ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

জাতীয় সংসদে ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পাস: আজ থেকে কার্যকর

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট গতকাল মঙ্গলবার পাস হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক উত্থাপিত নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৬ পাসের মাধ্যমে বাজেট পাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আজ ১ জুলাই থেকে এই বাজেট কার্যকর হচ্ছে। এর আগে রাষ্ট্রপতির সম্মতিসাপেক্ষে নির্দিষ্টকরণ আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

গত সোমবার রাতে শুরু হওয়া বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীরা তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এসব মঞ্জুরি দাবি সংসদে কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি হয়। পরবর্তীতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে এ বাজেট পাস করা হয়।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শীর্ষক ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন। এটি দেশের ৫৫তম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরুর প্রথম বাজেট।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় এবারের বাজেটের আকার এক লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা (১৮.৭৩%) বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে কমে সাত লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছিল। নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংসদে উপস্থাপনের পর প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংসদ সদস্যরা দীর্ঘ ১১ দিন আলোচনা করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা নতুন বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর গত সোমবার রাতে সংসদে অর্থ বিল-২০২৬ পাস হয়। এছাড়া, মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে বিরোধী দলের ৪৩ জন সংসদ সদস্য এক হাজার ৩৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। ৫৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মঞ্জুরি দাবির মধ্যে ৩৬টির ওপর আলোচনার সিদ্ধান্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে সংসদের সময় বাঁচাতে প্যাকেজ আকারে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো প্রত্যাহার করে নেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক নীতি বহাল, বেসরকারি ঋণে লাগাম

জাতীয় সংসদে ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পাস: আজ থেকে কার্যকর

আপডেট সময় : ০৪:১৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট গতকাল মঙ্গলবার পাস হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক উত্থাপিত নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৬ পাসের মাধ্যমে বাজেট পাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আজ ১ জুলাই থেকে এই বাজেট কার্যকর হচ্ছে। এর আগে রাষ্ট্রপতির সম্মতিসাপেক্ষে নির্দিষ্টকরণ আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

গত সোমবার রাতে শুরু হওয়া বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীরা তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এসব মঞ্জুরি দাবি সংসদে কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি হয়। পরবর্তীতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে এ বাজেট পাস করা হয়।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শীর্ষক ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন। এটি দেশের ৫৫তম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরুর প্রথম বাজেট।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় এবারের বাজেটের আকার এক লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা (১৮.৭৩%) বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে কমে সাত লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছিল। নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংসদে উপস্থাপনের পর প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংসদ সদস্যরা দীর্ঘ ১১ দিন আলোচনা করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা নতুন বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর গত সোমবার রাতে সংসদে অর্থ বিল-২০২৬ পাস হয়। এছাড়া, মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে বিরোধী দলের ৪৩ জন সংসদ সদস্য এক হাজার ৩৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। ৫৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মঞ্জুরি দাবির মধ্যে ৩৬টির ওপর আলোচনার সিদ্ধান্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে সংসদের সময় বাঁচাতে প্যাকেজ আকারে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো প্রত্যাহার করে নেন।