ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনে তেহরানে কাতারের মধ্যস্থতাকারী দল

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অচলাবস্থা কাটিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে কাতারের একটি মধ্যস্থতাকারী দল বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছে। তারা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো উত্তেজনা হ্রাস করা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে বৃহত্তর আলোচনার পথ প্রশস্ত করা।

তবে, ইরানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তান-মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা স্মারক (MoU) বাস্তবায়নে ওয়াশিংটনের সদিচ্ছা নিয়ে তারা সন্দিহান। সম্প্রতি, ইরানের পাঁচটি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় বেশ কিছু সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু ইরানি নাগরিক হতাহত হন। এই ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে সমঝোতা স্মারক বাতিলের ঘোষণা দেন, যা ইরানের পক্ষ থেকে এই সংশয় প্রকাশের একটি প্রধান কারণ।

অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বিবৃতিতে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এই দ্বন্দ্বে ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না এবং উল্টো ইরান এখন ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের’ জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ইরানি কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, তারা কোনো ধরনের জবরদস্তিমূলক কূটনীতির কাছে মাথা নত করবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তারা কয়েকটি শর্তও দিয়েছেন। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, ওয়াশিংটনকে সমঝোতা স্মারকের ধারাগুলো অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে, বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা এবং ইরানের তেল রপ্তানির অধিকার সংক্রান্ত ধারাগুলো মেনে চলতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জিম্বাবুয়ে সফরে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে মরিয়া বাংলাদেশ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনে তেহরানে কাতারের মধ্যস্থতাকারী দল

আপডেট সময় : ০৮:৫২:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অচলাবস্থা কাটিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে কাতারের একটি মধ্যস্থতাকারী দল বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছে। তারা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো উত্তেজনা হ্রাস করা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে বৃহত্তর আলোচনার পথ প্রশস্ত করা।

তবে, ইরানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তান-মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা স্মারক (MoU) বাস্তবায়নে ওয়াশিংটনের সদিচ্ছা নিয়ে তারা সন্দিহান। সম্প্রতি, ইরানের পাঁচটি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় বেশ কিছু সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু ইরানি নাগরিক হতাহত হন। এই ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে সমঝোতা স্মারক বাতিলের ঘোষণা দেন, যা ইরানের পক্ষ থেকে এই সংশয় প্রকাশের একটি প্রধান কারণ।

অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বিবৃতিতে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এই দ্বন্দ্বে ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না এবং উল্টো ইরান এখন ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের’ জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ইরানি কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, তারা কোনো ধরনের জবরদস্তিমূলক কূটনীতির কাছে মাথা নত করবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তারা কয়েকটি শর্তও দিয়েছেন। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, ওয়াশিংটনকে সমঝোতা স্মারকের ধারাগুলো অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে, বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা এবং ইরানের তেল রপ্তানির অধিকার সংক্রান্ত ধারাগুলো মেনে চলতে হবে।