মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৩:৩৭ অপরাহ্ন | ১লা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার, ১৬ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহে শঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা বেশি

  • হালনাগাদ সময় : ০৯:৪৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় অর্ধেকই আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এবং বর্তমানে এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে এই প্রবণতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে কিনা, তা অনেকাংশে নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের স্থায়িত্ব ও ভৌগোলিক বিস্তারের ওপর। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত স্বল্পমেয়াদি হলে এর প্রভাব সীমিত থাকতে পারে, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক সংকট সৃষ্টি হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়াবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, স্বল্পমেয়াদে দেশের প্রবাসী আয় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই আয়ের ধারাবাহিকতা অনেকটাই নির্ভর করবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার ওপর। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক থাকার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ উচ্চ পর্যায়ে থাকলেও, অভিবাসনে বিঘ্ন এবং স্বাগতিক দেশগুলোর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে প্রবৃদ্ধি কিছুটা শ্লথ হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য প্রভাবের মাত্রা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের স্থায়িত্ব ও বিস্তারের ওপর। সংঘাত স্বল্পমেয়াদি হলে এর প্রভাব সীমিত থাকবে; তবে দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক সংকট দেখা দিলে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে এবং বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতে চাপ আরও বাড়তে পারে।

চলতি অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে দেশে মোট ৮৬৭ কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের তিন মাসের তুলনায় ১৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বছরওয়ারি হিসাবে প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ শতাংশ। এই সময়ে সৌদি আরব থেকে এসেছে ১৩০ কোটি ৬১ লাখ ডলার, যা সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যেখান থেকে এসেছে ১১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে ১১৪ কোটি ৫৩ লাখ ডলার, মালয়েশিয়া থেকে ৯৩ কোটি ৩৯ লাখ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬৫ কোটি ৮৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বিদেশগামী শ্রমিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই সময়ে মোট ২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৪ জন শ্রমিক বিদেশে গেছেন, যাদের মধ্যে ১৮ হাজার ২২৫ জন নারী। এদের মধ্যে ৬৩.৭৬ শতাংশই গেছেন সৌদি আরবে। এছাড়া কাতার, সিঙ্গাপুর ও কুয়েতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক গেছেন। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৪৬৫ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের অভিযোগে নাম-ঠিকানা ও ফোন নম্বর ভাইরাল: ফেসবুকের বিষাক্ত প্রচারণায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগীরা

01 November 2026

বিশ্বসুন্দরী থেকে রূপালি পর্দার রানী: জীবনের ৫৩ বছরে ঐশ্বরিয়া রাই

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহে শঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা বেশি

হালনাগাদ সময় : ০৯:৪৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় অর্ধেকই আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এবং বর্তমানে এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে এই প্রবণতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে কিনা, তা অনেকাংশে নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের স্থায়িত্ব ও ভৌগোলিক বিস্তারের ওপর। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত স্বল্পমেয়াদি হলে এর প্রভাব সীমিত থাকতে পারে, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক সংকট সৃষ্টি হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়াবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, স্বল্পমেয়াদে দেশের প্রবাসী আয় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই আয়ের ধারাবাহিকতা অনেকটাই নির্ভর করবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার ওপর। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক থাকার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ উচ্চ পর্যায়ে থাকলেও, অভিবাসনে বিঘ্ন এবং স্বাগতিক দেশগুলোর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে প্রবৃদ্ধি কিছুটা শ্লথ হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য প্রভাবের মাত্রা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের স্থায়িত্ব ও বিস্তারের ওপর। সংঘাত স্বল্পমেয়াদি হলে এর প্রভাব সীমিত থাকবে; তবে দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক সংকট দেখা দিলে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে এবং বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতে চাপ আরও বাড়তে পারে।

চলতি অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে দেশে মোট ৮৬৭ কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের তিন মাসের তুলনায় ১৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বছরওয়ারি হিসাবে প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ শতাংশ। এই সময়ে সৌদি আরব থেকে এসেছে ১৩০ কোটি ৬১ লাখ ডলার, যা সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যেখান থেকে এসেছে ১১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে ১১৪ কোটি ৫৩ লাখ ডলার, মালয়েশিয়া থেকে ৯৩ কোটি ৩৯ লাখ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬৫ কোটি ৮৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বিদেশগামী শ্রমিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই সময়ে মোট ২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৪ জন শ্রমিক বিদেশে গেছেন, যাদের মধ্যে ১৮ হাজার ২২৫ জন নারী। এদের মধ্যে ৬৩.৭৬ শতাংশই গেছেন সৌদি আরবে। এছাড়া কাতার, সিঙ্গাপুর ও কুয়েতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক গেছেন। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৪৬৫ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি।

Share this news as a Photo Card