ঢাকা ০১:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

গোপালগঞ্জে ল্যাম্পপোস্টে আটকে পড়া শালিক উদ্ধার, ভ্যানচালকের মানবিকতায় মুগ্ধ জনতা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় এক বিরল মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক ভ্যানচালক। ল্যাম্পপোস্টে আটকে পড়া একটি অসহায় শালিক পাখিকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করে তিনি স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে উপজেলার পশ্চিমপাড় এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সড়কের পাশে একটি ল্যাম্পপোস্টের মাথায় শালিক পাখিটির পা আটকে যায়। প্রাণ বাঁচানোর জন্য পাখিটির আর্তচিৎকার শুনে আশেপাশের অনেক পাখিও জড়ো হয়ে কিচিরমিচির শব্দে উদ্বেগ প্রকাশ করতে থাকে। পথচারীরাও থমকে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখছিলেন, কিন্তু কেউ ল্যাম্পপোস্টে উঠে পাখিটিকে উদ্ধারের সাহস পাচ্ছিলেন না। দীর্ঘক্ষণ ধরে পাখিটি আটকে থাকায় উৎসুক জনতার ভিড় বাড়তে থাকে, তবুও কেউ এগিয়ে আসছিল না।

এমন সময় এগিয়ে আসেন সুমন শেখ নামের এক যুবক। কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই দ্রুত ল্যাম্পপোস্ট বেয়ে ওপরে উঠে যান তিনি। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আটকে পড়া পাখিটিকে মুক্ত করে নিরাপদে নিচে নামিয়ে এনে মুক্ত আকাশে ছেড়ে দেন। সুমনের এই সাহসী ও মানবিক কাজে উপস্থিত জনতা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে এবং করতালি দিয়ে তার প্রশংসা করে।

সুমনের বাড়ি উপজেলার গোয়ালঙ্ক গ্রামে, তিনি মুজিবুর শেখের ছেলে এবং পেশায় একজন ভ্যানচালক। স্থানীয় স্কুলশিক্ষক দিপক গাইন জানান, পাখিটি উদ্ধারের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাদের আসতে দেরি হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে সুমনের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, অনেকেই শুধু দাঁড়িয়ে দেখছিল, কেউ ঝুঁকি নিতে চায়নি। সুমন যেভাবে এগিয়ে এসেছে, তা মানবিকতার এক বড় উদাহরণ।

উদ্ধারকারী সুমন শেখ জানান, ‘পাখিটা অনেকক্ষণ ধরে কষ্ট পাচ্ছিল। দেখে আর স্থির থাকতে পারিনি। আল্লাহর ওপর ভরসা করে উঠে পড়ি। পাখিটাকে বাঁচাতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’ প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল করিম মন্তব্য করেন, একটি ছোট প্রাণ বাঁচাতে নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলা সহজ নয়। সুমনের এই কাজ আমাদের সবাইকে মানবিক হতে শেখায়। স্থানীয়রা মনে করেন, সুমনের এই মানবিক উদ্যোগ শুধু একটি প্রাণই রক্ষা করেনি, বরং সমাজে সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে পোপ লিও’র শান্তির বার্তা

গোপালগঞ্জে ল্যাম্পপোস্টে আটকে পড়া শালিক উদ্ধার, ভ্যানচালকের মানবিকতায় মুগ্ধ জনতা

আপডেট সময় : ১১:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় এক বিরল মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক ভ্যানচালক। ল্যাম্পপোস্টে আটকে পড়া একটি অসহায় শালিক পাখিকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করে তিনি স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে উপজেলার পশ্চিমপাড় এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সড়কের পাশে একটি ল্যাম্পপোস্টের মাথায় শালিক পাখিটির পা আটকে যায়। প্রাণ বাঁচানোর জন্য পাখিটির আর্তচিৎকার শুনে আশেপাশের অনেক পাখিও জড়ো হয়ে কিচিরমিচির শব্দে উদ্বেগ প্রকাশ করতে থাকে। পথচারীরাও থমকে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখছিলেন, কিন্তু কেউ ল্যাম্পপোস্টে উঠে পাখিটিকে উদ্ধারের সাহস পাচ্ছিলেন না। দীর্ঘক্ষণ ধরে পাখিটি আটকে থাকায় উৎসুক জনতার ভিড় বাড়তে থাকে, তবুও কেউ এগিয়ে আসছিল না।

এমন সময় এগিয়ে আসেন সুমন শেখ নামের এক যুবক। কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই দ্রুত ল্যাম্পপোস্ট বেয়ে ওপরে উঠে যান তিনি। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আটকে পড়া পাখিটিকে মুক্ত করে নিরাপদে নিচে নামিয়ে এনে মুক্ত আকাশে ছেড়ে দেন। সুমনের এই সাহসী ও মানবিক কাজে উপস্থিত জনতা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে এবং করতালি দিয়ে তার প্রশংসা করে।

সুমনের বাড়ি উপজেলার গোয়ালঙ্ক গ্রামে, তিনি মুজিবুর শেখের ছেলে এবং পেশায় একজন ভ্যানচালক। স্থানীয় স্কুলশিক্ষক দিপক গাইন জানান, পাখিটি উদ্ধারের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাদের আসতে দেরি হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে সুমনের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, অনেকেই শুধু দাঁড়িয়ে দেখছিল, কেউ ঝুঁকি নিতে চায়নি। সুমন যেভাবে এগিয়ে এসেছে, তা মানবিকতার এক বড় উদাহরণ।

উদ্ধারকারী সুমন শেখ জানান, ‘পাখিটা অনেকক্ষণ ধরে কষ্ট পাচ্ছিল। দেখে আর স্থির থাকতে পারিনি। আল্লাহর ওপর ভরসা করে উঠে পড়ি। পাখিটাকে বাঁচাতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’ প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল করিম মন্তব্য করেন, একটি ছোট প্রাণ বাঁচাতে নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলা সহজ নয়। সুমনের এই কাজ আমাদের সবাইকে মানবিক হতে শেখায়। স্থানীয়রা মনে করেন, সুমনের এই মানবিক উদ্যোগ শুধু একটি প্রাণই রক্ষা করেনি, বরং সমাজে সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।