ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

রোনালদোর মন্থর পারফরম্যান্স: পর্তুগালের জন্য কি তিনি এখন বোঝা?

বিশ্বকাপে দলগুলোর প্রথম ম্যাচগুলো থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। যেখানে লিওনেল মেসি আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচসেরা হয়েছেন, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হ্যালান্ড, হ্যারি কেনের মতো তরুণ তারকা স্ট্রাইকাররাও গোল করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন, সেখানে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যেন পুরো ম্যাচজুড়েই ছিলেন নিজের ছায়া। কিংবদন্তিদের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষের নাম হলো সময়, যে লড়াইয়ে সবাই একদিন হারে। প্রশ্ন হলো, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কি সেই বাস্তবতাকে এখনো মেনে নিতে পারেননি?

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ ড্র শুধু পর্তুগালের জন্য হতাশার নয়, রোনালদোর জন্যও ছিল এক নির্মম সত্য প্রকাশের আয়না। ৪১ বছর বয়সে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে পুরো ৯০ মিনিটে মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেছেন, তিনটি শট নিয়েছেন যার একটিও টার্গেটে ছিল না। অথচ তিনি দলের ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলছেন। পুরো ম্যাচে তিনি নিজে কোনো সুযোগ তৈরি করেননি, প্রেসিংয়ে ছিলেন নিষ্ক্রিয় এবং রক্ষণে অবদান ছিল না বললেই চলে। নিজের অর্ধে পা রেখেছেন মাত্র দুবার! অথচ মাঠে ছিলেন শেষ বাঁশি পর্যন্ত। প্রশ্ন হলো—কেন?

এই পর্তুগাল কি এখনো রোনালদোকে নিয়ে খেলছে, নাকি রোনালদোর জন্য খেলছে? তিনি দলকে টানছেন, নাকি তিনিই এখন দলের বোঝা? কঙ্গো ম্যাচে সিআর সেভেনের পারফরম্যান্সের সবচেয়ে হতাশাজনক দিক ছিল তার চলাফেরা। নির্দিষ্ট একটি জোনের বাইরে তাকে খুব কমই দেখা গেছে। প্রতিপক্ষের বক্সে দাঁড়িয়ে সুযোগের অপেক্ষা করেছেন; কিন্তু নিচে নেমে মিডফিল্ডের সঙ্গে সংযোগ তৈরি, প্রেসিং কিংবা ডিফেন্সকে সহায়তা—আধুনিক স্ট্রাইকারের মৌলিক কাজগুলোর প্রায় কোনোটিই করেননি। বল পেয়েও সহজভাবে দখল হারিয়েছেন, সতীর্থদের তৈরি করা সুযোগ নষ্ট করেছেন। একজন ফরোয়ার্ড প্রতিপক্ষের সীমানায় দাঁড়িয়ে বল ঠিকমতো ট্যাপিংও করতে পারছেন না, এর চেয়ে হতাশার বিষয় আর কী হতে পারে?

ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই যেন রোনালদোকে একটি অকার্যকর অস্ত্র মনে হয়েছে। ত্যক্তবিরক্ত হয়ে তার সতীর্থরাও ম্যাচে একসময় যেন তাকে ছাড়াই লড়াইয়ের চিন্তায় নামলেন। মনে হয়েছে পর্তুগালের আক্রমণ যেন তাকে ঘিরে নয়, তাকে পাশ কাটিয়েই এগোতে চাইছে। কয়েকটি মুহূর্তে এমন ধারণাও হয়েছে যে, সতীর্থরা নিশ্চিত পাসের বদলে অন্য বিকল্প খুঁজছেন। ব্রুনো ফার্নান্দেজের শরীরী ভাষায় সেটা যেন আরও স্পষ্ট হলো। বাস্তবতা যা-ই হোক, একজন অধিনায়কের জন্য এমন ধারণা তৈরি হওয়াটা শুভ লক্ষণ নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোনালদোর মন্থর পারফরম্যান্স: পর্তুগালের জন্য কি তিনি এখন বোঝা?

আপডেট সময় : ০৯:২৯:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে দলগুলোর প্রথম ম্যাচগুলো থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। যেখানে লিওনেল মেসি আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচসেরা হয়েছেন, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হ্যালান্ড, হ্যারি কেনের মতো তরুণ তারকা স্ট্রাইকাররাও গোল করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন, সেখানে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যেন পুরো ম্যাচজুড়েই ছিলেন নিজের ছায়া। কিংবদন্তিদের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষের নাম হলো সময়, যে লড়াইয়ে সবাই একদিন হারে। প্রশ্ন হলো, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কি সেই বাস্তবতাকে এখনো মেনে নিতে পারেননি?

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ ড্র শুধু পর্তুগালের জন্য হতাশার নয়, রোনালদোর জন্যও ছিল এক নির্মম সত্য প্রকাশের আয়না। ৪১ বছর বয়সে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে পুরো ৯০ মিনিটে মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেছেন, তিনটি শট নিয়েছেন যার একটিও টার্গেটে ছিল না। অথচ তিনি দলের ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলছেন। পুরো ম্যাচে তিনি নিজে কোনো সুযোগ তৈরি করেননি, প্রেসিংয়ে ছিলেন নিষ্ক্রিয় এবং রক্ষণে অবদান ছিল না বললেই চলে। নিজের অর্ধে পা রেখেছেন মাত্র দুবার! অথচ মাঠে ছিলেন শেষ বাঁশি পর্যন্ত। প্রশ্ন হলো—কেন?

এই পর্তুগাল কি এখনো রোনালদোকে নিয়ে খেলছে, নাকি রোনালদোর জন্য খেলছে? তিনি দলকে টানছেন, নাকি তিনিই এখন দলের বোঝা? কঙ্গো ম্যাচে সিআর সেভেনের পারফরম্যান্সের সবচেয়ে হতাশাজনক দিক ছিল তার চলাফেরা। নির্দিষ্ট একটি জোনের বাইরে তাকে খুব কমই দেখা গেছে। প্রতিপক্ষের বক্সে দাঁড়িয়ে সুযোগের অপেক্ষা করেছেন; কিন্তু নিচে নেমে মিডফিল্ডের সঙ্গে সংযোগ তৈরি, প্রেসিং কিংবা ডিফেন্সকে সহায়তা—আধুনিক স্ট্রাইকারের মৌলিক কাজগুলোর প্রায় কোনোটিই করেননি। বল পেয়েও সহজভাবে দখল হারিয়েছেন, সতীর্থদের তৈরি করা সুযোগ নষ্ট করেছেন। একজন ফরোয়ার্ড প্রতিপক্ষের সীমানায় দাঁড়িয়ে বল ঠিকমতো ট্যাপিংও করতে পারছেন না, এর চেয়ে হতাশার বিষয় আর কী হতে পারে?

ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই যেন রোনালদোকে একটি অকার্যকর অস্ত্র মনে হয়েছে। ত্যক্তবিরক্ত হয়ে তার সতীর্থরাও ম্যাচে একসময় যেন তাকে ছাড়াই লড়াইয়ের চিন্তায় নামলেন। মনে হয়েছে পর্তুগালের আক্রমণ যেন তাকে ঘিরে নয়, তাকে পাশ কাটিয়েই এগোতে চাইছে। কয়েকটি মুহূর্তে এমন ধারণাও হয়েছে যে, সতীর্থরা নিশ্চিত পাসের বদলে অন্য বিকল্প খুঁজছেন। ব্রুনো ফার্নান্দেজের শরীরী ভাষায় সেটা যেন আরও স্পষ্ট হলো। বাস্তবতা যা-ই হোক, একজন অধিনায়কের জন্য এমন ধারণা তৈরি হওয়াটা শুভ লক্ষণ নয়।