ঢাকা ০৯:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ: গৌরীপুর হাটে কাঠ বিক্রি বন্ধ

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় সরকারি হাটে ইজারাদারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টোল আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলার গৌরীপুর সাপ্তাহিক কাঠ বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ী কাঠ বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। রোববার বাজারটি অনেকটাই ফাঁকা দেখা যায়, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

জানা গেছে, চলতি বছর তিতাস উপজেলার সোলাকান্দি গ্রামের ব্যবসায়ী আরিফ সরকার বার্ষিক দুই কোটি ৪০ লাখ টাকায় গৌরীপুর হাট-বাজার ইজারা নেন। এর সঙ্গে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১০ শতাংশ আয়কর যুক্ত হয়। এই বাজারে প্রতি রোববার সাপ্তাহিক কাঠবাজার বসে, এছাড়াও প্রতিদিন অন্যান্য পণ্যের বাজার চালু থাকে। সরকারি বিধিমোতাবেক টোল আদায়ের নিয়ম থাকলেও, ইজারাদারের পক্ষ থেকে টোলের কোনো চার্ট বা তালিকা বাজারে প্রদর্শন করা হয়নি। ফলে ইজারাদারের লোকজন নিজেদের ইচ্ছামতো খাজনা আদায় করছেন বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন বছরের শুরু থেকেই আগের তুলনায় অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে অতিরিক্ত টোলের কারণে এ সপ্তাহে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন কাঠ ব্যবসায়ী বাজারে আসেননি। বাতাকান্দি গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, “১৫ বছর ধরে গৌরীপুর বাজারে কাঠ ব্যবসা করি। প্রথমে ১৫০ টাকা খাজনা দিতাম, এখন গত সপ্তাহে ২৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসা করে সংসার চালাই, এত বেশি খাজনা দিলে টিকে থাকা কঠিন।”

২৫ বছর ধরে এই বাজারে ব্যবসা করা গজারিয়া উপজেলার বৈসারচর ও বাসারচর গ্রামের দুলাল মিয়া ও সিপন মিয়া জানান, তাদের বড় দোকানের জন্য গত বছর যেখানে সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা খাজনা দিতে হতো, সেখানে এ বছর ৯০০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। তারা বলেন, “প্রতি সপ্তাহে দোকান বসালেই ভাড়া, লেবার এবং খাজনা মিলিয়ে আমাদের ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। বিক্রি হোক বা না হোক, এই খরচ ঠিকই দিতে হয়। আমরা এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছি, কিছু বলতেও পারি না। এমন চলতে থাকলে গৌরীপুর বাজার তার ঐতিহ্য হারাবে।”

এ বিষয়ে গৌরীপুর হাট-বাজারের ইজারাদার আরিফ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে ফিরে এলো কালজয়ী ‘এই মন তোমাকে দিলাম’, দর্শক মহলে ব্যাপক সাড়া

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ: গৌরীপুর হাটে কাঠ বিক্রি বন্ধ

আপডেট সময় : ০৬:০৭:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় সরকারি হাটে ইজারাদারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টোল আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলার গৌরীপুর সাপ্তাহিক কাঠ বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ী কাঠ বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। রোববার বাজারটি অনেকটাই ফাঁকা দেখা যায়, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

জানা গেছে, চলতি বছর তিতাস উপজেলার সোলাকান্দি গ্রামের ব্যবসায়ী আরিফ সরকার বার্ষিক দুই কোটি ৪০ লাখ টাকায় গৌরীপুর হাট-বাজার ইজারা নেন। এর সঙ্গে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১০ শতাংশ আয়কর যুক্ত হয়। এই বাজারে প্রতি রোববার সাপ্তাহিক কাঠবাজার বসে, এছাড়াও প্রতিদিন অন্যান্য পণ্যের বাজার চালু থাকে। সরকারি বিধিমোতাবেক টোল আদায়ের নিয়ম থাকলেও, ইজারাদারের পক্ষ থেকে টোলের কোনো চার্ট বা তালিকা বাজারে প্রদর্শন করা হয়নি। ফলে ইজারাদারের লোকজন নিজেদের ইচ্ছামতো খাজনা আদায় করছেন বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন বছরের শুরু থেকেই আগের তুলনায় অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে অতিরিক্ত টোলের কারণে এ সপ্তাহে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন কাঠ ব্যবসায়ী বাজারে আসেননি। বাতাকান্দি গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, “১৫ বছর ধরে গৌরীপুর বাজারে কাঠ ব্যবসা করি। প্রথমে ১৫০ টাকা খাজনা দিতাম, এখন গত সপ্তাহে ২৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসা করে সংসার চালাই, এত বেশি খাজনা দিলে টিকে থাকা কঠিন।”

২৫ বছর ধরে এই বাজারে ব্যবসা করা গজারিয়া উপজেলার বৈসারচর ও বাসারচর গ্রামের দুলাল মিয়া ও সিপন মিয়া জানান, তাদের বড় দোকানের জন্য গত বছর যেখানে সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা খাজনা দিতে হতো, সেখানে এ বছর ৯০০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। তারা বলেন, “প্রতি সপ্তাহে দোকান বসালেই ভাড়া, লেবার এবং খাজনা মিলিয়ে আমাদের ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। বিক্রি হোক বা না হোক, এই খরচ ঠিকই দিতে হয়। আমরা এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছি, কিছু বলতেও পারি না। এমন চলতে থাকলে গৌরীপুর বাজার তার ঐতিহ্য হারাবে।”

এ বিষয়ে গৌরীপুর হাট-বাজারের ইজারাদার আরিফ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।