কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা দুধের মান, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত দুধের প্যাকেট অপরিচ্ছন্ন এবং কিছু প্যাকেটে পোকা দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। এর আগেও এই কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা পাউরুটি, ডিম ও কলা নিয়েও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। বারবার এমন ঘটনায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক মহল।
সরেজমিনে চার নম্বর হুমাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত দুধের প্যাকেট বিতরণের সময় সেগুলোর গায়ে ধুলাবালি, কালচে দাগ ও ময়লা লেগে আছে। এমনকি কিছু প্যাকেটের গায়ে ১০ থেকে ১৫টি পর্যন্ত পোকা চলাফেরা করতেও দেখা গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর আগে গাজিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও পাউরুটিতে ছত্রাক ও পচা ডিম বিতরণের অভিযোগ উঠেছিল, যা শিশুদের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
একজন স্থানীয় অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আগে কখনো স্কুলে এসে দুধ দেখিনি। আজ এসে যে অবস্থা দেখলাম, তাতে মনে প্রশ্ন জাগছে—শিশুদের কি দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের নিম্নমানের দুধ দেওয়া হচ্ছে? আমরা ভাটি এলাকার মানুষ বলেই কি আমাদের শিশুদের জন্য এমন খাবার বরাদ্দ হবে? যে খাবার একজন সুস্থ মানুষ দেখলে খেতে চাইবে না, সেটিই আমাদের নিষ্পাপ শিশুদের দেওয়া হচ্ছে।”
এ পরিস্থিতিতে সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উপজেলার সব বিদ্যালয়ে সরবরাহকৃত স্কুল ফিডিংয়ের খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, উপজেলার মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও স্কুল ফিডিংয়ের দুধের মান নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা গেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এবং হুমাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি, যা জনমনে আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















