ঋতুবৈচিত্র্যের দেশ বাংলাদেশে আষাঢ়ের প্রথম দিনেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে যাওয়ায় দেশজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই অবস্থা আরও দুইদিন থাকতে পারে।
সোমবার দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। বিশেষ করে রাজশাহী, পাবনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও খুলনা জেলায় এই তাপপ্রবাহ অনুভূত হয়েছে এবং তা আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার সারাদেশের মধ্যে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। একই দিন রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিনের তুলনায় সারাদেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। সোমবার দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে ৭৮ মিলিমিটার, যেখানে রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে এক মিলিমিটারেরও কম।
সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু দেশের উপর মোটামুটিভাবে সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা জানিয়েছেন, আবহাওয়া বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বর্ষা শুরু জুন মাসের প্রথম দিন থেকে। এই সময়ে বেশ ভালো বৃষ্টি হয়েছিল। তবে নানা কারণে আবারো তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে, যা আরও দুইদিন থাকতে পারে। মঙ্গলবারও সারা দেশে কমবেশি বৃষ্টি হবে, তবে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হতে পারে। আগামী পাঁচ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রিপোর্টারের নাম 





















