ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

বড়াইবাড়ি ট্র্যাজেডির ২৫ বছর: রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অপেক্ষায় কুড়িগ্রামের বীর গ্রাম

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক সংঘটিত নারকীয় তাণ্ডবের ২৫তম বার্ষিকী আগামীকাল। ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল ভোরবেলা বিএসএফ সদস্যরা বড়াইবাড়ি গ্রামে প্রবেশ করে এবং প্রায় ৪২ ঘণ্টা ধরে তীব্র গোলাগুলি ও মর্টার সেল নিক্ষেপের মাধ্যমে তাণ্ডব চালায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বাংলাদেশের তিনজন বিডিআর সদস্য নিহত এবং ছয়জন সাধারণ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। অন্যদিকে, ভারতীয় পক্ষে ১৬ জন বিএসএফ সদস্য নিহত এবং দুজন জীবিত বিএসএফ সদস্যকে আটক করেছিল স্থানীয়রা।

ঐ ঘটনার পর থেকে বড়াইবাড়ি গ্রামবাসী এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতি বছর এই দিনটি ‘বড়াইবাড়ি দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, ২৫ বছর অতিবাহিত হলেও এই বীর গ্রাম বা বড়াইবাড়ি দিবস জাতীয়ভাবে কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়নি। ওই সময় ইরি মৌসুম চলছিল এবং গ্রামের অনেক বাসিন্দা তাদের কৃষিজমিতে সেচ কাজে নিয়োজিত ছিলেন। হঠাৎ করেই তারা দেখতে পান যে ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধানক্ষেতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম লাল মিয়া এগিয়ে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তার কাছে বিডিআর ক্যাম্পের অবস্থান জানতে চায়।

ঘটনার আকস্মিকতায় সাইফুল ইসলাম লাল মিয়া দ্রুত বড়াইবাড়ি বিডিআর ক্যাম্পে খবর দেন। সেই সময় ক্যাম্পে মাত্র আটজন বিডিআর সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কুড়িগ্রাম-৪ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য রুহুল আমিন এই খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং স্থানীয়দের সংগঠিত করে বিডিআর সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে সহায়তা করেন। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম লাল মিয়া সহ প্রশিক্ষিত ১২ জন সদস্যকে নিয়ে তিনি প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সাইফুল ইসলাম লাল মিয়া জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে তিনিও অস্ত্র হাতে প্রতিরোধে অংশ নিয়েছিলেন। বড়াইবাড়ি বিডিআর ক্যাম্পের আটজন সদস্য অত্যন্ত সাহস ও মনোবল নিয়ে প্রথম চার ঘণ্টা লড়াই চালিয়ে যান। এরপর আশপাশের আরও দুটি বিডিআর ক্যাম্প থেকে প্রায় ২০ জন সদস্য তাদের সাথে যোগ দেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফতুল্লায় নির্মাণাধীন ভবনের পানির ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের প্রাণহানি

বড়াইবাড়ি ট্র্যাজেডির ২৫ বছর: রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অপেক্ষায় কুড়িগ্রামের বীর গ্রাম

আপডেট সময় : ০৪:০৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক সংঘটিত নারকীয় তাণ্ডবের ২৫তম বার্ষিকী আগামীকাল। ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল ভোরবেলা বিএসএফ সদস্যরা বড়াইবাড়ি গ্রামে প্রবেশ করে এবং প্রায় ৪২ ঘণ্টা ধরে তীব্র গোলাগুলি ও মর্টার সেল নিক্ষেপের মাধ্যমে তাণ্ডব চালায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বাংলাদেশের তিনজন বিডিআর সদস্য নিহত এবং ছয়জন সাধারণ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। অন্যদিকে, ভারতীয় পক্ষে ১৬ জন বিএসএফ সদস্য নিহত এবং দুজন জীবিত বিএসএফ সদস্যকে আটক করেছিল স্থানীয়রা।

ঐ ঘটনার পর থেকে বড়াইবাড়ি গ্রামবাসী এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতি বছর এই দিনটি ‘বড়াইবাড়ি দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, ২৫ বছর অতিবাহিত হলেও এই বীর গ্রাম বা বড়াইবাড়ি দিবস জাতীয়ভাবে কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়নি। ওই সময় ইরি মৌসুম চলছিল এবং গ্রামের অনেক বাসিন্দা তাদের কৃষিজমিতে সেচ কাজে নিয়োজিত ছিলেন। হঠাৎ করেই তারা দেখতে পান যে ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধানক্ষেতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম লাল মিয়া এগিয়ে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তার কাছে বিডিআর ক্যাম্পের অবস্থান জানতে চায়।

ঘটনার আকস্মিকতায় সাইফুল ইসলাম লাল মিয়া দ্রুত বড়াইবাড়ি বিডিআর ক্যাম্পে খবর দেন। সেই সময় ক্যাম্পে মাত্র আটজন বিডিআর সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কুড়িগ্রাম-৪ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য রুহুল আমিন এই খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং স্থানীয়দের সংগঠিত করে বিডিআর সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে সহায়তা করেন। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম লাল মিয়া সহ প্রশিক্ষিত ১২ জন সদস্যকে নিয়ে তিনি প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সাইফুল ইসলাম লাল মিয়া জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে তিনিও অস্ত্র হাতে প্রতিরোধে অংশ নিয়েছিলেন। বড়াইবাড়ি বিডিআর ক্যাম্পের আটজন সদস্য অত্যন্ত সাহস ও মনোবল নিয়ে প্রথম চার ঘণ্টা লড়াই চালিয়ে যান। এরপর আশপাশের আরও দুটি বিডিআর ক্যাম্প থেকে প্রায় ২০ জন সদস্য তাদের সাথে যোগ দেয়।