ঢাকা ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

সীমান্তে অভূতপূর্ব জন-প্রতিরোধ: বিএসএফ আগ্রাসন রুখছে বিজিবি ও জনতা

যেখানে মানচিত্রের কাঁটাতার দুই দেশকে বিভক্ত করেছে, ঠিক সেখানেই জন্ম নিয়েছে এক নীরব, একতরফা আগ্রাসন। একদিকে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র সজ্জিত ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং অন্যদিকে কোনো সীমানা প্রাচীর বা ভারী অস্ত্র ছাড়াই বাংলাদেশের সীমান্তবাসী। গত দেড় দশক ধরে দেশের সীমান্তগুলোতে বিএসএফের ধারাবাহিক মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাতের আঁধারে শূন্যরেখায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং জোরপূর্বক ‘পুশইন’-এর এক ভয়াবহ ও ধারাবাহিক আগ্রাসন চলছে। তবে এই ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত চরম অবহেলার মাঝেও এক অভূতপূর্ব মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত প্রতিরোধের নতুন ধারা সূচিত হয়েছে।

বিজিবির টহলে নদী, খাল ও পাকা রাস্তার তীব্র সীমাবদ্ধতা থাকলেও, সীমান্তের সাধারণ মানুষ এখন আর ভয়ে গুটিসুটি মেরে ঘরে বসে নেই। বিজিবির দেওয়া মাইক, টর্চ ও বাঁশি নিয়ে প্রতি রাতে জনতা গড়ে তুলছে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর। বিএসএফের তাক করা বন্দুকের নল উপেক্ষা করে তরুণ সমাজ যেকোনো অন্যায়ের তাৎক্ষণিক জবাব দিচ্ছে। অন্যদিকে, পুরুষদের চেয়ে এক কদম এগিয়ে মা-বোনেরাও প্রতিরোধ গড়ে তুলে সশস্ত্র বিএসএফ জওয়ানদের পিছু হটতে বাধ্য করছেন। ‘নিজের দেশ নিজেকেই রক্ষা করতে হবে’—এই অমোঘ মন্ত্রে দীক্ষিত অকুতোভয় তরুণ ও নারী সমাজই এখন প্রমাণ করছে যে, অতীতে রাষ্ট্রীয় অবহেলার মাঝেও কেবল জনগণের সম্মিলিত শক্তিই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সবচেয়ে অপরাজেয় হাতিয়ার।

গত ২০ থেকে ২৪ জুন উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত শূন্যরেখা সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিএসএফের যেকোনো ধরনের উসকানি ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় তরুণ এবং নারীরাও সতর্ক রয়েছেন। প্রয়োজন হলে তারা রাত জেগে পাহারাও দিচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজিবির কয়েকজন কোম্পানি কমান্ডার জানান, স্থানীয় জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখছে।

এ বিষয়ে ৫৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, “পুশইনসহ বিএসএফের যেকোনো অপতৎপরতা বন্ধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে আছে। সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে কাজ করছে আনসার-ভিডিপি এবং সাধারণ গ্রামবাসী। রাতে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা বিজিবির সঙ্গে টহলে অংশ নিচ্ছেন এবং তথ্য দিয়ে সহায়তা করছেন।” কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত পরিস্থিতি…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: সংকট ও সম্ভাবনার সন্ধিক্ষণে জাতির বাতিঘর

সীমান্তে অভূতপূর্ব জন-প্রতিরোধ: বিএসএফ আগ্রাসন রুখছে বিজিবি ও জনতা

আপডেট সময় : ০৯:২৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

যেখানে মানচিত্রের কাঁটাতার দুই দেশকে বিভক্ত করেছে, ঠিক সেখানেই জন্ম নিয়েছে এক নীরব, একতরফা আগ্রাসন। একদিকে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র সজ্জিত ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং অন্যদিকে কোনো সীমানা প্রাচীর বা ভারী অস্ত্র ছাড়াই বাংলাদেশের সীমান্তবাসী। গত দেড় দশক ধরে দেশের সীমান্তগুলোতে বিএসএফের ধারাবাহিক মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাতের আঁধারে শূন্যরেখায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং জোরপূর্বক ‘পুশইন’-এর এক ভয়াবহ ও ধারাবাহিক আগ্রাসন চলছে। তবে এই ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত চরম অবহেলার মাঝেও এক অভূতপূর্ব মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত প্রতিরোধের নতুন ধারা সূচিত হয়েছে।

বিজিবির টহলে নদী, খাল ও পাকা রাস্তার তীব্র সীমাবদ্ধতা থাকলেও, সীমান্তের সাধারণ মানুষ এখন আর ভয়ে গুটিসুটি মেরে ঘরে বসে নেই। বিজিবির দেওয়া মাইক, টর্চ ও বাঁশি নিয়ে প্রতি রাতে জনতা গড়ে তুলছে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর। বিএসএফের তাক করা বন্দুকের নল উপেক্ষা করে তরুণ সমাজ যেকোনো অন্যায়ের তাৎক্ষণিক জবাব দিচ্ছে। অন্যদিকে, পুরুষদের চেয়ে এক কদম এগিয়ে মা-বোনেরাও প্রতিরোধ গড়ে তুলে সশস্ত্র বিএসএফ জওয়ানদের পিছু হটতে বাধ্য করছেন। ‘নিজের দেশ নিজেকেই রক্ষা করতে হবে’—এই অমোঘ মন্ত্রে দীক্ষিত অকুতোভয় তরুণ ও নারী সমাজই এখন প্রমাণ করছে যে, অতীতে রাষ্ট্রীয় অবহেলার মাঝেও কেবল জনগণের সম্মিলিত শক্তিই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সবচেয়ে অপরাজেয় হাতিয়ার।

গত ২০ থেকে ২৪ জুন উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত শূন্যরেখা সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিএসএফের যেকোনো ধরনের উসকানি ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় তরুণ এবং নারীরাও সতর্ক রয়েছেন। প্রয়োজন হলে তারা রাত জেগে পাহারাও দিচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজিবির কয়েকজন কোম্পানি কমান্ডার জানান, স্থানীয় জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখছে।

এ বিষয়ে ৫৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, “পুশইনসহ বিএসএফের যেকোনো অপতৎপরতা বন্ধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে আছে। সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে কাজ করছে আনসার-ভিডিপি এবং সাধারণ গ্রামবাসী। রাতে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা বিজিবির সঙ্গে টহলে অংশ নিচ্ছেন এবং তথ্য দিয়ে সহায়তা করছেন।” কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত পরিস্থিতি…