ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

হাওরে বোরো ধানের বিপর্যয়: ভুল কৃষি নীতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

দেশের প্রধান খাদ্যশস্য বোরো ধানের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত হাওর অঞ্চলে আগাম বৃষ্টি ও বন্যায় ভয়াবহ ফসলহানি ঘটেছে। দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আসে বোরো মৌসুম থেকে। তবে এবারের প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় ৪৯ হাজার হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকা। এই বিপর্যয়ে প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপর্যয় কেবল প্রাকৃতিক নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ কৃষি নীতি। এক সময় আমন প্রধান ফসল থাকলেও বর্তমানে সরকারি নীতি ও সুযোগ-সুবিধার কারণে সেচ ও সারনির্ভর বোরো চাষের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্রি-ধান ২৮ ও ব্রি-ধান ২৯ জাতের ধানের ওপর হাওরবাসীর নির্ভরতা ছিল সবচেয়ে বেশি। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে একই জাত চাষ করায় এগুলোর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে এসেছে, যা বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ।

কৃষি গবেষকরা বলছেন, আধুনিক কৃষির নামে উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড বীজের ব্যবহার বাড়লেও তা মূলত কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়াচ্ছে। হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি কৃষকের চেয়ে সার ও কীটনাশক কোম্পানিগুলোর কাছেই বেশি পৌঁছাচ্ছে। হাওরের এই ফসলহানি দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি এড়াতে হাওর অঞ্চলের জন্য উপযোগী ও দুর্যোগ সহনশীল নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন এবং কৃষি নীতি পুনর্মূল্যায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্ত অব্যাহত

হাওরে বোরো ধানের বিপর্যয়: ভুল কৃষি নীতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

আপডেট সময় : ১১:৪৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

দেশের প্রধান খাদ্যশস্য বোরো ধানের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত হাওর অঞ্চলে আগাম বৃষ্টি ও বন্যায় ভয়াবহ ফসলহানি ঘটেছে। দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আসে বোরো মৌসুম থেকে। তবে এবারের প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় ৪৯ হাজার হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকা। এই বিপর্যয়ে প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপর্যয় কেবল প্রাকৃতিক নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ কৃষি নীতি। এক সময় আমন প্রধান ফসল থাকলেও বর্তমানে সরকারি নীতি ও সুযোগ-সুবিধার কারণে সেচ ও সারনির্ভর বোরো চাষের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্রি-ধান ২৮ ও ব্রি-ধান ২৯ জাতের ধানের ওপর হাওরবাসীর নির্ভরতা ছিল সবচেয়ে বেশি। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে একই জাত চাষ করায় এগুলোর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে এসেছে, যা বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ।

কৃষি গবেষকরা বলছেন, আধুনিক কৃষির নামে উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড বীজের ব্যবহার বাড়লেও তা মূলত কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়াচ্ছে। হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি কৃষকের চেয়ে সার ও কীটনাশক কোম্পানিগুলোর কাছেই বেশি পৌঁছাচ্ছে। হাওরের এই ফসলহানি দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি এড়াতে হাওর অঞ্চলের জন্য উপযোগী ও দুর্যোগ সহনশীল নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন এবং কৃষি নীতি পুনর্মূল্যায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।