে, যার মধ্যে দেশে ফেরা বা অন্য ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

বর্তমানে যারা পাঁচ বছরের ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন, তাদের ভিসাও নতুন নিয়মের আওতায় চলে আসবে। এই পরিবর্তন বিশেষত পিএইচডি বা দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার শিক্ষার্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, কারণ এসব কোর্স শেষ করতে সাধারণত ৫ থেকে ৭ বছর সময় লাগে এবং নতুন নিয়মে আবেদন করলেই মেয়াদ বাড়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

তবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন আইনজীবী রাজু মহাজন মন্তব্য করেছেন যে, যারা প্রকৃত শিক্ষার্থী এবং নিয়ম মেনে চলছেন, তাদের অনুমতি পেতে সমস্যা হবে না। বরং যারা পড়াশোনা না করে অন্য কাজ করছেন বা ভিসার অপব্যবহার করছেন, তাদের জন্য ঝুঁকি বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার নোবেল ও বর্ণনা ভৌমিকও একই মত প্রকাশ করে বলেছেন, বৈধভাবে পড়াশোনা করা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের খুব একটা সমস্যা হবে না; মূলত অনিয়ম বন্ধ করতেই মার্কিন সরকার এই কড়াকড়ি করছে। উল্লেখ্য, পড়াশোনা শেষের ওপিটি (অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং) সুবিধার কোনো পরিবর্তন হয়নি, যা স্টেম বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য তিন বছর এবং নন-স্টেম বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এক বছর কাজের সুযোগ দেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পূর্বধলায় নিখোঁজ বৃদ্ধের লাশ পুকুরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার

মার্কিন ভিসানীতিতে কঠোরতা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ও পরিবর্তিত নিয়মাবলী

আপডেট সময় : ০৩:১৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা এবং অবস্থানের নিয়মে কঠোরতা আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ভিসার অপব্যবহার রোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মে শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ পাঁচ বছরের পরিবর্তে চার বছর করা হয়েছে, এবং ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’-ও চার বছরে সীমাবদ্ধ থাকবে।

আগে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত কর্মকর্তা (ডিএসও) ভিসার মেয়াদ বাড়াতে পারতেন, এখন থেকে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ফেডারেল সংস্থা ‘ইউএসসিআইএস’-এর কাছে আবেদন করতে হবে। সরকারের অনুমতি ছাড়া চার বছরের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা যাবে না। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম এবং কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তনের সুযোগও সীমিত করা হচ্ছে। কোর্স শেষ করার পর দেশ ছাড়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা (গ্রেস পিরিয়ড) ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে, যার মধ্যে দেশে ফেরা বা অন্য ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

বর্তমানে যারা পাঁচ বছরের ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন, তাদের ভিসাও নতুন নিয়মের আওতায় চলে আসবে। এই পরিবর্তন বিশেষত পিএইচডি বা দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার শিক্ষার্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, কারণ এসব কোর্স শেষ করতে সাধারণত ৫ থেকে ৭ বছর সময় লাগে এবং নতুন নিয়মে আবেদন করলেই মেয়াদ বাড়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

তবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন আইনজীবী রাজু মহাজন মন্তব্য করেছেন যে, যারা প্রকৃত শিক্ষার্থী এবং নিয়ম মেনে চলছেন, তাদের অনুমতি পেতে সমস্যা হবে না। বরং যারা পড়াশোনা না করে অন্য কাজ করছেন বা ভিসার অপব্যবহার করছেন, তাদের জন্য ঝুঁকি বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার নোবেল ও বর্ণনা ভৌমিকও একই মত প্রকাশ করে বলেছেন, বৈধভাবে পড়াশোনা করা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের খুব একটা সমস্যা হবে না; মূলত অনিয়ম বন্ধ করতেই মার্কিন সরকার এই কড়াকড়ি করছে। উল্লেখ্য, পড়াশোনা শেষের ওপিটি (অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং) সুবিধার কোনো পরিবর্তন হয়নি, যা স্টেম বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য তিন বছর এবং নন-স্টেম বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এক বছর কাজের সুযোগ দেয়।