ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতের আঁধারে উপজেলার পূর্ব হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামবাসীর মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম সুমন শেখ (২২), তিনি পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে এবং একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের কয়েকজন যুবকের সঙ্গে পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের কয়েকজন যুবকের দক্ষিণপাড়ের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এই ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের দুই যুবক দক্ষিণপাড়ের বাসস্ট্যান্ডে লাঞ্ছনার শিকার হন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত আটটার দিকে পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের শতাধিক যুবক দক্ষিণপাড়ের বাসস্ট্যান্ড ব্রিজের ঢালুতে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে ব্রিজের ঢালের আরেক প্রান্তে মারমুখী অবস্থান নেয় কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের যুবকরা।
দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়, যার ফলে ভাঙ্গা-ফরিদপুর বরিশাল-মাওয়া মহাসড়কে দূরপাল্লার যানবাহনসহ সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের যুবকদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, এতে সুমন শেখসহ আরও তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ওসি মো. মিজানুর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজায়ন দিপু। তারা উভয়পক্ষকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিলেও বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের কথায় কর্ণপাত না করে বিক্ষোভ আরও বাড়াতে থাকে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে।
ভাঙ্গা থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, এই ঘটনায় আহত এক যুবকের মৃত্যুর খবর পুলিশ জানতে পেরেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।
রিপোর্টারের নাম 






















